ঢাকা : ২৮ জুন, ২০১৭, বুধবার, ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

আবারো টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে চিলির শিরোপা

chille

আবারো টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে চিলির টানা ২য় শিরোপা জয় করল।কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চিলি।  নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোলের দেখা পায়নি দুই দল।

অতিরিক্ত সময়েও কোনো গোল না হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে চিলির ভিদালের প্রথম শর্ট ঠেকিয়ে দেয় আর্জেন্টিনার রোমারো।ঠিক পরেই আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি বল বারের উপর মেরে পেনাল্টির খাতায় নাম লেখাতে ব্যর্থ হন।

দুইদলের এক এক করে মিস করার পরেই চিলির কাস্টলিও রোমারোকে ফাকি দিয়ে বল জালে জড়ান।সেই সাথে আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মাশচেরানোও ব্রাভোকে ফাকি দিয়ে গোল আদায় করে নিতে সক্ষম হন।চিলির চার্লস আরানগুয়েজ ৩য় শর্টে ২য় গোল উপহার দেন।সার্জিও আগুয়েরো গোল করে ২য় পেনাল্টির দেখা পায় আর্জেন্টিনা। জেন বেউসেজোর ৩য় গোল করে চিলিকে আরো একধাপ এগিয়ে নেন।লুকাস বিগলিয়া পেনাল্টি মিস করলে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে যায়।চিলির শেষ পেনাল্টি শুট নিতে এসে গোল করেই চিলিকে শিরোপা তুলে দেয় ফ্রান্সিসকো সিলভা।ফলে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় চিলিয়ানরা।

ফলে, ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর তাতে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় চিলিয়ানরা।কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-চিলি নিরধারিত সময়ে মাঠে নামে,কিন্তু প্রথমার্ধের খেলা শেষে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। দুই দলের একজন করে ফুটবলার লাল কার্ড দেখায় দশ জন নিয়ে খেলতে হচ্ছে গতবারের দুই ফাইনালিস্টকে।

আজ (সোমবার) ২৭ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও চিলি। বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় শিরোপা লড়াইয়ে মাঠে নামে দু’দলের ফুটবলাররা।নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোলের দেখা পায়নি দুই দল। ফলে, ম্যাচ গড়িয়েছিলো টাইব্রেকারে।

ম্যাচের ১৬ ও ২৮ মিনিটে দু’বার হলুদ কার্ড দেখায় মাঠের বাইরে যেতে হয় চিলির মার্সেলো ডিয়াজকে। আর ম্যাচের ৪৩ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার মার্কোস রোহোকে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়।

দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে চাওয়া আর্জেন্টিনা ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনাল, কোপা আমেরিকার গতবারের ফাইনালের মতো এবারের ফাইনালের প্রথমার্ধে কোনো গোল আদায় করতে পারেনি। ম্যাচের ২৩ মিনিটের মাথায় ‍হিগুয়েনের দারুণ একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোকে ফাঁকি দিয়ে তার নেওয়া শটটি গোলবারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ম্যাচের ৪০ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন দলপতি মেসি। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চিলি। ৫৭ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখেন অ্যালেক্সিজ সানচেজ, ভারগাস, ভিদালরা।

১৯৯৩ সালে সবশেষ কোপা শিরোপা জেতা আর্জেন্টিনাকে প্রথমার্ধে হতাশ করে ১৯৫৫, ১৯৫৬, ১৯৭৯ ও ১৯৮৭ সালে ফাইনালে ওঠা চিলি। প্রথম ৪৫ মিনিট খালি হাতেই ফিরতে হয় ১৪ বারের কোপা চ্যাম্পিয়নদের।

প্রথমার্ধে ৪-৩-৩ ফরমেশনে আর্জেন্টাইন কোচ জেরার্ডো মার্টিনো প্রথম একাদশে মাঠে নামান সার্জিও রোমেরো, মারকাডো, অটামেন্ডি, মোরি, লুকাস বিগলিয়া, মাশচেরানো, মার্কোস রোহো, এভার বেনেগা, লিওনেল মেসি, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া এবং হিগুয়েনকে। অপরদিকে, একই ফরমেশনে চিলির হয়ে প্রথমার্ধে মাঠে নামেন ক্লদিও ব্রাভো, ইসলা, মেডেল, জারা, বিউসেজোর, ভিদাল, ডিয়াজ, আরানগুয়েজ, ফুয়েনজালিডা, সানচেজ এবং ভারগাস।

