ঢাকা : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
সর্বশেষ
রামগঞ্জে ১১টাকার জন্য স্কুলছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেয়ার অনুমতি চাচ্ছে জাতিসঙ্ঘ : সাড়া দিচ্ছে না সরকার এবার রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকড বাচা-মরার লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে রংপুর রাইডার্স শীর্ষস্থান সহ শীর্ষ দশের বাংলাদেশেরই সাত কারখানা প্রতিবন্ধীদের সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের ভেতরে রোহিঙ্গার সমস্যার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দুষলেন সু চি ৫৫০ ছবি নিয়ে আজ থেকে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব রোহিঙ্গাবোঝাই চারটি নৌকা ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি মনে হচ্ছিল এটা আইপিএল ম্যাচ: ব্রাভো
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

চুলকাটার পাঁচালি

chou

আমি একথা-সেকথার পশরা নিয়ে যখন-তখন আপনাদের সামনে হাজির হয়ে যাই। কোনো নোটিশ ছাড়াই আমার এলোমেলো-অগোছাল লেখালেখি ফি সপ্তাহ আপনাদের মনিটর-স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। কেউ পড়েন, কেউ পড়েন না। যাঁরা পড়েন, তাঁদের কাছেও সব লেখা একরকম লাগে না। কোনোটা হয়ত ভালো লাগে, কোনোটা আবার বিরক্তিরও জন্ম দেয়। সে যা-ই হোক, এতে আমার খুব একটা পেরেশানি হয় না, কারণ লেখা মনমতো না হলেও ভদ্রতার খাতিরে আপনারা কেউ আমাকে কখনো বাজে কথা শোনান না। এ আমার সৌভাগ্য ছাড়া আর কী! তা-ই বলে আপনারা নিশ্চয়ই ভাবেননি যে, আমি কখনো এই ফোরামে চুলকাটার গল্প পাড়ব। সত্যি বলতে কী, আমিও ভাবিনি। হঠাৎ কেন এ বিষয়ের অবতারণা, সেকথায় আসব পরে, তার আগে বলে নেই আমার আজকের চুলকাটার বয়ান।

এখনকার কথা জানি না, তবে আগেকার দিনে বাংলাদেশে, এমন কি উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও চুলকাটা শিখতে কারো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের দরকার হতো না। যাঁদের এ কাজে আগ্রহ ছিল তাঁরা নিজ বাড়িতে ছোটদের চুল কাটতে কাটতে নিজে নিজেই ভালো চুলকাটা শিখে ফেলতেন। এভাবে যাঁরা চুলকাটা শিখতেন এবং কাটতেন তাঁদেরকে কেউ নাপিত বলত না, কিন্তু গ্রামজুড়ে তাঁদের আলাদা একটা কদর ছিল, কারণ অবসর সময়ে বিনে পয়সায় তাঁরা প্রতিবেশীদের চুল কেটে দিতেন। সে যুগে গ্রামীণ মানুষের অবসর ছিল দু’ধরনের। প্রথমত, জমি তৈরি করে ফসল ফলানো এবং ফসল কাটার সময়গুলো বাদ দিলে বাকি থাকে যে অফুরন্ত সময় তার সবই ছিল অবসর-বিশ্রামের আধার। এ সময়ে মাছধরা, জালবোনা, ঘর-দরজার মেরামতি ইত্যাদির সাথে সখের কাজ চুলকাটাও চলত গ্রামে গ্রামে।

