মেসির থাকার ব্যাপারে বার্সাও নিশ্চিত

লিওনেল মেসিকে ঘিরে উদ্বেগ থামছেই না। কর ফাঁকির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আর্জেন্টাইন তারকার স্পেন ছাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন স্প্যানিশ ফুটবল লিগ (লা লিগা) প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবাস। তবে, ২১ মাসের কারদণ্ডের শাস্তি পাওয়ার পরও মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার কথা ভাবছেন না বলে জানিয়েছে ক্লাবটির কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি কর ফাঁকির মামলায় মেসি ও তার বাবা জজ হোর্হে মেসিকে দোষী সাব্যস্ত করে ২১ মাসের ‍কারাদণ্ড ও জরিমান করে বার্সেলোনার আদালত। ইতোমধ্যেই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন তাদের আইনজীবী।

ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন উঠে, মেসির বাবা ও এজেন্ট ইংলিশ ক্লাব চেলসির মালিক রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে বার্সার মুখপাত্র জোজেপ ভিভেস এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘আমরা মেসির আপনজনদের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রেখেছি। মেসির ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার বিষয়ে আমরা জানি না, এটা আমাদের ভাবনাতেই নেই। আমরাও নিশ্চিত সে বার্সাতেই থাকছে।’

কর ফাঁকির মামলায় মেসি ও তার বাবাকে জেলে যেতে হচ্ছে না। স্পেনের আইন অনুযায়ী, কোনো অহিংস অপরাধ না করলে এবং অতীত অপরাধ রেকর্ড না থাকলে দুই বছরের কম কারাদণ্ড সাধারণত স্থগিত থাকে।

এদিকে, মেসির সমর্থনে টুইটার বার্তা দিয়ে বার্সা প্রেসিডেন্ট জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউ জানান, ‘লিও, যারা তোমাকে আক্রমণ করছে তারা বার্সা ও এর ইতিহাসকেও আক্রমণ করছে। শেষ পর্যন্ত আমরা তোমার পাশে থাকবো। এক সাথে আজীবন!’

ক্লাবের সেরা তারকাকে আইনি ও নৈতিক সমর্থন দিতে প্রস্তুত বার্সা। চেলসির গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে ক্লাবের কর্তারা নিশ্চিত করেছেন মেসি বার্সাতেই খেলবেন। তারা জানান, করফাঁকি মামলায় কারাদণ্ডের ব্যাপারে লিও মেসি ও তার বাবার জন্য সব ধরণের সহযোগিতা দেবে এফসি বার্সেলোনা। সরকারি প্রসিকিউশন সার্ভিসের সঙ্গে এই ক্লাবের চুক্তি আছে, স্প্যানিস কর অফিসের সঙ্গে খেলোয়াড় নিজের অবস্থান সংশোধন করলে তা বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রে এই মামলায় অপরাধী হিসেবে দায়ী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মেসি ও তার পরিবারের সমস্যাটি নিষ্পত্তিতে কাজ করে যাবে বার্সা। সে তার সততা ও আইনি স্বার্থ রক্ষায় যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন আমাদের তাতে পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ৪.১ মিলিয়ন ইউরো কর ফাঁকির জন্য মেসি ও তার বাবাকে অভিযুক্ত করে স্প্যানিশ কর অফিস। কয়েক দফা শুনানির পর রায় ঘোষণা হয়। তাতে কারাদণ্ড ছাড়াও মেসিকে ২ মিলিয়ন ইউরো ও তার বাবাকে ১.৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা পরিশোধেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলারের জরিমানার অঙ্কটা তার ছয় সপ্তাহের বেতনের সমান।

এ সম্পর্কিত আরও