বিরতির পর ম্যাচের ৫০ ও ৬৭ মিনিটে দুটি জোরালো আক্রমণ করে চিলি। তবে, দু’বারই আর্জেন্টাইন ডিফেন্সে বাধা পেয়ে ফিরতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ডি মারিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মাতিয়াস ক্রানেভিতের। আর ৭০ মিনিটে হিগুয়েনের জায়গায় খেলতে নামেন সার্জিও আগুয়েরো।

৭৯ মিনিটের মাথায় প্রায় নিজেদের অর্ধ থেকে বল পান চিলির তারকা ভারগাস। আর্জেন্টাইন ডি-বক্স ফাঁকা পেয়ে বামপায়ের জোরালো শটও নেন তিনি। তবে, প্রস্তুত ছিলেন গোলরক্ষক রোমেরো। ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে গোলের হাত থেকে বাঁচানোর সাথে সাথে ভারগাসের চেষ্টা নষ্ট করে দেন তিনি।

৮৪ মিনিটের মাথায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮২ হাজারের বেশি দর্শককে অবাক করে দেন ইংলিশ প্রিমিয়ারের সেরা স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরো। ম্যানসিটির আর্জেন্টাইন এই তারকা চিলির ডি-বক্সে বল পেয়ে যে শটটি নেন সেটি গোলবারের অনেক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। আগুয়েরোর সামনে শুধুই বার্সেলোনার চিলিয়ান গোলরক্ষক ব্রাভো ছিলেন।

৯০ মিনিটে চিলিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সানচেজ। কাউন্টার অ্যাটাকে চিলির ডি-বক্সে প্রবেশ করে মেসির জোরালো শট বাইরে চলে যায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো গোল না হলে ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

ম্যাচের ৯৮তম মিনিটে চিলির আরেকটি সুযোগ নষ্ট করে দেন দুর্দান্ত কিছু সেভ করা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রোমেরো। ভারগাসের হেড থেকে ছুটে যাওয়া বল ঝাঁপিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন রোমেরো। পরের মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক থেকে হেড করেন আগুয়েরো। ক্লদিও ব্রাভো পরাস্ত হলেও চিলির গোলবারের উপরের অংশে লেগে বল বাইরে চলে যায়।

আর্জেন্টিনা সর্বশেষ কোপা শিরোপা জিতেছিল ১৯৯৩ সালে। সেবার মেক্সিকোকে ২-১ গোলে হারিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ করে নীল-সাদা জার্সিধারীরা। কিন্তু এরপর আরও মেজর দুটি ফাইনাল খেললেও খালি হাতেই ফিরতে হয় ১৪ বারের কোপা চ্যাম্পিয়নদের।

অন্যদিকে ১৯১৬ সালে শুরু হওয়া আসরের প্রথম দিকে খারাপ সময়ই কেটেছিল চিলির। তবে পরবর্তীতে ১৯৫৫, ১৯৫৬, ১৯৭৯ ও ১৯৮৭ সালে ফাইনালে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করে দলটি। আর সর্বশেষ গতবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। তাও আবার আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে। তাই এবার দলটির সামনে থাকছে টানা দ্বিতীয় শিরোপা উদযাপন করার হাতছানি।

এই ফাইনালে মাঠে নামার আগে দু’দল এখন পর্যন্ত মোট ৮৭বার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে সাফল্যের সিংহভাগই আর্জেন্টিনা ঘরে। ৫৭ জয়ের বিপরীতে আলবেসেলিস্তারা হেরেছে মাত্র সাতটিতে। বাকি ২৪টি ম্যাচ ড্র হয়। গত পাঁচবারের দেখাতেও আর্জেন্টিনা তিন জয়ের বিপরীতে একটি ম্যাচ হেরেছে। বাকি ম্যাচটি ড্র হয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

লঙ্কান দল থেকে বাদ পড়তে পারেন মালিঙ্গা

এ সম্পর্কিত আরও টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে সেরা দশে সাব্বির রহমান মালিঙ্গার বিপক্ষে তদন্তে শ্রীলংকা ক্রীড়ামন্ত্রী এখনো …

আপনার-মন্তব্য