দ্বিতীয়ত, ভর ব্যস্ততার মৌসুমেও মাঝে মাঝে মানুষজন আলস্যে আনমনা হয়ে ওঠতেন যখন ঘন কালো মেঘ দিনের পর দিন আকাশ ঢেকে রাখত, আর ঝড়ো বাতাস ও বিজলি চমকের সাথে অবিরাম ঝরাত বড় বড় ফোঁটার বৃষ্টি। ওই রকম দিনে মেয়েরা কাঁথা সেলাই ও রান্নাবান্নায় ব্যস্ত থাকলেও পুরুষরা সময় কাটাতেন পুঁথি পড়ে, কেচ্ছা শুনে, আষাঢ়ে গল্প করে ও মঙ্গল কাটাকাটি খেলে। এর ফাঁকে ফাঁকে এবাড়ি-ওবাড়ি থেকে ডাক আসত চুলকাটার লোকদের। এমন সময়ে প্রতিবেশীদের অপেশাদারি সেবা দিয়ে কিছু কৃতী পুরুষ কুড়াতেন একজাতের আত্মতৃপ্তি ও মনের আনন্দ। যাঁরা এ কাজ করতেন তাঁরা সবাই গরিব কৃষক, কিন্তু গরিবি হালত হলেও তাঁদের মনের প্রশস্ততা ছিল অতুলনীয়! অন্যের চুল কেটে দু’পয়সা কামাই করার কথা তাঁরা কখনো ভাবতেন না।

উনিশ শ’ পঞ্চাশ/ষাট-এরদশকে দেখেছি বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ এমনই ছিল। এখন গ্রামে যেমন প্রাচুর্য এসেছে তেমনি জীবন হয়েছে কৃত্রিম, বাজারনির্ভর ও যান্ত্রিক। তবে তার মানে এই নয় যে, সেকালে গ্রামগঞ্জে কোনো পেশাদার নাপিত ছিলেন না। তাঁরাও ছিলেন বটে, কিন্তু প্রায় সবাই নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তাঁরা কৃষিকাজের সাথে চুলকাটাকে দ্বিতীয় পেশা হিসেবে ধারণ ও লালন করতেন এবং তাঁদের এ পেশাদারিত্ব চলত বংশপরম্পরায়। তাঁরা ঘরে বাপ-দাদার কাছেই চুলকাটা শিখতেন এবং কেউ কেউ নিয়ম করে গ্রামের জমিদার-মহাজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল কাটতেন। হাটের দিন বিকেল বেলা বাজারে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাস্তার ধারে মাটিতে পিড়ি পেতে চুলকাটার দোকান বসাতেন। এক মাথা কাটলে মজুরি জুটত বড়জোর একটি সিকি। সে সময়ে গ্রামদেশে বকশিশ বা টিপস্-এর কোনো বালাই ছিল না। বাজারে অথবা গঞ্জে যেসব নাপিতের স্থায়ী দোকানঘর ছিল তাঁরা চুল কাটার জন্য কারো বাড়িতে যেতেন না। তাঁদের ব্যবসা দোকানেই চলত, সকাল-সন্ধ্যা, সপ্তাহের সাত দিন।

এ সব দোকানে যতটা না চুলকাটা হতো, তার চেয়ে বেশি জমতো রাজা উজির মারা মুখরোচক গল্প ও আড্ডা। নাপিতের দোকানে গেলেই আশপাশে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা অঘটনের তাজাখবর পাওয়া যেত। শুধু তাই নয়, নাপিতরা আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতি এবং দেশ-বিদেশের খবরও রাখতেন এবং ভালোই রাখতেন। এ কথা কেবল বাংলাদেশে নয়, পাশ্চাত্য দেশেও সমানভাবে প্রযোজ্য। ইলিনয়ের চার্লস্টনে এক নাপিতের দোকানের নামই ছিল ‘Talk of the Town’, যেখানে আমি এক দিন চুলও কাটিয়েছি। এত কিছুর পরও চুল কাটাকাটি নিয়ে পূব-পশ্চিমে কিছুটা পার্থক্যও আছে। এখানে চুলকাটা কেবল পেশাই নয়, এটি একটি শিল্পও বটে। কাজটি শিখতে স্কুলে যেতে হয় – দশ মাস থেকে এক বছরের কোর্স নিতে হয়। পড়ালেখা আছে, লিখিত পরীক্ষা আছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো হাতেকলমে চুলকাটার প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। লিখিত এবং প্রয়োগিক পরীক্ষায় পাশ করলে সার্টিফিকেটও দেয়া হয়। সার্টিফিকেট ছাড়া ইউরোপ-আমেরিকায় চুলকাটাকে কেউ পেশা হিসেবে নিতে পারেন না। যাঁরা এ পেশায় নিয়োজিত হন তাঁরা পয়সার বিনিময়ে চুল কাটেন। কেউ নিজের দোকানে এ সেবা বিক্রি করেন, কেউ বেতনভুক কর্মচারী হিসেবে অন্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

