ঢাকা : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, বুধবার, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

অবিরাম বর্ষণের মধ্যেও গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন ভক্তদের অংশগ্রহণে পালিত হয়েছে চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। হিমু পরিবহনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তার ভক্তরা মঙ্গলবার সকাল থেকেই নুহাশ পল্লীর হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। গাজীপুর জেলার পিরুজালী গ্রামের নুহাশ পল্লী ছিল বৃষ্টি আর ফুলেল মিশ্রিত।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে হিমু পরিবারের সদস্যরা হুমায়ূন কবরে পুষ্পার্ঘ্য দেন। পরে তারা বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে ক্যান্সার সচেতনতার ওপর দর্শণার্থীদের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।
নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বাবুল জানান, হুমায়ূন স্যারের ভাই প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, উম্মাদ সম্পাদক আহসান হাবীব, ছেলে নুহাশ হুমায়ুনসহ প্রকাশকেরা তার কবর জিয়ারত করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছেলে নিশাদ ও নিনিতকে নিয়ে সোমবার রাতেই নুহাশ পল্লীতে এসে পৌঁছেন। তারা মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কবরে পুষ্পার্ঘ্য দেন।
তিনি এসময় সাংবাদিকদের বলেন, হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের মধ্যে ছিল সামগ্রিক বাংলাদেশ, তার পর ছিল নিজস্ব স্বপ্ন। সবচেয়ে বেশি মিস করি সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠ।
হুমায়ূন স্মৃতি যাদুঘর সম্পর্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে হুমায়ূন স্মৃতি যাদুঘরটি স্থান ঠিক করা হয়েছে ওনার প্রিয় নুহাশ পল্লীতে। যাতে হুমায়ূন বক্তরা নুহাশে এসেই ওনার প্রিয় ব্যবহৃত জিনিসগুলো দেখতে পারেন, খুব সহজে জানতে পারেন হুমায়ূন সম্পর্কে।
তিনি বলেন, সবখানেই হুমায়ূন আহমেদের উপস্থিতি টের পাই। সবখানেই হুমায়ূন আছেন, থাকবেন। বাবার কবরে ফুলেল শুভেচ্ছার পর নিষাত ও নিনিত দুটি খেজুর গাছ রোপন করে। এ সময় শাওনের পাশে ছিলেন তার বাবা মোহাম্মদ আলী, মা জুহুরা আলীসহ আরো অনেকে।
দিনটি উপলক্ষ্যে নুহাশ পল্লীতে কোরানখানি, আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া মাহফিল, স্থানীয় বিভিন্ন এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। ১৯৬৫ সালে বগুড়া জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতক ও ১৯৭২ সালে স্নাতকোত্তর পাস করেন।
১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। নব্বই দশকের মাঝামাঝি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণ করে লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরীপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা, জননীর গল্প প্রভৃতি।
পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবন মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা ও নয় নম্বর বিপদ সংকেত। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ও জয় করেছে দর্শক ও সমালোচকদের মন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

চিরিরবন্দরে বিদ্যালয় ভবন না থাকায় পাঠদান হচ্ছে মাঠে

চিরিরবন্দর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুর চিরিরবন্দর আব্দুলপুর আন্ধার মুহা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬৩ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য ভবন না …

Mountain View

আপনার-মন্তব্য