Mountain View

সব দোষ সংবাদমাধ্যমের

প্রকাশিতঃ জুন ২৩, ২০১৬ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

শুরুটা ঠিকঠাকভাবেই করলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বর ম্যাচে আম্পায়ারদের সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে তামিম ইকবালকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও বিসিবির অধীনে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত এবং নাসির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার ঘোষণায় মনে হলো, প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আর কোনো বিতর্ক বোধ হয় সৃষ্টি হচ্ছে না। কিন্তু তখনো আসলে অনেক কিছুই বাকি ছিল।

মিরপুরে কাল আবাহনী-প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনটা ছিল মূলত স্থগিত হয়ে থাকা আবাহনী-দোলেশ্বর ম্যাচের ভবিষ্যৎ, খেলোয়াড়দের শাস্তি এবং নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা নিয়েই। কিন্তু বিসিবি সভাপতি এসবের মধ্যেই সবকিছু এমনভাবে জড়িয়ে ফেললেন যে তাঁর কথার তির থেকে সাংবাদিক, নির্বাচক, অধিনায়ক, সহ-অধিনায়কসহ জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা, এমনকি বড় টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোও বাদ যায়নি।
এবারের প্রিমিয়ার লিগের আম্পায়ারিং হয়েছে চরম বিতর্কিত। আবাহনীর প্রতি আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। নাজমুল হাসান সেসব সমালোচনার পাল্টা সমালোচনা করতে গিয়ে জানালেন অ্যাশেজের আম্পায়ারিংও নাকি বিতর্কিত, ‘ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ওখানে এ রকম কিছু হয়নি! ওসব আমাদের এখানে আসে না কেন? সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজ যা হয়ে গেল, এ রকম বাজে আম্পয়ারিং জীবনে কোনো দিন হয়নি। আইসিসির বোর্ড সভায় আলোচনা হয়েছে। কই এটা তো কোথাও আসেনি! আমাদের এখানে একটা ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে যা হুলুস্থুল হয়…কী যে বলব!’

সাংবাদিক এবং টেলিভিশনের টক শো নিয়েও ক্ষুব্ধ নাজমুল হাসান এবং সেটা স্পষ্টতই আবাহনীর পক্ষ নিয়ে। একসময় আবাহনীর ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান থাকলেও বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর কাগজে-কলমে তিনি আর ক্লাবের প্রতিনিধি নন। বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই অভিভাবক। কিন্তু নাজমুল হাসানের কথায় তা বোঝার উপায় নেই।
তদন্ত কমিটি আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বর ম্যাচে দুই দলকেই এক পয়েন্ট করে দেওয়ার সুপারিশ করলেও বোর্ড সভাপতির ইচ্ছে ছিল ম্যাচটা নতুন করে হোক। লিগ জমজমাট হচ্ছে, শেষটাও যেন ভালো হয় সে জন্যই নাকি তাঁর এই চাওয়া। কিন্তু একটু পরই বললেন, ‘না হলে তো বলবে (আবাহনী) না খেলেই চ্যাম্পিয়ন! কেমন কেমন করে যেন আমাদেরই জড়াবে। বলা তো যায় না! পত্রপত্রিকায় আর টিভিতে এসব খবর শুনে ছয়টা খেলা দেখতে গেছি। বিশ্বাস করুন, একটা সিদ্ধান্ত দেখিনি যেটা আবাহনীর পক্ষে গেছে।’

সংবাদমাধ্যম দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি করছে বলে মনে করেন কি না জানতে চাইলে তাঁর উত্তর, ‘এ রকম কখনোই মনে হয়নি। কিন্তু আজকাল যেসব টক শো দেখি…জেনেশুনে একজন সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছে। কোনো প্রতিবাদ নেই, তখন আমার সন্দেহ জাগে। অবশ্যই আমার সন্দেহ জাগে।’ বিসিবি সভাপতির অভিযোগ, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বেছে বেছে তিন–চারজনকেই টক শোতে নেয়। যাঁরা ক্রিকেট নিয়ে ভালো ভালো কথা বলেন তাঁদের ডাকে না, ‘কত বিশেষজ্ঞের নাম বলব, কোনো দিন তো ডাকেন না! যারা একটু ভালো বলবে, আপনারা সাংবাদিকেরা জানেন না কারা ভালো বলতে পারে। ওদের তো কোনো দিন ডাকেন না।’

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ব্রাদার্স-লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ম্যাচ নিয়ে বিতর্কেও বেশ অসন্তুষ্ট তিনি। কাভার উড়ে উইকেট ভিজে যাওয়াতেই নাকি ম্যাচটা হতে পারেনি। সাংবাদিকেরা তাঁকে জানান, ওই দিন বিকেএসপির পাশের মাঠেই মেয়েদের খেলা হয়েছে। তা ছাড়া কিউরেটররাও বলেননি উইকেটের কাভার উড়ে যাওয়ায় উইকেট ভিজেছে। তাঁরা বলেছিলেন, অন্য মাঠে ব্যস্ত থাকায় এ মাঠে সময়মতো কাভার দেওয়া যায়নি। কিন্তু সেটা হলে মাঠের সব উইকেটই সমান ভেজা থাকার কথা। অথচ ব্রাদার্স-রূপগঞ্জ ম্যাচে খেলার উইকেটটি ছাড়া অন্য উইকেটগুলো ছিল খটখটে শুকনো। এসব শোনার পরও সভাপতি তাঁর কথায় অটল, ‘আমার কথা আমি বলে দিয়েছি। আপনারা শুনবেন কি না, সেটা আপনাদের ব্যাপার।’

শুধু তা-ই নয়, এসব নেতিবাচক খবর দেশের বাইরে যাওয়ায় দেশের ক্রিকেটের কোনো ক্ষতি হলে সেটার দায়দায়িত্বও সাংবাদিকদের নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি, ‘এর দায়দায়িত্ব আপনারাও এড়াতে পারবেন না। সব দোষ খালি আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে আমাদের চাপে ফেলবেন, এগুলো হয় না। বিদেশে কেন পাঠাবেন?’বিদেশে কারা পাঠিয়েছে, সেই প্রশ্ন করে অবশ্য কিছু জানা যায়নি তাঁর কাছ থেকে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View