চুলকাটার পেশাদার লোকদের এদেশে বলে Barber, বাংলা ভাষায় যাকে বলা হয় নাপিত। নাপিতরা হচ্ছেন এ পেশার আদি করিৎকর্মা পুরুষ। দুনিয়াজোড়া তাঁদের রয়ছে ৫ হাজার বছরেরও দীর্ঘ একটি গৌরোবজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এখানে একটি মজার ব্যাপার লক্ষ করার মতো – নাপিতদের কর্মপরিধি সময়ের সাথে এক দিকে সঙ্কুচিত হয়েছে, আবার অন্যদিকে সম্প্রসারিতও হয়েছে। কিভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে সেটা আগে দেখা যাক। আজকাল নাপিতরা প্রধানত চুল কাটেন, তার সাথে আরো দু’একটি কাজ করেন- যেমন দাড়িগোঁফ কামানো, গোঁফ, চোখের ভুরু এবং কানের লোম ছাঁটা ইত্যাদি, ইত্যাদি। যদি পঞ্চাশ বছর আগের নাপিতদের কাজের দিকে তাকান তবে দেখতে পাবেন তাঁদের কর্মপরিধি ছিল আরো বড়। যেমন তাঁরা চুলকাটার সাথে সাথে নোখ কাটতেন, কানের খইল পরিষ্কার করতেন, মাথা ও ঘাড় মালিশ করে দিতেন। এ তো গেল আধুনিক সময়ের কথা।

প্রাচীন ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করলে দেখা যায়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির আগে ১২ শতকের প্রায় মাঝামাঝি থেকে ১৬ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত ইউরোপ-আমেরিকায় নাপিতরা কেবল নাপিতই ছিলেন না, তাঁরা দস্তুরমতো ডেন্টিস্ট এবং সার্জনের কাজও করতেন। দাঁত তোলা, দাঁতের যাবতীয় চিকিৎসা, শিরা কেটে মানুষের শরীর থেকে রক্ত ঝরানো (Bloodletting), ভাঙা ও নড়ে যাওয়া হাড় পুনঃস্থাপন করা (Setting bones), এবং অন্যান্য জখমের চিকিৎসা (Treating wounds), ফোঁড়া কাটাসহ মানবদেহে ছোটখাট অস্ত্রোপচারের মতো কাজও তাঁরা অনায়াসে করে যেতেন। রক্ত ঝরানোর কারণটি নিশ্চয়ই জানেন। তখন মনে করা হতো শরীর থেকে রক্ত বের করে ফেলে দিলে, গলাব্যথা (Soar throat), প্লেগ (Plague) এবং আরো অনেক জটিল রোগ এমনিতেই সেরে যায়। ১১৬০-এর দশকে হঠাৎ করে নাপিতরা কিভাবে ডাক্তার হয়ে ওঠলেন তারও একটা সুন্দর ইতিহাস আছে, তবে সেদিকে এখন আর যাচ্ছি না।

