Mountain View

রনি আত্নগোপনে খুঁজে পাচ্ছেন না গোয়েন্দারা

প্রকাশিতঃ জুন ২৯, ২০১৬ at ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

Roni-1-SM20160629091239

মাদক ব্যবসা ও দখলবাজিতে লিপ্ত থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর গা ঢাকা দিয়েছেন প্রভাবশালী মন্ত্রীর গুণধর পুত্র রনি চৌধুরী। তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না গোয়েন্দারা।

মুলত, গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার (২৮ জুন) পুলিশ সদর দফতর বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।

এছাড়া রনির দখলে থাকা উত্তরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখলমুক্ত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গুলশান, তেজগাঁও ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে ইয়াবার গোডাউনে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৠাব।

এদিকে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পদ থেকে নাম বাদ দিতে দলের হাইকমান্ড নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

জানা যায়, মন্ত্রিপুত্র রনি চৌধুরীর অপরাধের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে। পর্দার আড়ালে থেকে তিনি মাদক ব্যবসা, সরকারি জমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

গতকাল (মঙ্গলবার) ২৮ জুন কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে তার অপকর্মের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর টনক নড়ে পুলিশ প্রশাসনের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, রনি চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি ও থানার ওসিদের বলা হয়েছে।

বাবার আশকারা পেয়ে রনি ও তার বড় ভাই দীপু চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ চালাচ্ছেন। পর্দার আড়ালে থেকে রনি চৌধুরী অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। তার ইয়াবা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ছাড় দেওয়ার সুযোগ মিলবে না।

ৠাব-১ এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রনি চৌধুরীর ইয়াবা কারখানাগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুলশান, তেজগাঁও ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে তার ইয়াবা তৈরির কারখানা আছে বলে আমরাও তথ্য পেয়েছি। প্রশাসনের নাকের ডগার উপর এসব অনৈতিক কাজ করছেন ক্ষমতাধর রনি চৌধুরী। এ ছাড়া কক্সবাজার ও টেকনাফে পুলিশ-ৠাবের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে তার আছে গভীর সখ্য।’

গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি পুলিশের দৃষ্টিতে এসেছে। অপরাধ কর্মকাণ্ডে যারাই জড়িত থাকবে তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় রনি চৌধুরীকে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাখা হবে না। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও গোয়েন্দা) সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কড়া নির্দেশ রয়েছে। আমরা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো সংঘবদ্ধ চক্র পেলে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে’।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View