Mountain View

জঙ্গি তালিকা থেকে নাম কাটাতে টাকা দাবি!

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৬, ২০১৬ at ৯:২৫ অপরাহ্ণ

বগুড়ার নিখোঁজ যুবকদের তালিকা নিয়ে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের কোন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কথিত নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে তাদের সন্তান নিখোঁজ হয়নি। বরং থানার নিখোঁজের তালিকা থেকে তাদের নাম কাটাতে মোটা আংকের টাকা দাবি করছে এক শ্রেণীর দালালরা। এ ধরনের অভিযোগ এনে স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কথিত নিখোঁজ যুবকের পরিবার।
দেশে চলমান জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজদের ডেটাবেইজ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলমান এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বগুড়ার পুলিশ প্রশাসনও বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এমন যুবকদের তালিকা করার কাজ শুরু করেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করে তালিকা প্রকাশ না করলেও কিছু কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় ১৭, ২৪, ৩৬ বিভিন্ন সংখ্যা উল্লেখ করে নিখোঁজ যুবকে খুঁজছে পুলিশ এমন সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ওই সকল সংবাদে কিছু যুবকের নাম ঠিকানাও ছেপেছে। নাম উল্লেখ করা যুবকদের মধ্যে দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের মেরাই গ্রামের প্রবাসী আব্বাছ আলী প্রামাণিকের ছেলে শাহিনুর ইসলামের নাম রয়েছে। তার নাম গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। শাহীনুর নিখোঁজ হয়নি এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র এবং হয়রানি করা হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে তার বড় ভাই জহুরুল ইসলাম শুক্রবার দুপচাচিয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। ওই সম্মেলনে কথিত নিখোঁজ শাহীনুর উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহীনুরের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার ভাইকে নিখোঁজ উল্লেখ করে যেসব নিউজ পোর্টাল এবং পত্রিকা সংবাদটি ছেপেছে তা মিথ্যা ভিত্তিহীন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত স্থানীয় এক মেম্বর প্রার্থীর পক্ষে তার পরিবার ভোট না করায় এধরনের শত্রুতা করেছে। ওই ইউপি সদস্যপ্রার্থীর নাম মোসলেম উদ্দিন। তার পক্ষে নির্বাচন না করে অন্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট করায় তিনি হেরে যান এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হয়রানির হুমকি দেয়।
তিনি আরো বলেন, মোসলেম উদ্দিন আমার মা জুলেখা বিবিকে ডেকে বলেন থানায় শিবিরের তালিকায় তোমার ছোট ছেলে শাহীনুরের নাম আছে। নাম কাটতে পুলিশকে ম্যানেজ করার জন্য ৫০হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। জুলেখা বিবি দিতে অস্বীকার করায় মোসলেম ঈদের দিন সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে প্রথমে র্যা বের সদস্য ও পরে থানার পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে দাখিল পাস করার পর তার বাবা না থাকায় সংসারের হাল ধরেন শাহীনুর। আমার ভাই কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়।
এদিকে মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
শাহীনুরের মা জোলেখা বিবি জানান, আমার বরাত দিয়ে সাংবাদিকরা ছেলে নিখোঁজের যে সংবাদটি ছাপিয়েছে তা সত্য নয়। আমি কখনো কোন সাংবাদিকের সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলিনি। আমার ছেলে কোদিন নিখোঁজ ছিলো না। সে বাড়িতেই সংসার দেখাশোনা করে।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজাল ইসলাম বলেন, শাহীনুরের নিখোঁজের বিষয়টি আমাদের সোর্সের মাধ্যমে জানার পর খোঁজ নেয়ার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে পাইনি। তার বিষয়ে আমরা আরো খোঁজ খবর নিচ্ছি। নিখোঁজ সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় কোন সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View