চুলকাটা লোকদের ডাক্তারি তত্ত্বের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ‘নাপিত-দণ্ড’ কিংবা ‘Barber’s pole’-এর ইতিহাস ও তাৎপর্য। বাংলাদেশে কখনো দেখিনি, তবে ইউরোপ-আমেরিকায় নাপিতের দোকানের সামনে অথবা তাঁর দোকানঘরের দরজার ওপর শোভা পায় একটি রঙিন নাপিত-দণ্ড যাতে লোকজন দূর থেকে নিশ্চিত হতে পারেন নাপিতের অবস্থান সম্পর্কে। দণ্ডটি হতে পারে কাঠের অথবা গ্লাসের তৈরি, কোনো ধাতব বস্তুজাত, অথবা প্লাস্টিক দিয়ে বানানো। আধুনিক নাপিত-দণ্ড প্রায় সবই বৈদ্যুতিক, এবং দিনরাত বর্ণিল আলোয় ঝলমল করতে থাকে।   ইউরোপ এবং আমেরিকার নাপিত-দণ্ডের মধ্যে সামান্য একটু তফাৎও রয়েছে। ইউরোপীয় নাপিত-দণ্ড দ্বিবর্ণবিশিষ্ট। এখানে লাল এবং সাদা রঙ যথাক্রমে, Bloodletting এবং Bandage-এর প্রতীক। আমেরিকান নাপিত-দণ্ডে নীল রঙটা অতিরিক্ত। এর অর্থ মানবদেহের শিরা- যার ভেতর দিয়ে লাল রক্ত বয়ে যায়, কিন্তু বাইরে থেকে দেখতে নীল লাগে। পাশ্চাত্য জগতে নাপিতদের ডাক্তারি চর্চা শেষ হয়ে যায় ১৫০০ সালের দিকে, কিন্তু নাপিত-দণ্ড এখনো বহাল তবিয়তে খাড়া আছে নাপিতদের দোকানে দোকানে।

এ ছাড়াও জানা যায়, পুরো ইউরোপ মহাদেশে ১৭৪৫ সাল পর্যন্ত নাপিত এবং সার্জনরা একই গিল্ডের সদস্য ছিলেন। তাই ঐতিহাসিকভাবে নাপিতদের বলা যায় ডেন্টিস্ট ও সার্জনদের ফার্স্ট কাজিন। এ জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য শুধু পশ্চিমাদেশেই নয়, ভারতবর্ষেও আছে, কিন্তু তার বিবর্তন কাহিনি আমার জানা নেই। নাপিতদের ডাক্তারি নিয়ে একটি মজার গল্প শুনেছি বন্ধু মাহবুবের কাছে। পড়ে দেখুন আপনাদের কাছে কেমন লাগে। একবার তিন বন্ধু লেখাপড়া করে ডাক্তারি সার্টিফিকেট নিয়ে এক ছোট্ট শহরে এসে ব্যবসা শুরু করলেন। প্রথম দিকে কিছু প্রচার-প্রচারণাও চালালেন। কিছুদিন যাওয়ার পর হতাশার সাথে লক্ষ করলেন, তাঁদের ক্লিনিকে কোনো রোগী আসেন না। শহরের সব রোগী চলে যান নাপিতের দোকানে, যে নাপিত অনেক দিন ধরে চুলকাটার সাথে শহরবাসীকে ডাক্তারি সেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সময়ের সাথেও অবস্থার যখন কোনো পরিবর্তন হল না, তখন তিন বন্ধু নাপিতের কাছে গিয়ে বললেন, ‘আমরা সনদপ্রাপ্ত ডাক্তার। তুমি যদি রাজি হও তাহলে আমরা তোমাকে কিছু ডাক্তারি বিদ্যা শিখিয়ে দিতে পারি।

এতে তুমি তোমার রোগীদের আরো উন্নত মানের সেবা দিতে পারবে’। নাপিত খুশি মনে রাজি হয়ে গেলেন। তিন বন্ধু নাপিতের সাথে কয়েকটি ক্লাস নিলেন। তাঁকে ছবি দেখিয়ে শিখিয়ে দিলেন মানবদেহে কোন হাড়ের অবস্থান কোথায়, কোনটা বসাতে গেলে কোনটা নড়ে যেতে পারে, কোন শিরা উপশিরা কোনদিকে গেছে, কোনটা কাটতে গেলে কোনটা কেটে যাওয়ার ঝুঁকি আছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। নাপিত ডাক্তারি শিখে নতুন উদ্যমে চিকিৎসা শুরু করলেন, এবং বুঝতে পারলেন আগে তিনি যে কাজ, আস্থা ও সাহসের সাথে সহজে ও নির্দ্বিধায় করতে পারতেন, এখন সেই কাজ করতে তাঁর হাত কাঁপে, সময় লাগে বেশি, কাজও ভালো হয় না। কারণ, আগে তিনি অ্যানাটমি-ফিজিওলজি কিছুই জানতেন না, ইচ্ছেমত ক্ষুর চালাতেন, ইচ্ছেমত গায়ের জোরে হাড় বসাতেন। এখন ফোঁড়া কাটতে গেলে তাঁর হাত কাঁপে, যদি অন্য শিরা-উপশিরা কেটে যায়, হাড় বসাতেও ভয় হয়, একটা টানলে যদি আরেকটা ভেঙে যায়। রোগীরাও যখন বুঝতে পারলেন, নাপিত আগের মতো চিকিৎসা দিতে পারছেন না, তখন তাঁরা, তিন ডাক্তারের ক্লিনিকে গিয়ে ভিড় জমাতে শুরু করলেন। বর্তমানকালে নাপিতদের পেশা সীমিত হতে হতে কেবল চুলকাটায় এসে থিতু হয়েছে।

