Mountain View

আফগানিস্তানে পৃথক বোমা হামলায় নিহত ২২

প্রকাশিতঃ জুন ২১, ২০১৬ at ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আফগানিস্তানে গতকাল সোমবার দু’টি পৃথক বোমা হামলায় কমপক্ষে ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। কাবুলের এক মিনিবাসে চালানো আত্মঘাতী হামলায় ১৪ জন নিহত হয়। বাসটি নেপালি নিরাপত্তারীদের বহন করছিল। আফগান কর্মকর্তারা এ খবর জানিয়েছেন।

এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর উত্তরাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে একটি মোটরসাইকেলে রাখা বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে আটজন বেসামরিক লোক নিহত হয় এবং আহত হয় আরো কমপক্ষে ১৮ জন। প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র নাভিদ ফ্রতান এ খবর জানান। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আফগানিস্তান থেকে সৈন্য সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা বিলম্বিত করা হবে কি না তা নিয়ে যখন ওয়াশিংটন চিন্তা ভাবনা করছে, তখন দেশটিতে এই সহিংসতা বৃদ্ধি দেশটির সরকার ও পশ্চিমাদের নতুন করে চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। কাবুল থেকে পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে যাওয়ার পথে প্রথম হামলা চালানো হয় একটি বাসে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই নির্দিষ্ট বাসটির জন্য অপো করছিল হামলাকারী। আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সাদিক সিদ্দিকী বলেছেন, ‘একটি বিদেশী কোম্পানির নিরাপত্তারীদের মিনিবাসকে ল্য করে হামলাটি পরিচালিত হয়েছে। আমরা এখন নিহতদের পরিচয় ও জাতীয়তা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি।’

মনে হচ্ছে হতাহতদের মধ্যে নেপালি নিরাপত্তারক্ষী ও আফগান বেসামরিক লোকজন রয়েছে। কাবুল পুলিশ প্রধান আবদুর রহমান এ কথা বলেছেন। রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে বানাই এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী স্থানটি ঘিরে রেখেছে। আবদুর রহমান বলেন, আত্মঘাতী হামলাকারী নিরাপত্তা ঠিকাদারদের আবাসন এলাকার পাশে অপেক্ষা করছিল এবং সকালের দিকে নেপালি নিরাপত্তারক্ষীদের বহনকারী বাসটি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তাতে সে হামলা চালায়। বাসের যাত্রীরা ছাড়াও পাশের একটি বাজারের লোকজনও এতে আহত হয়।

তালেবানের প থেকে এ ঘটনার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে এটাই তাদের প্রথম দায় স্বীকারের ঘটনা। তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক টুইটার বার্তায় কাবুলে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তবে বাদাখশান হামলার দায় অস্বীকার করেছে তারা। তালেবানের ঘোর বিরোধী আইএস দাবি করেছে তারা কাবুলে হামলা চালিয়েছে। তবে জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ দাবি বাজে বলে নাকচ করে দিয়েছেন। তালেবান মুখপাত্র বলেন, এই হামলা পরিচালনার মাধ্যমে আমেরিকান ও ন্যাটো সামরিক কর্মকর্তাদের দেখাতে চাই আমরা চাইলে যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় আক্রমণ চালাতে সক্ষম। নেপাল সরকার তাদের পাকিস্তানের দূতাবাসের মাধ্যমে আফগানিস্তানে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভরত পাড়েল জানিয়েছেন, তারা তাদের নাগরিকদের হতাহতের খবর যাচাই করে দেখছেন। এদিকে নেপালি নিরাপত্তারক্ষীরা হতাহত হওয়ায় সমবেদনা জানিয়ে কাঠমান্ডুতে বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের টুইন টাওয়ার হামলার পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের কথিত সন্ত্রাসবিরোধী অনন্ত যুদ্ধের সূচনা হয় আফগানিস্তানেই। এ ঘটনায় সরকারের সঙ্গে তালেবানের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে যৌথ অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেয় সামরিক জোট ন্যাটো। তবে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে সহায়তার কথা বলে ১৩ হাজার নিরাপত্তারীকে আফগানিস্তানেই রেখে আসে তারা। আফগান-তালেবান শান্তি প্রক্রিয়ার ওই ১৩ হাজার সৈন্যের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তালেবান সাফ জানিয়ে দেয়, সর্বশেষ বিদেশী সেনা দেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View