Mountain View

রমজানের শেষ দশকের ইবাদত ইতেকাফ

প্রকাশিতঃ জুন ২৫, ২০১৬ at ৬:৫৪ অপরাহ্ণ

মাহে রমজানুল মোবারকের আজ ১৯ তারিখ। ২০ রমজানের পর থেকে এ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত একটি বিশেষ ইবাদত রয়েছে। দিনের ২৪ ঘণ্টাই মসজিদে অবস্থান ও ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর এই ইবাদতটির নাম ইতেকাফ। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করতেন। তার ইন্তেকালের পরে উম্মাহাতুল মু’মিনিন এ আমল অব্যাহত রাখেন। তিরমিজি শরিফে হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ কথা বর্ণনা করেছেন।

ইতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ইতেকাফকারী সব ধরনের গোনাহের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং তার নামে লেখা হয় সব নেককাজ সম্পাদনকারীর মতো সওয়াব। অর্থাৎ ইতেকাফ না করলে তার পে যেসব নেককাজের সুযোগ ছিল, এখন সেগুলো করতে না পারলেও তাকে সওয়াব দেয়া হবে। তিন ধরনের ইতেকাফ রয়েছেÑ ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল। মান্নতের কারণে ইতেকাফ ওয়াজিব হয়। সেটার পরিমাণ কমপে ২৪ ঘণ্টা হতে হয় এবং ইতেকাফের মান্নতের সাথে রোজা রাখাও ওয়াজিব হয়ে যায়। তাই যে ক’দিন ইতেকাফের মান্নত করবে, সে ক’দিন রোজার সাথেই ইতেকাফ করতে হবে। সুন্নাত ইতেকাফ হয় রমজানের শেষ দশকে। রমজানের ২০ তারিখের সূর্যাস্তের আগ থেকে তা শুরু করতে হয়। আর তা শেষ হয় রমজান শেষ হলে। অর্থাৎ ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা গেলে বা ৩০ তারিখ পূর্ণ হলে।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু প্রতি বছর রমজানের শেষ দশক অবশ্যই ইতেকাফে অতিবাহিত করতেন এবং এক বছর তা ভঙ্গ করার কারণে পরের বছর ২০ দিন ইতেকাফ করেছিলেন। এ জন্য প্রতিটি মসজিদে ইতেকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ‘আলাল কিফায়াহ’। অর্থাৎ কমপ একজন মুসল্লির ইতেকাফই মহল্লার সবাই দায়মুক্ত হবে। পান্তরে কেউ ইতেকাফ না করলে ওই মসজিদের আওতাধীন সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। নফল ইতেকাফের সময়সীমা নির্ধারিত নেই। আধা দিন এমনকি কয়েক ঘণ্টার জন্যও নফল ইতেকাফ হতে পারে। সে কারণে ওয়াজিব ও সুন্নাত ইতেকাফের ব্যাপারে রোজা শর্ত হলেও নফল ইতেকাফের ব্যাপারে রোজা শর্ত নয়। ইসলামে বৈরাগ্য নেই, মহানবী সা: তা স্পষ্ট জানিয়ে গেছেন। আসলে কোনো নবীর শরিয়তেই বৈরাগ্যের বিধান ছিল না। তবে হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের অবর্তমানে তার কিছু নিষ্ঠাবান অনুসারী সমকালীন সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশে নিজেদের ঈমান ও ইবাদত হেফাজত করতে পারবেন না আশঙ্কা করে বৈরাগ্যের পথ বেছে নিয়েছিলেন; কিন্তু যেহেতু তা ছিল মানবজীবনের জন্য অস্বাভাবিক, তাই তাদের পক্ষে এ রীতি রক্ষা করা সহজ ছিল না। এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজিদের সূরা হাদিদে ইরশাদ হয়েছেÑ আর তারা আবিষ্কার করেছিল বৈরাগ্য। আমি তাদের জন্য তা আবশ্যক করিনি; কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারেনি।

আখেরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, পারিবারিক ও সামষ্টিক জীবনের কাঠামো বজায় রেখেই মানুষকে আখেরাতের কাজ করতে হবে; কিন্তু এই স্থায়ী বৈরাগ্য অনুমোদিত না হলেও সাময়িকভাবে নিজের পরিবার ও বৈষয়িক কাজকর্ম থেকে বিমুখ থেকে পুরো সময় সালাত, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত প্রভৃতিতে কাটানোর ব্যবস্থা এই শরিয়তে আছে। ইতেকাফ সেই সাময়িক বৈরাগ্য। রমজানের শেষ দশ দিন পার্থিব সব কাজকর্ম থেকে মুক্ত থেকে মসজিদে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করা এই উম্মতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। এটা দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমাতে ও আখেরাতের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে অত্যন্ত সহায়ক। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সা: এ ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহ দিয়েছেন। শুধু মসজিদে অবস্থান এবং ফরজ নামাজগুলো যা প্রতিদিনের স্বাভাবিক আমল তা করলেও ইতেকাফের হুকুম পালন হয়ে যায়; কিন্তু উত্তম এই যে, ন্যূনতম সময় বিশ্রাম ও নিদ্রায় কাটিয়ে বাকি পুরো সময় নফল নামাজ, কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত ও জিকির-তাসবিহ পাঠে কাটানোর চেষ্টা করতে হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View