হাউসফুল ‘শিকারি’, তারপরও হল বন্ধের আশঙ্কা….

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৫, ২০১৬ at ৮:০৮ অপরাহ্ণ

মোঃ জিহান মিয়া :- উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের পৌর এলাকায় দুটি সিনেমা হল ছিল একসময়। আট বছর আগে বন্ধ হয়েছে ঝুমুর, একই পথে রয়েছে হ্যাপি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের সিনেমা ‘শিকারি’ দেখতে হলটির সামনে দীর্ঘ লাইন। একাধিক প্রদর্শনীতে হাউসফুল হয়েছে শাকিব খান অভিনীত সিনেমাটি। এমন ভিড়-ভাট্টা সত্ত্বেও সিনেমা ব্যবসায় ভরসা পাচ্ছেন না হ্যাপির কর্ণধার মাসুম ভুঁইয়া।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই ঈদ ছাড়া ছবির ব্যবসা ওইভাবে নেই। সারাবছরই প্রথম দু-একদিনের পরে কোনো ছবিতে দর্শক পাওয়া যায় না। যে টাকায় ছবি আনি তা-ই অনেক সময় ওঠে না। সব মিলিয়ে হল চালু রাখা দুষ্কর।’

তাহলে সিনেমা হলের জায়গায় কী করবেন? উত্তরে মাসুম বললেন, ‘আমার সাথে একটি কন্সট্রাকশন ফার্মের কথা হয়েছে। তারা এখানে অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং করবে।’

কিন্তু আপনি তো গতবছর বলেছিলেন আপনি এখানে মার্কেট করবেন, সেখানে মাল্টিপ্লেক্স থাকবে?– উত্তরে মাসুম বলেন, ‘এখন মার্কেট করতে ব্যাংক লোনসহ নানাবিধ সমস্যা আছে। মার্কেটের চেয়ে অ্যাপার্টমেন্ট লাভজনক মনে হয়েছে আমার কাছে। তাছাড়া লক্ষ্মীপুরে মাল্টিপ্লেক্স করলে ওরকম দামী টিকিটের দর্শক কই?’

কিন্তু আমাদের জানামতে অধিকাংশ ছবিই আপনি প্রথম সপ্তাহে মুক্তি দিচ্ছেন। প্রথম সপ্তাহে রেন্টাল বেশিই থাকে। ব্যবসা না হলে তা পারতেন না? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যবসা নিয়ে সবসময় একটা আশা তো থাকে। কিন্তু কর্মচারীদের বেতন ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ মেটানোর পর লাভের অঙ্কটা এত কম থাকে যে হল চালু রাখা যায় না।’

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি সিনেমা হল রয়েছে কমলনগর ও রামগতি উপজেলায়। রামগতির ঐতিহ্যবাহী দুই সিনেমা হল ‘উপকূল’ ও ‘মেঘনা’র মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারাও হলের জায়গায় মার্কেট করার চিন্তা-ভাবনা করছেন। তবে ঢাকায় চালু হওয়া মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের নতুন প্রথায় গা ভাসানোর ইচ্ছা তাদের নেই বলেও জানালেন।

এ সম্পর্কিত আরও