ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১১:২১ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

আন্তর্জাতিক মানের না হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে চাই না

al almin 2

পিচ্চি আল-আমিন কিংবা আল-আমিন-২ যেভাবেই বলি না কেন ক্রিকেটাঙ্গনে বেশ পরিচিত একটি নাম ‘আল-আমিন’। মিরপুরের ক্রিকেট পাড়ায় কান পাতলেই যে কেউ তা শুনতে পারবেন।

পেসার আল-আমিন এখন বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিত। ব্যাটসম্যান আল-আমিন আছেন পাইপলাইনে। ব্যাটিংয়ে আগ্রাসন, বোলিংয়ে বিচক্ষণতা, ফিল্ডিংয়ে দূরন্তপণা- তিনের মিশেলে আল-আমিন দারুণ এক প্যাকেজ। পকেট ডায়নামাইটও বলা যেতে পারে। উচ্চতা মুমিনুল, মুশফিকের সমান বলেই পকেট ডায়নামাইট উপাধি দেওয়া। তবে যেই প্রতিভা ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখিয়ে যাচ্ছেন তাতে মুশফিক-মুমিনুলও হার মানতে বাধ্য!

৪৮ গড়ে ৬৭২ রান, স্ট্রাইক রেট ৮৮.০৭। রান সংগ্রহের তালিকায় চতুর্থ। বল হাতে ১৬ উইকেট। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা পারফরমার আল-আমিন মুখোমুখি হলেন রাইজিংবিডির ক্রীড়া বিভাগের। একান্ত আলাপচারিতায় আল-আমিন ক্রিকেট ও ক্রিকেটের বাইরের অনেক কিছু নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইয়াসিন হাসান

ইয়াসিন হাসান : নিজের কোন নামটি বেশ পছন্দের? পিচ্চি আল-আমিন নাকি আল-আমিন ২?

আল-আমিন : শুধু আল-আমিন হলেই ভালো হত। আল-আমিনই ভালো লাগে। ওই দুটো বাদে তো ব্যাটসম্যান আল-আমিন বলেই অনেকে চিনে। ওটাই শুনতে বেশি ভালো লাগে।

ইয়াসিন হাসান : পেসার আল-আমিন না থাকলে হয়ত ভালো হত? আপনাকে শুধু আল-আমিন বলেই চিনত?

আল-আমিন :  সেটা তো হতই। কী আর করা বলেন।

ইয়াসিন হাসান : খেলাধুলা নেই। ব্যস্ততা কি নিয়ে?

আল-আমিন : এখন আপাতত ফ্রি। কোনো ব্যস্ততা নেই। ১৭ জুলাই থেকে এইচপি ক্যাম্প শুরু হচ্ছে। সেটা নিয়ে আপাতত নিজের সব ভাবনা।

ইয়াসিন হাসান : এইচপি ক্যাম্প নিয়ে একটু পর কথা বলছি। আপনার ক্রিকেটের শুরুটা একটু জানতে চাই?

আল-আমিন : নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট দিয়ে আমার যাত্রা শুরু। এরপর অনূর্ধ্ব-১৩, ১৫ ও ১৭ হয়ে ১৯ দলে খেলেছি। ২০১২ যুব বিশ্বকাপে সৌম্য, বিজয়দের সঙ্গে খেলেছি যুব বিশ্বকাপ।

ইয়াসিন হাসান : পরিবারের সহযোগীতা পেয়েছেন যখন ক্রিকেট শুরু করেছেন?

আল-আমিন : না বাসা থেকে কেউই খেলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। আমি ঢাকায় বড় হয়েছি। ছয় ভাইয়ের মধ্যে আমি সবার ছোট, তিন বোনের মধ্যে আমার পরে ছোট একটা বোন আছে। আমার ইমিডিয়েট বড় ভাই অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের ফুটবল ক্যাম্পে ডাক পেলে পরবর্তীতে আর খেলেনি। এছাড়া আমার সেজো ভাই মোহাম্মদ নিজাম আমাকে বেশ সাপোর্ট করেছে। উনি আমাকে মাঠে নিয়ে যেত। উনি বাসায় এসে বাবা-মাকে বলেছে, ‘ওর ভালো করা সম্ভব। ভালো কোচের কাছে অনুশীলন করলে ভালো করবে।’ এছাড়া আর কোনো ভাই-বোনের খেলার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ ছিল না। টেপ টেনিস যখন খেলা শুরু করি তখন অনেক জায়গা খ্যাপ খেলতে যেতাম। পরিবারের অনেকেই সেটা পছন্দ করত না। কিন্তু পরে যখন দেখল আমার মধ্যে কিছুটা প্রতিভা আছে তখন আর বাঁধা দেয়নি।

ইয়াসিন হাসান : ছোট ছিলেন বলে কি সহজেই সব কিছু পেয়ে যেতেন?

আল-আমিন : হ্যাঁ, বলতে পারেন। কারণ ছোট ছিলাম বলে কোনো চাপ ছিল না। যখন যেটা খুশি সেটা করেছি। ভাইয়ারা সাপোর্ট করেছে।

ইয়াসিন হাসান : ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা জন্মালো কিভাবে?

আল-আমিন : টিভিতে শচীন টেন্ডুলকার ও আমাদের মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাটিং দেখতাম। খুবই ভালো লাগত। সেখান থেকেই শুরু। আশরাফুল ভাইকে দেখেই খেলায় এসেছি বলতে পারেন। উনার খেলা দেখার জন্যে টিভির সামনে বসে থাকতাম। এখন একটা স্বপ্ন আছে উনার সঙ্গে একসঙ্গে খেলব। আমার প্রথম জাতীয় লিগে খেলার একটা সুযোগ ছিল। আমি খেললেও উনি খেলতে পারেননি।

ইয়াসিন হাসান : আশরাফুলের কোন জিনিসটা আপনার বেশি মনে ধরেছে?

আল-আমিন : একটা সময় দেখা যেত বোলাররা এসে ম্যাচে ডোমিনেট করত। আর আশরাফুল ভাই মাঠে নামার পর উনি বোলারদের ডোমিনেট করতেন। এটাই ভিন্ন। মাঠের পরিস্থিতি কি আছে সেটা উনার কাছে মূখ্য থাকত না। উনি নামত উনি উনার মত খেলত। উনার এই সাহস খুব কম ক্রিকেটারের আছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে উনার যেই সেঞ্চুরিটি আছে সেটা অসাধারণ। সেটা মনে করার মত। বড় বড় বোলারদের বিপক্ষে ওই সময়ে সেঞ্চুরি করা কেউ চিন্তাও করত না। আশরাফুল ভাই ওটাই করেছে।

ইয়াসিন হাসান : আপনার ছোটবেলার তারকা আশরাফুল। বড় হয়ে কি সেটা পরিবর্তন হয়েছে?

আল-আমিন : এখনও আশরাফুল ভাই আমার কাছে তারকা। দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লার্ককে ভালো লাগে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *