Mountain View

ঈদ আসে সবার ঘরে

প্রকাশিতঃ জুন ২৭, ২০১৬ at ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সারা বছর দিনরাত পরিশ্রম করে সংসার চালানো নারীর সংখ্যা এ শহরে কম নয়। তাদের ঘরেও আসে ঈদ। একদিনের জন্য তারাও চায় আনন্দে মেতে উঠতে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, সবার মধ্যে তত যেন উৎসবের আমেজ প্রকাশিত হচ্ছে। পাড়ার যে ছোট্ট মেয়েটি এলোচুলে, খালি গায়ে ভাইকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াত; সেও আজ শরীরে একটি ফ্রগ জড়িয়ে মায়ের হাত ধরে মার্কেটে ছুটছে। সেও মায়ের কাছে বায়না করছে লেহেঙ্গা, ধুতি, শর্ট কামিজ, থ্রিপিসসহ আরো কত কী! নার্গিস, স্বামী পরিত্যক্তা তিন ছেলের মা। এলাকার নার্গিস বুয়া নামে পরিচিত মেয়েটিরও যেন কোনো ফুরসত নেই। এ বাড়ি-ওবাড়ির কাজ সেরে সেও তার ছেলেদের সাথে নিয়ে মার্কেটে ছুটে যায়। কেনে ছেলেদের পছন্দের জামা, প্যান্ট, পাঞ্জাবি ও পায়জামা। তার ভাষায়- একটাই তো ঈদ। ঈদে কেনাকাটা না করলে কি চলে! ভালো লাগে, ঈদ এলে বাসাবাড়ির আপারা কিছু সাহায্য করেন। নগদ টাকা ও কাপড় দেন; যা আমাদের মতো গরিবদের জন্য আনন্দের বাড়তি পাওনা বলেও জানায় নার্গিস।

প্রবীণ সেতারা বেগম। ফুটপাথে বসেই নামাজ আদায় করেন। অজিফা পড়েন একমনে। মুখফুটে কারো কাছে কিছু না চাইলেও চলমান মানুষেরা দানের হাত বাড়িয়ে দিতে কার্পণ্য করেন না। সেতারা বেগম জানান, এই বরকতের মাসে সবার জীবনেই আসে বরকত। তেমনি আমার জীবনেও। খাবার থেকে শুরু করে শাড়ি, টাকা, মানুষের হাত বাড়িয়ে দেয়া সহানুভূতি যেন এই রোজার মাসে নিত্যসঙ্গী। সেই টাকা দিয়ে আমি নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আমার আত্মীয়দের উপহার দিয়ে থাকি। কারো মেয়ের জন্য কিছু বিয়ের খরচ, অসুস্থদের ওষুধপথ্য, ছিন্নমূলদের কাপড় ও খাওয়া। মোটকথা, যা পাই তাই দানের অংশবিশেষ আমার মতো অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করে যেমন আনন্দ পাই, তেমনি তৃপ্তি। বুঝে নিই আল্লাহর দেয়া খুশি একার নয়; সবাইকে নিয়ে উপভোগ করলেই তা উপভোগ্য হয়।

মিনারার দর্জির দোকান এখন রাতদিন খোলা থাকে। রাত ১টায় গেলেও সেখানে লোকসমাগম দেখা যায়। ঈদ উপলক্ষে মিনারা পারিশ্রমিক বেশি নিচ্ছে প্রতি ড্রেসে। কেন নিচ্ছে জানতে চাইলে, মিানারা বলে, সবার মতো আমাদেরও তো পরিবার আছে। ঈদ এলে সবাইকে কিছু না কিছু দিতে হবেই। বাড়তি পারিশ্রমিক না নিলে বাড়তি খরচ কী করে করব। মিনারের নিজের জামা সেলাই হয়েছে কি না জানতে চাইলে সে হেসে ফেলে। হেসে বলে, স্বামী একটা থ্রিপিসের কাপড় দিয়েছে সেই প্রথম রোজায়। এত এত অর্ডারের ভিড়ে নিজের থ্রিপিসে হাতই দিতে পরিনি। ভাবছি অর্ডারের সব কাজ শেরে চাঁদরাতে নিজের থ্রিপিস ও স্বামীর জন্য কেনা পাঞ্জাবির কাপড় ধরব। বানানোর ঝামেলার কথা ভেবে শিশুদের রেডিমেট কিছু একটা পোশাক দেবো। আর এখনই তো আমাদের আয়ের সময়। এ সময়টা নিজেদের জন্য অপচয় করলে অন্যদের কিভাবে খুশি করব। ঈদ আনন্দের প্রধান উপকরণ তো নতুন জামা। সেই নতুন জামা ঠিক ঠিক বানাতে পারলেই তো ঈদ আনন্দ সঠিকভাবে উপভোগ্য হবে বলেও জানায় মিনারা।

আমাদের আশপাশে অনেক নার্গিস, মিনারা ও সেতারারা আছেন। যারা ঈদের আনন্দ পেতে আন্তরিকতার সাথে লড়ে যান। একপর্যায়ে সবই সবার মতো করে জয়ীও হন। সবার ঘরে আসে আনন্দ জোয়ার। আসে ঈদের চাঁদ সব আঁধারকে পাশ কাটিয়ে ভাঙাঘরের ফাঁকা দিয়েও রুপালি মিষ্টি আলোর ঝলক নিয়ে। প্রকৃতি প্রতিটি প্রাণে প্রাণে জানান দেয়- ঈদ এসেছে। ঈদ।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View