তিতুমীর কলেজ নিজেদের শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করছে

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৫, ২০১৬ at ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

titumir

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ১১ জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু হায়দার আহমেদ নাসের।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) তিনি বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাই আমরা অনুসরণ করছি। বর্তমানে তথ্য সংগ্রহ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ আমাদের চিন্তা-ভাবনা। ভবিষ্যতে বিভিন্ন কাজে লাগতে পারে এ ভাবনা থেকেই করছি। সাধারণত শিক্ষার্থীরা যখন ভর্তি হয় তখন তাদের তথ্যগুলো আমরা পেয়ে থাকি। এ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তথ্যগুলো হালনাগাদ করা সম্ভব হচ্ছে।

গত ১ জুলাই গুলশানের রেস্টুরেন্টে হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জন নিহত এবং ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় দুই জন নিহতের ঘটনায় শিক্ষিত তরুণদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এতোদিন জঙ্গিবাদের লালনকর্তা হিসেবে মাদরাসাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করা হলেও সাম্প্রতিক এ দুটি ঘটনায় কপালে ভাঁজ পড়েছে সবার।

এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি। এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী কারণ ছাড়া টানা ১০ দিন অনুপস্থিত থাকলে তাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করবে, পরিবারের সাথে অনুপস্থিতিরি বিষয়ে কথা বলবে, যুক্তিসঙ্গত কারণ না পেলে বা সন্দেহজনক হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থানা শিক্ষা অফিসারকে জানাবে। এবং পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে তিতুমীর কলেজ স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহে নেমেছে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু হায়দার আহমেদ নাসের বলেন, কলেজের সব শিক্ষার্থীকে একটি ফ্রেম ওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য এ তথ্য সংগ্রহ। আপডেট তথ্য থাকলে শিক্ষার্থীদের পরিচয়গুলো আমাদের চোখের সামনেই থাকবে। পুরানো তথ্য, বর্তমান পরিস্থিতি সবমিলিয়ে আমরা শিক্ষার্থী সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা রাখতে পারবো।

তথ্য প্রদানের জন্য নির্ধারিত একটি ফরম আছে। ফরমের উপর বিভাগ লেখা আছে। যে যে বিভাগের সে ওই বিভাগের ফিরম সংগ্রহ করবে। ফরমে নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, রোল নং, শিক্ষাবর্ষ, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, স্ট্যাম্প সাইজের এক কপি রঙিন ছবি, রক্তের গ্রুপ, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছে। ফরমটি পূরণ করে বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষরসহ সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিতে হবে। যা সবার জন্য বাধ্যতামূলক।

এ সম্পর্কিত আরও