অন্যদিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, আজকাল সার্বিকভাবে চুলকাটার পেশাটা সম্প্রসারিতও হয়েছে। আগে নাপিতের দোকানে পুরুষ মানুষই কেবল চুলদাড়ি কাটাতেন। জগতের সর্বত্রই নাপিতের দোকানের পরিবেশটাও ছিল ষোল আনা পুরুষতান্ত্রিক। শুধু তাই নয়, পুরুষদেরও চুলকাটার একটা নির্দিষ্ট ধরন ছিল। নাপিতরা পুরুষদের চুল অত্যন্ত সহজ সরলভাবে ছোট করে কেটেছেঁটে দিতেন। এ কাজে তাঁরা ফ্যাশন-ভূষণ করতেন না, তার ধারও ধারতেন না। এখন সব পুরুষ ছোট করে চুল কাটেন না। কেউ লম্বা চুল লম্বা রেখেই স্টাইল করেন, নিত্যনতুন ফ্যাশন-এর সাথে করেন ডাইয়িং, ট্রিমিং, ক্রাফ্টিং, হাইলাইটিং ইত্যাদি, ইত্যাদি। এগুলো কিন্তু নাপিত বা ‘Barber’ এর কাজ নয়। আধুনিক জমানায় যাঁরা এসব কাজ করেন তাঁদেরকে বলে ‘Hairdresser’। অধিকাংশ ‘Hairdresser’, ‘Chain Hairdressing Salon’-এ বসে চুলের সেবা বিক্রি করেন। নাপিতদের সাথে ‘Hairdresser’দের পার্থক্য আছে। নাপিতরা শুধুই পুরুষদের চুল কাটেন, তাও অত্যন্ত সহজ সরলভাবে ছোট করে কাটেন। ‘Hairdresser’রাও পুরুষের চুল কাটেন তবে তাঁদের কাটায় নানা রঙ ও ঢঙ মেশানো থাকে, থাকে অনেক কারুকাজ করা স্টাইল। Hairdressing Salon-এ শুধু পুরুষ মানুষের জন্য কমপক্ষে ২৫/৩০ কিসিমের চুলকাটা হয়ে থাকে যেমন – আর্চকাট, বোল্ডকাট, ব্যাঙ্গস্কাট, ব্লকড্কাট, নেপকাট, বোলকাট, বাজ্কাট, সিজারকাট, ক্ল্যাসিক টেপার কাট, ক্রুকাট, ফেডকাট, ফ্ল্যাটটপকাট, গ্র্যাজুয়েশনকাট, হাই অ্যান্ড টাইট কাট, আইভি লীগ কাট, মুলেটকাট, লেয়ারকাট, পম্পেডোরকাট, সাইডবার্নস্কাট, নেপকাট, শ্যাগকাট, টেক্সারকাট, টেপার্ডনেপকাট, ট্র্যামলাইন্সকাট (চ্যানেলিংকাট), আন্ডারকাট, হোয়াইটওয়ালকাট, ইত্যাদি ইত্যাদি।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

resize66140-bdallnews24

দোষ শুধু বদরুলের, ছাত্রলীগের নয়!

আমার স্ত্রী শীলা আহমেদকে চেনেন অনেকে। আগুনের পরশমণি আর আজ রবিবার-এর সময় সে ছিল মিষ্টি …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *