Mountain View

পারিশ্রমিক না দেয়ার শীর্ষে পাঁচ কাব

প্রকাশিতঃ জুন ২৭, ২০১৬ at ৫:৪২ অপরাহ্ণ

ঈদ বলেই ক্রিকেটারদের দেনা-পাওনা নিয়ে একটু বেশিই আলোচনা হচ্ছে। অন্য সময়ে একটু দেরিতে হলেও এটি নিয়ে কথা ওঠে না। ক্রিকেটাররাও চেয়ে চেয়ে হয়রান হয়ে ক্ষ্যান্ত দেন! কিন্তু এবার অবশ্য ক্রিকেটাররা একটু বেশিই সোচ্চার। কারণও রয়েছে। প্লেয়ার্স বাই চয়েসের কারণে এমনিতেই ক্রিকেটাররা বিরক্ত এরপর বেশির ভাগ কাব কর্মকর্তারা বোর্ডের সাথে কোনো না কোনো ভাবে জড়িত। ফলে কর্মকর্তারা বোর্ড থেকে শতভাগ সুবিধা নিলেও কাবের স্বার্থে এক পা পিছিয়ে থাকেন। তবে ক্রিকেটাররা অতশত বুঝতে চান না।

এমনিতেই পারিশ্রমিক কম। এরপর সেটাও যদি সঠিক সময়ে না পাওয়া যায় তখন রাগান্বিত হওয়াই স্বাভাবিক। সব খেলোয়াড়েরই একটা ইন্টারেস্ট রয়েছে। কিন্তু বিসিবির চাপিয়ে দেয়া ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’-এর জন্য সে ইন্টারেস্টের মূল্য নেই। নরমাল প্রক্রিয়ায় দলবদল হলে অনেক ক্রিকেটারই অনেক কাবে খেলতেন না। তারাও বাধ্য হয়েছেন লটারিতে ওই সব কাবে খেলতে। ফলে ক্ষোভের কারণটা একটু বেশিই এসব কারণে।

বিসিবি সভাপতি অবশ্য ভরাট গলায় আলটিমেটাম দেন। কিন্তু ওগুলো মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারের জন্যই। আলটি মেটাম শেষ হলে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তার কোনো নির্দেশনা নেই। কাব কর্মকর্তারা বোঝেন। এমনকি বলেনও। পাপন ভাইকে বলতে হচ্ছে তাই বলছেন। তাদের বক্তব্য, অর্থ তো সংগ্রহ করতে হবে। এমনিতেই ব্যবসায়ী, সংগঠকদের দিনকাল ভালো না। তারা অর্থ দিতে চান না।’ যারা ক্রিকেটারদের অর্থ নিয়ে ঘুরাচ্ছেন তারা এমন বক্তব্যটা কমন ভাবেই দিয়ে আসেন। কিন্তু ব্যবসায়ী বা কাবের সাপোর্টদের অর্থ দেয়ার ক্ষেত্রেও তাদের কিছু সুবিধা অসুবিধা রয়েছে।

সারা বছর সেগুলোও দেখার কথা। সেটা না দিলে শুধুই গিয়ে অর্থ চেয়ে বসলে তো আর অর্থ দেবেন না। অধিকাংশ কাবেই অসাধু কিছু লোকজন রয়েছেন। যারা কাবের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে নেন। অনেক কাবের বিসিবি প্রতিনিধি যিনি রয়েছেন, তিনি দেখা যাবে কাবের স্বার্থে কখনই কাজ করেননি। সাময়িক কিছু সুবিধার জন্য তাকে কাব প্রতিনিধি করে রাখা হয়েছে। সময়কালে তিনিও মুখ ঘুরিয়ে রাখছেন। ফলে বিপাকে পড়ছে কাব স্বার্থ।

তবে এগুলো ক্রিকেটারদের দেখার বিষয়না। বিসিবির নির্দেশনায় তারা ওই সব কাবে খেলছেন। অর্থ আদায় করে দেবেনও বিসিবিই। কিন্তু আসল কাজটা যে বিসিবিই করছে না ঠিকমতো। তবে ১২ কাবের যে সবার একই অবস্থা তা নয়। কিছু কাব তাদের বকেয়ার ৭০ শতাংশও পরিশোধ করে দিয়েছেন। বাকিটাও আগামী মাসে বা পারের মাসে প্রদানের তারিখ দিয়ে দিয়েছেন। কিছু কিছু কাবে সমস্যা প্রকট। কর্তারা ফোন ধরেন না। কাবেও খুঁজে পাওয়া যায় না। কোনোমতে মুখোমুখি হলে এ দায়িত্ব আমার না অমুকের। এভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এমন কাবের সংখ্যা চার-পাঁচটি। জানা গেছে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং, ব্রাদার্স ইউনিয়ন কাব, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র, সিসিএস প্রমুখ রয়েছে এ তালিকায়।

এদের মধ্যে সিসিএস ১৫ শতাংশ, ব্রাদার্স ৩০ শতাংশ, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ৩০ শতাংশ, কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ৩০ শতাংশ অর্থ প্রদান করেছে। বাকি সবই বকেয়া। কবে পরিশোধ হবে সেটা কেউ বলতেও পারে না। বিসিবিও জানে এগুলো। জানা গেছে, এদের মধ্যে কয়েকটি কাবের খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ কিছু ক্রিকেটার গত মওসুমেরও অন্তত ৭০ শতাংশ পারিশ্রমিক পাননি। এবারো তারা খেলেছেন। খুবই সামান্য অর্থ পেয়েছেন এবারো। বাকি পাবেন কি না তার ঠিকানা নেই। ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ। অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে আবাহনী। শিরোপা পাওয়া দলটি দিয়েছে ৮০ শতাংশ অর্থ। নিয়ম লিগ শেষ হওয়ার ৬ সপ্তাহ পর শেষ কিস্তির ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে শেষ করতে হবে পাওয়ানা।

আবাহনী তার বেশি দিয়ে রেখেছে। অন্যদের মধ্যে প্রাইম দোলেশ্বর ৭০ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ৭০ শতাংশ, গাজী ক্রিকেটার্স ৭০ শতাংশ, মোহামেডান ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ, লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ ৭৫ শতাংশ,শেখ জামাল ৭০-৭৫ শতাংশ। এভাবেই কাবগুলো অর্থ দিয়েছে। যে চারটি কাব অর্থ নিয়ে ঝামেলা করছে এরা সবসময়ই এ কাজগুলো করে আসছে বলে খেলোয়াড়দের সূত্রেই জানা গেছে। তবে কাব সবার অর্থ আটকে রাখে না।

হাতেগোনা কয়েকজনের টাকা ঠিকই দিয়ে দেন। তারাই আবার পরের মওসুমে দল গঠনের জন্য মাঠে নেমে খেলোয়াড় সংগ্রহ করে থাকে। এভাবেই চলে আসছে কাবগুলোর ক্রিকেট মওসুম। এ ব্যাপারে প্রয়োজন উদ্যোগের। বিসিবি এবারই প্রথম সোচ্চার হয়েছে। সেটা কতদূর তারা পারবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View