ঢাকা : ২৭ এপ্রিল, ২০১৭, বৃহস্পতিবার, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে ঢাকা:আশঙ্কা গবেষকদের

dhka build

এক ভয়াবহ ভূমিকম্প অত্যাসন্ন। আর ৯ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ঢাকা শহরটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তাতে। এই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের প্রায় ১৪ কোটি মানুষ। IBTimes UK-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে একথা।

‘A giant megathrust earthquake is building beneath Bangladesh that could annihilate Dhaka’—শিরোনামে ১১ জুলাই তারিখে Hannah Osborne-এর লেখা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এই মর্মে নিশ্চিত প্রমাণ পেয়েছেন যে, বিগত ৪০০ বছর ধরে বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ অঞ্চল বলে বিবেচিত বাংলাদেশের ভূ-স্তরের নিচের সাবডাকশন জোনে টেকটোনিক প্লেটগুলোতে প্রবল চাপ জমা হচ্ছে।

আর তা এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে রূপ নিতে চলেছে। অল্পকালের মধ্যেই সেই ভূমিকল্প আঘাত হানবে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায়। ভূকম্পনটি হবে ৯ মাত্রার।

বিশেষজ্ঞদের এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, Nature Geo-science পত্রিকায়। বাংলাদেশের মাটির নিচে এক বড় বিপদ জন্ম নিচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, এই গবেষণা সে আশঙ্কারই প্রতিধ্বনি। ধারণা করা হচ্ছিল, বাংলাদেশ অঞ্চলের নিচের টেকটোনিক প্লেটের পরিসীমাটি ভূ-পৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি জায়গায় ক্রমশ আনুভূমিকভাবে স্থানচ্যুত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা এই সাবডাকশন জোনটির নিচে অবস্থিত টেকটোনিক প্লেটের ওপর গবেষণা চালিয়ে এই মর্মে নিশ্চিত হয়েছেন যে,  ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে যে ভূমিকম্প হয়েছিল সেটিও এই বিচ্যুতিরই ফল।

তারা বলছেন, এই বিশাল সাবডাকশন জোনটি হচ্ছে মূলত এক অতিকায় টেকটোনিক প্লেট যা কোটি কোটি বছর ধরে উত্তর-পূর্ব দিকে এশিয়াপানে একটু একটু করে সরে আসছে। টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষজনিত বিপুল চাপের কারণেই একদা হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়েছিল। এই চাপটি ভূস্তরের নিচে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তিত হয়ে বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সাবডাকশন জোন (Subduction zones) হচ্ছে সেইসব এলাকা যেখানে একটি টেকটোনিক প্লেট অন্য একটি টেকটোনিক প্লেটের উপরে উঠে যায়। এর ফলে সেখানে প্রবল ধাক্কাধাক্কি চলতে থাকে। এরপর এরা যখন হঠাৎই একটি অন্যটির থেকে সবেগে সরে আসে তখনই ভূমিকম্পের সূচনা হয়।

বিজ্ঞানীরা ২০০৩ সাল থেকেই জিপিএস-এর সাহায্যে ছোট ছোট ভূ-আন্দোলনের ওপর নজর রাখছিলেন। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন, বাংলাদেশের প‍ূর্বাঞ্চল এবং পূর্ব ভারতের একাংশ ক্রমশ মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে। এই সরে যাওয়ার গতি বছরে ৪৬ মিলিমিটার। এর ফলে যে বিপুল চাপ তৈরি হচ্ছে তা মিয়ানমারের ভূপৃষ্ঠের ওপরের ফল্টে জমা হচ্ছে। আর বাকি যে চাপ তা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দূরত্বকে কমিয়ে আনছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ‘সাবডাকশন তৈরি হচ্ছে’।

তা হিসাব করে দেখেছেন, এর ফলে ২৪ হাজার বর্গমাইল এলাকায় তার প্রভাব পড়ছে। আর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও এর আওতাধায় পড়ে। যেখানে দেড়কোটির বেশি মানুষের বসবাস।

গবেষক দলটির প্রধান মাইকেল স্টেকলার (Michael Steckler)। যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Lamont-Doherty Earth Observatory –র বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক। তাঁর ভাষায়: ‘আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বহুদিন ধরেই এমন বিপদের আশঙ্কা করে আসছিলাম। কিন্তু আমাদের হাতে পর্যাপ্ত ড্যাটা বা মডেল ছিল না।’

কিন্তু যদি তা ঘটেই যায় তাহলে এর ফল হবে ভয়াবহ। এই গবেষক দলে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ূন আখতার। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এ মুহূর্তে কোনো প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প (megathrust earthquake) মোকাবেলার জন্য প্রস্তত নয়। দুর্বল কাঠামোর বাড়িঘর-স্থাপনা, বিপুল জনসংখ্যা আর বিপুল গতিতে চলা অবকাঠামো নির্মাণযজ্ঞই বলে দেয় এমন ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হবে।’’

তিনি আরও বলেন:  ‘‘ বাংলাদেশের সর্বত্রই জনসংখ্যার ঘনত্ব মাত্রাতিরিক্ত। সবকটি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র, ভারী শিল্প কারখানা, সবক’টি বিদ্যুৎকেন্দ্রই সম্ভাব্য ভূমিকম্পস্থলের খুব কাছে অবস্থিত। ভূমিকম্প হলে এসবকিছুই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। আর ঢাকায় ধ্বংসলীলা যে কি ভয়াবহ হবে তা আমাদের কল্পনারও বাইরে। এটি আর বসবাসযোগ্য থাকবে না। ’’

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Mountain View

Check Also

হজ নিবন্ধনের সময় বৃদ্ধি পেলো আরও ২ দিন

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কোটা পূরণ না হওয়ায় আরও দুইদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে …

Loading...