ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ৬:১০ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

‘ভুটানকে হারাতে না পারলে বুঝব আমরা ফুটবলরারই নই’ মামুনুল

মামুনুল ইসলাম

বেলজিয়ান কোচ টম সেন্টফিটকে কেমন মনে হচ্ছে? 
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে মামুনুল ইসলাম যেন ক্লান্ত। তারপরও দলের অধিনায়ক যেহেতু, কোচ সম্পর্কে তাঁকে তো কিছু বলতেই হয়। বললেন, এই কোচ প্রচণ্ড রাগী। তার মানে এই নয় যে সেন্টফিট সব সময় খেলোয়াড়দের বকাঝকা করছেন। তাঁর রাগটা অনেকটা স্নেহবৎসল শিক্ষকের মতো। একটু যেন অভিমানী। কোনো কারণে কোনো খেলোয়াড়ের ওপর বিরক্ত হলেও পুরোপুরি বুঝতে দেন না ব্যাপারটা। তাঁর প্রতি শীতল আচরণ করেন। যাঁর ওপর রেগে যান, সেই খেলোয়াড় এমনিতেই বুঝে যাবে, অবস্থা সুবিধার নয়। 
২০০৭ থেকে এই পর্যন্ত বেশ কয়েকজন বিদেশি কোচকে পেয়েছেন মামুনুল। প্রথমে ভারতের সৈয়দ নইমুদ্দিন। এরপর একে একে ব্রাজিলের ডিডো, সার্বিয়ার জর্জেভিচ, ক্রোয়েশিয়ার রুবচিচ, মেসিডোনিয়ার ইলিয়েভস্কি, হল্যান্ডের ডি ক্রুইফ ও ইতালির ফাবিও লোপেজ—সেন্টফিট তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অষ্টম বিদেশি কোচ। এসেছেন বেশি দিন হয়নি। কিন্তু মামুনুল বলেন, ‘তিনি প্রতিটি সেশনেই আমাদের মুগ্ধ করে চলেছেন।’ মামুনুল বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে সেন্টফিটের অগাধ জ্ঞান দেখে বিস্মিত হয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে বাংলাদেশের ফুটবলটা রীতিমতো গুলে খেয়েছেন এই বেলজিয়ান কোচ। 
সেন্টফিটের অধীনে অনুশীলন করতে করতেই বড় একটা আত্মোপলব্ধি হয়েছে দেশের সেরা এই মিডফিল্ডারের, ‘কেন যেন মনে হয় সেন্টফিট আমাদের জন্য যে পরিশ্রম করছেন, সেটার প্রতিফলন আমরা মাঠে ঘটাতে পারব কি না! বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত যত কোচ এসেছেন, বিশেষ করে আমি যাদের কোচ হিসেবে পেয়েছি, কেউই তো খারাপ ছিলেন না। কোচরা পরিকল্পনা বুঝিয়ে দেবেন, আমরা খেলোয়াড়েরা মাঠে গিয়ে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। আমরা মাঠের দায়িত্বটা ঠিকমতো পালন করতে না পারলে কোচ কিন্তু কিছুই করতে পারবেন না। সেন্টফিটের সম্মানটা আমাদেরই রাখতে হবে।’ 
বেলজিয়ান কোচের অধীনে সাত দিনের অনুশীলন শেষে খেলোয়াড়েরা চলে যাবেন নিজ নিজ ক্লাবে। সেখানে শুরু হবে অন্য ধরনের অনুশীলন। এটা কি ছন্দ-পতন ঘটাবে না খেলোয়াড়দের? মামুনুল অস্বীকার করতে পারেননি যে, ছন্দপতন হতেই পারে, তারপরও বলেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের ক্লাবের কোচিং-পদ্ধতির বাইরেও বাড়তি কিছু করতে হবে। সেন্টফিট যে পদ্ধতিতে অনুশীলন করাচ্ছেন, সেটি নিজেদের প্রয়োগ করতে হবে। বাড়তি পরিশ্রম করতে হবে।’ 
এই ধরনের ছন্দ-পতন যাতে না ঘটে সে জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা চান মামুনুল, ‘জাতীয় দলের অনুশীলন স্টাইল, খেলার ফর্মেশন এগুলো মাথায় রেখে একটা সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। ক্লাবগুলোকেও জাতীয় দলের কথা ভাবতে হবে। জাতীয় দলে এক রকম, ক্লাবে এক রকম করলে কোনো কিছুরই ধারাবাহিকতা থাকে না। দুই জায়গাতেই খেলোয়াড়দের নতুন করে শুরু করতে হয়। আশা করছি, এই ব্যাপারটা ক্লাবগুলো মাথায় রাখবে।’ 
ভুটানের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারেন না মামুনুল। কোচ সেন্টফিট অবশ্য সাবধান করে দিয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা যেন ভুটানের চেয়ে নিজেদের এগিয়ে রেখে আত্মতুষ্টিতে না ভোগেন। 
সর্বশেষ ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সাক্ষাৎ গত ডিসেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। যাচ্ছেতাই খেলে বাংলাদেশ প্রথম গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিলেও ভুটানকে হারিয়েছিল ৩-০ গোলে। সেটা মনে করিয়ে দিয়ে মামুনুল বলেন, ‘ভুটানের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দুটো প্লে-অফে জিতব মনে করেই মাঠে নামতে হবে আমাদের। যদি এই ম্যাচ দুটো জিততে না পারি, তাহলে সবকিছুই মিথ্যে হয়ে যাবে। আর এই ম্যাচ জিততে না পারলে বুঝব আমরা কোনো মানেরই ফুটবলার নই। ফুটবল নিয়ে কোনো কথা বলার অধিকারই আমাদের নেই।’

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

bhapa-pidha-pic

ব্যক্তিগত নয় দলীয় অর্জন চান তামিম

ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবাল আর বোলিংয়ে মোহাম্মদ নবি। গ্রুপ পর্ব শেষে চিটাগাং ভাইকিংসের দুই ক্রিকেটারের অবস্থান …

Mountain View