Mountain View

দুইশতাধিক নিহতের মধ্যে দিয়ে ব্যর্থ হলো তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৬, ২০১৬ at ৪:০২ অপরাহ্ণ

bg20160716152850

সরকার উৎখাতে তুরস্কের সামরিক বাহিনীর একটি অংশের প্রচেষ্টাকে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ করে দিতে সমর্থ হলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসিপ তাইপ এরদোগান।

রাতভর নানা নাটকীয় ঘটনার পর ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে ফেরত পেয়ে অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পরিণতির হুমকি দিয়েছেন তিনি।

গতকাল (শুক্রবার) ১৫ জুলাই  সারারাত ধরে চলা এই রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।

তাদের মধ্যে অভ্যুত্থানের পক্ষে বিপক্ষের সেনা সদস্যরা ছাড়াও রয়েছেন পুলিশ ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া আহত হয়ে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অন্তত এক হাজার ১৫৪ জন।

শুক্রবার (১৫ জুলাই) তুরস্কের স্থানীয় সময় এশার নামাজের পর থেকে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায় তুরস্কের সেনাবাহিনীর একাংশ। এ সময় ইস্তাম্বুলের এশীয় ও ইউরোপীয় অংশের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী সেতুগুলো বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি তারা দখল করে নেয় সরকারি টেলিভিশন টিআরটিসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের অফিস। এছাড়া প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস ও পার্লামেন্টের সামনে মোতায়েন করা হয় ট্যাংক। অভ্যুত্থানকারী সেনা সদস্যরা হামলা চালায় অাঙ্কারার পুলিশের বিশেষ বাহিনী এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়েও।

তবে সামরিক বাহিনীর সরকারপন্থী অংশ এবং ক্ষমতাসীন একে পার্টির সমর্থকদের তৎপরতায় কয়েক ঘণ্টার বেশি টিকতে পারেনি বিদ্রোহী সেনারা।

শনিবার সকালের দিকেই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার আলামত ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইস্তাম্বুল ও রাজধানী আঙ্কারার বিভিন্ন স্থানে ধীরে ধীরে আত্মসমর্পণ করতে শুরু করে অভ্যুত্থানকারী সেনা সদস্যরা। আঙ্কারায় তুরস্কের আর্মি হেডকোয়ার্টারে পুলিশের কাছে একসঙ্গে আত্মসমর্পণ করেন অভ্যুত্থানকারী ২০০ সেনা কর্মকর্তা।

অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত এক হাজার ৫৬৩ জনকে আটক করেছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। যাদের বেশিরভাগই সেনা সদস্য। তাদের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচ জন জেনারেল ও  ২৯ জন কর্নেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার ভূমধ্যসাগরীয় অবকাশ যাপন কেন্দ্র মারমারিসে ছুটি কাটাচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। সেখান থেকেই দেশের জনগণকে রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রাতের মধ্যেই ইস্তাম্বুলে ফেরত আসার অঙ্গীকার করেন।

তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাতের মধ্যেই রাজপথে নেমে আসেন সমর্থকরা। অপরদিকে শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি ছাড়াও পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।

এর মধ্যেই শনিবার ভোরে ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। সেখান থেকেই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তিনি। ভাষণকালে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে এর হোতাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দেন।

প্রেসিডেন্টের এই ভাষণের পরপরই একে একে আত্মসমর্পণ করতে শুরু করেন বিদ্রোহী সেনারা। তবে কোনো কোনো জায়গায় অভ্যুত্থানকারীরা সরকারপন্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা দুইশ’ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা শুরুর পরপরই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না তুরস্কের সেনা প্রধান জেনারেল হুলুসি আকারের। এ অবস্থায় দেশের ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল উমিত দুনদারকে নিয়োগ দেয় সরকার।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা শুরুর পরপরই বিদ্রোহী সেনাদের একটি গ্রুপ জেনারেল হুলুসি আকারকে জিম্মি করে আনকারার একিনসিলার বিমান ঘঁটিতে নিয়ে যায়। তবে শনিবার সকালে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। দেশটিতে ১৯৬০ সালে প্রথম সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। সে সময় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত করতে অভ্যুত্থান ঘটায় সেনাবাহিনী। ফাঁসিতে ঝোলানো হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আদনান মেনদারসকে। ১৯৭১ সালে আরেক দফা অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী। তবে এ দফা সরকার গঠন করেনি তারা।

১৯৮০ সালে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফের ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। দুই বছরের শাসনকালে শ’খানেক লোককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি বহু লোকের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এ সময় নিখোঁজ হন অনেক লোক।

সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য করে ফের আলোচনায় আসে ক্ষমতাশালী সামরিক বাহিনী।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View