Mountain View

দিনাজপুরে পিতা-শিশুপুত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৭, ২০১৬ at ৬:৫৪ অপরাহ্ণ

মোঃ আরিফ জাওয়াদ, দিনাজপুর: দিনাজপুরের কাহারোলে শিশু পুত্র মোঃ মুন্না (০৮) কে ফাঁস দিয়ে হত্যার পর একই রশিতে তার বাবা মোঃ জিন্নাত আলী (৩০) আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যাকারী ঐ শিশুপুত্রের বাবা রিকশা শ্রমিক জিন্নাত (৩০) জেলার কাহারোল উপজেলার পূর্ব সাদিপুর গ্রামের মৃত রোস্তম আলীর ছেলে। নিহত শিশুপুত্রের নাম মুন্না (৮)। সে সাধনা আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে।

১৭ই জুলাই (রবিবার) দুপুর ১টায় জেলার কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পুর্ব সাদিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জিন্নাত আলীর চাচাতো ভাই সফর আলী জানান, জিন্নাত আলীর প্রথম স্ত্রী মোছাঃ ময়ফুল বেগম ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকুরী করার সময় মুন্না রেখে আরেক জনের সাথে পালিয়ে যায়। এরপর জিন্নাত আলী অনেক চেষ্টা করেও তাকে আর খুঁজে পায়নি। কিন্তু সে প্রথম স্ত্রীকে ভুলতে পারছিলেন না। সে কারণে প্রায়ই সে ঢাকায় গিয়ে রিক্সা চালাত তার সাথে যোগাযোগ করা জন্য। শেষে বিফল হয়ে ২ বছর পুর্বে রংপুরে মোছাঃ শাহিদা বানু (২৩) কে বিয়ে করে। এর মধ্যে জিন্নাত হোসেন নতুন সংসারে একটি পুত্র সন্তান আসে। তার বয়স ৭মাস। ঈদের আগে শাহিদা বানু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ী রংপুরে যায়। তিনি এখন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছেন।

এ দিকে নিহতের মা তারা বানু জানান, জিন্নাত আলীর প্রথম স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তার একমাত্র সন্তান মোঃ মুন্না আমার কাছে থাকে। আজ ১৭ই জুলাই (রবিবার) সকালে তাকে বাড়ীতে রেখে আমি দশমাইলে হোটেলে কাজ করতে যাই। দুপুরে বাড়ীতে ফিরে এসে দেখি বাবা এবং ছেলে একই রশিতে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে আছে।

কাহারোল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আলী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জিন্নাত হতাশা থেকে নিজের শিশুপুত্র মুন্নাকে ঘরের ভেতরে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছে। জিন্নাতের আলীর শয়ন কক্ষ হতে একটি রশিতে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ শ্রীঘই শুরু করা হবে, বলে জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View