ঢাকা : ১৮ আগস্ট, ২০১৭, শুক্রবার, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন এরশাদ, কারণ নিয়ে রহস্য..

ershad_newyork

মোঃ জিহান মিয়া : হঠাৎ কেন যুক্তরাষ্ট্র সফর? এ নিয়ে জাতীয় পার্টির ভেতরেসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। জাতীয় পার্টির সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় এরশাদ বেশ কয়েকজন মার্কিন কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক রাজনীতিতে প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে এরশাদের বৈঠক করার কথা রয়েছে। এরশাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে জাঁকজমকের সঙ্গে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করতেও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টিকে বলা হয়েছে বলে দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে এরশাদের আকস্মিক এই যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল কারণ জাতীয় পার্টির নির্ভরযোগ্য কোনো নেতাই নাম প্রকাশ করে বলতে রাজি হননি।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের কাছে এরশাদের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সফর নয়। শুধুমাত্র সময় কাটানোর জন্য তারা কয়েকজন বাইরে যাবেন বলে তিনি (এরশাদ) আমাকে জানিয়েছেন, এর বাইরে আর কিছু নয়।

জাতীয় পার্টি সূত্র জানায়, গত মাসে একইভাবে তিনদিনের ভারত সফরে গিয়েছিলেন এরশাদ। সেসময় জঙ্গিবাদ নিয়ে বাংলাদেশকে ভুল না বুঝতে ভারতকে অনুরোধ করে এসেছিলেন। যদিও বিডি টোয়েন্টিফোর ডটকমে’র পক্ষ থেকে এরশাদের সাথে তখন যোগাযোগ করা হলে তিনি সফর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না বলে কেবল বলেছিলেন যে সফর ভালো হয়েছে।

জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, এরশাদও মনে করেন আন্তর্জাতিক পট পরিবর্তনের কারণে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী বছর শুরুর দিকে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখতে চান এরশাদ। যুক্তরাষ্ট্র সফরে এই দিকটিও এরশাদ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখবেন। পাশাপাশি হলি আর্টিসানে ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর জঙ্গিবাদ বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের মতো ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মনোভাব আরও ঘরোয়া পরিবেশে আলোচনা করতে চান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

এ নিয়ে জাতীয় পার্টির ভেতরেই চলছে নানান আলোচনা। পরিবর্তন ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এরশাদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাব্য সফরসঙ্গী ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আলোচনা তো কত রকমই হয়। আমরা মধ্যবর্তী কোনো নির্বাচন চাই না। সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে আয়োজন করে নির্বাচনে আমাদের দল অংশ নেবে এবং ২০১৯ সালের পাঁচ জানুয়ারি পর্যন্ত এ ব্যাপারে ভাবার সময় রয়েছে।

অন্যদিকে জি এম কাদের বলেন, নির্বাচন বা রাজনৈতিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে মানুষের কৌতুহল থাকতে পারে। তবে আমি এ  বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত নই।

বিদিশার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নিয়ে রহস্য,

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে যে জাতীয় পার্টির কাজী জাফর আহমেদ অংশের চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা ইসলাম। বিদিশাও এ খবর অস্বীকার করেননি। যদিও কাজী জাফর অংশের জাতীয় পার্টির মহাসচিব জামাল হায়দার পরিবর্তন ডটকমকে টেলিফোনে বলেছেন, বিদিশার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে বিদিশার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম’কে নিশ্চিত করেছে যে বিদিশা রাজনীতিতে আসছেন এবং তা এরশাদের পূর্ণ সম্মতিতেই।

এ ব্যাপারে জানতে বৃহস্পতিবার টেলিফোনে বিদিশা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি দেশের বাইরে আছি।  তিনি এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন কিনা জানতে চাইলে বিদিশা জানান, তিনি কোন দেশে আছেন তা এখন বলবেন না। সার্বিক বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, এই সফর কোনো আনুষ্ঠানিক সফর নয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ইস্যুতে এই সফরে জাতীয় পার্টির কোনো তৎপরতা থাকবে কিনা প্রশ্ন করলে রুহুল আমীন বলেন, এ নিয়ে আগাম কিছু বলার অবকাশ নেই। দলের প্রেসিডিয়াম সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সব জানানো হবে।

জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নতুন কোনো মেরুকরণ হচ্ছে কিনা- এ বিষয়ে দলে রওশন এরশাদ ঘরানার বা সরকার-ঘনিষ্ঠ কেউ এখনই মুখ খুলতে চাননি। রওশন এরশাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত আরও