ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ

দ্রুতই ভারতের সঙ্গে ঝুলে থাকা চিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির জট খুলতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। আগামী অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে যাচ্ছেন। এ সময় এর একটা সমাধান প্রত্যাশা করছে সরকার।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে চিস্তা চুক্তির ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে অবস্থানে ছিলেন, বিধান সভা নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

আগামী ১২, ১৩, ১৪ অক্টোবর ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়া দিল্লি যাবেন। এই সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বৈঠকে ঝুলে থাকা এই সমস্যার সমাধান উভয় পক্ষই বের করতে চাচ্ছে। তাই দুই প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠককে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষই ত‍ৎপর হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্রিকস এর সদস্য না হলেও শেখ হাসিনাকে এই সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদী আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর আগে নিজেরা ঐক্যমত্যে পৌঁছুতে মমতার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ ও সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কারণেই দীর্ঘ দিন ঝুলে আছে তিস্তা চুক্তি। ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে তিস্তা চুক্তির বিরোধিতা করে এসেছেন। তার কারণেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দুই দফায় চুক্তির উদ্যোগ নিলেও তা স্বাক্ষর হয়নি।

নির্বাচনে এই ইস্যুটিকে কাজে লাগানোর কৌশল হিসেবেই পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থের কথা বলে মমতা তিস্তা চুক্তিতে বার বার বাধা দিয়েছিলেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেও তিনি এটাই বুঝিয়েছিলেন।

গত বছর বাংলাদেশ সফরের সময়ও মমতা ব্যানার্জি তিস্তার ব্যাপারে তার উপর আস্থা রাখতে বলে বাংলাদেশকেও এটাই বুঝিয়েছিলেন। এখন সেই বাধা আর নেই। ১৯ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ওই দিনই এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা এ ব্যাপারে একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি বলেছিলেন, এই জয়ে দায়বদ্ধতা বেড়ে গেলো, দায়িত্ব বেড়ে গেলো। আমরা চাই সব প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক দৃঢ় করতে, এর মাধ্যমে আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পর্ক আরও বাড়িয়ে তুলতে পারি।এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে সামনে রেখে বিষয়টি নিয়ে একটা সমাধান বের করার চেষ্টা উভয় পক্ষ থেকেই ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে মমতার সঙ্গে দ্রুতই ঐক্যমত্যে পৌছানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিস্তা নিয়ে মমতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই বৈঠকেই একটা সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ১৯ জুন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, তিস্তার সঙ্গে ভারত, বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার- এই তিনটি পক্ষ যুক্ত রয়েছে। আভ্যন্তরীণ ঐক্যমত্যে পৌছানোর পরই এই চুক্তি বাস্তবায়নে সামনের দিকে আগানো যাবে। এর পর দিন ২০ জুন মমতার সঙ্গে দেখা করেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোয়াজ্জেম আলী। তাকেও এ সময় মমতা তিস্তার ব্যাপারে আস্থা রাখতে বলেন।

গত বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মমতা ব্যানার্জি ঢাকায় আসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে তার উপর আস্থা রাখতে বলেন।

এদিকে গত বছর জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় এই চুক্তির ব্যাপারে দ্বিতীয় দফায় উদ্যোগ নেয়া হলে তখনও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কারণে হয়নি।

এর আগে ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহের সফরের সময় মমতার বাধার কারণে এ চুক্তি হয়নি। মততা ব্যানার্জির এই ভুমিকা ভারত এবং বাংলাদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

দলের বিদ্রহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে, দল থেকে তাদের বহিস্কার :মোশারফ

মাদারীপুর প্রতিনিধি : আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বচনে দলের বিদ্রহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে, …

Mountain View