ঢাকা : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, বুধবার, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ভাল ফলাফলের পাশাপাশি সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে

interviews education board

২০১৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী। গড় পাশের হার ৮৮.২৯ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন। পাশের হার গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫।

অপরদিকে ৪৭৩৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাশের গৌরব অর্জন করলেও শতভাগ ফেল করেছে ৫৩টি স্কুলে। ফলাফল ও শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আগামীর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডটকম’র সাথে কথা হয়, রাজধানীর “আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম’র ”। সাক্ষাৎকার টি নিয়েছেন বিডিটুয়েন্টি ফোর লাইভের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট এম এস আজীম।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: কেমন আছেন? পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কতটা আশাবাদী আপনি?

ড. শাহান আরা বেগম: স্রষ্টার কৃপায় ভাল আছি। বরাবরে মতই এবারেও শিক্ষার্থীদের ভাল ফলাফলে আমি সন্তুষ্ট। আমি চাই প্রত্যেকটা ছাত্রছাত্রী যেন ভাল ফলাফলের পাশাপাশি সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: এখন তো আর প্রথম, দ্বিতীয় বা সেরা স্কুলের তালিকা হয় না। এই বিষয়ে একটু বলবেন?

ড. শাহান আরা বেগম: আসলে সেরা স্কুলের তালিকা যে ভিত্তিতে দেওয়া হতো, সেটা পরিপূর্ণ পদ্ধতি ছিল না। সেখানে দেখা গেছে বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। অনেক নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান, কিভাবে প্রথম হওয়া যায়, সেই প্রক্রিয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতেন। অনেকে অনৈতিক পন্থাও অবলম্বন করতেন। বিভিন্ন ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পরে এটা বন্ধ হয়েছে। ধরেন কোন প্রতিষ্ঠানে ৫০ জন পরীক্ষা দিল একই সাথে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে ১৫০০ জন পরীক্ষা দিল। সেখানে ৫০ জনে ৫০ জন জিপিএ-ফাইভ পাওয়া খুবই সহজ। যেখানে ১৫০০ জন পরীক্ষা দিবে সেখানে এটাই খুবই কঠিন। এখানেই বড় একটা বৈষম্য তৈরি হয়ে যায়। এই পদ্ধতি টা যৌক্তিক ছিল না।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: এর বিকল্প কি হতে পারে?

ড. শাহান আরা বেগম: এখন যেহেতু মার্কসিটের পাশাপাশি নম্বর জানা যাচ্ছে। তাই “টপ টুয়েন্টি মেধাবী”র একটা তালিকা বোর্ড চাইলে করতে পারে। তখন ছেলে মেয়েরা উৎসাহিত হবে বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য। এখন যেমন তাদের চিন্তা থাকে কোন রকমে ৮০ নম্বর পেলেই হলো। তখন আর এটা থাকবে না।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: গতবছর জিপিএ- ৫ পেয়েছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী। এ বছর পেয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন। আগের থেকে কিছুটা কম। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

ড. শাহান আরা বেগম: এখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা ভাব চলে এসেছে পরীক্ষা দিলেই তো জিপিএ-৫ পাই। দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় কম নম্বর পায়, কিন্তু বোর্ডে গিয়ে বেশি পায়, এই প্রচলিত ধারণাই কাল হয়েছে এখন। প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার খাতা যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, বোর্ডের খাতায় সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের প্রশ্ন কঠিন জিপিএ কমার কারণ কি না?

ড. শাহান আরা বেগম: এটা কেন হবে। তাঁর তো চতুর্থ বিষয় আছে।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: প্রতি বছর জিপিএ-৫ বেড়েছে। এবার হঠাৎ করে কমে যাওয়ার কারণ কি বলে মনে হয়?

ড. শাহান আরা বেগম: গনিতে’র ‘সৃজনশীল’ এর সাথে অনেক ছাত্র-ছাত্রী অভ্যস্থ হতে পারে নি। সকল শিক্ষকরাও এখন গনিতে সৃজনশীলের সাথে পুরপুরি ট্রেনিং প্রাপ্ত হতে পারে নি। একটু পড়লেই জিপিএ-৫ তো পাবোই এই ধারণা শিক্ষার্থীদের ত্যাগ করতে হবে।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: গনিতের সৃজনশীলটা আপনারা কি ভাবে নিয়েছেন? প্রস্তুতি কেমন ছিল? সাথে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ?

ড. শাহান আরা বেগম: সরকার কর্তৃক আমাদের যে সকল শিক্ষকদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ফিরে আসার পর স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদেরকে নিয়ে স্কুলে টিচারদের আলাদা ওয়ার্কশপ করিয়েছি। মফস্বলের স্কুলগুলোর জন্য এই পদ্ধতি হঠাৎ করে দুরূহ ছিল। সেখানকার অনেক শিক্ষকই ট্রেনিং পায় নি।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: পরীক্ষায় ফেল করছে অনেকে। তাছাড়া এবার ৫৩ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করেছে। এখানে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কোন দূর্বলতা আছে কিনা?

ড. শাহান আরা বেগম: “পাশ করাটাই সুজা, বরং ফেল করাটাই এখন কঠিন”। পাস করার জন্য খুব বেশি পড়তে হয়না। প্রতিষ্ঠানের কিছু কিছু দুর্বলতা তো আছেই। তবে পাস করাটা একান্তই শিক্ষার্থীর উপর নির্ভর করে।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: উচ্চমাধ্যমিকে (এইএসসি) তে অনলাইনে ভর্তি নিয়ে গত বছর অনেক ঝামেলা হয়েছে। এ বছর প্রক্রিয়াটি কতটুকু সহজ হবে বলে মনে করছেন?

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: গত বছর এসএমএস (মোবাইল ম্যাসেজ) এর সাথে হঠাৎ করে অনলাইনে আবেদনের কথা বলা হয়। অনেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারে নি। অনেক স্কুল নিজেই আবেদন করে দিয়েছে তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য। একবার অনলাইনে আবেদন করলে দ্বিতীয় বার আর অনলাইনে আবেদন করা যেত না। যার কারণে এ সমস্যাটা রয়ে গেছে। অনলাইনে ১০টা কলেজে আবেদন করতে পারতো, কিন্তু এসএমএস এ একটা কলেজে আবেদন করতে পারতো। এবং প্রতি এসএমএস এ ১২০ টাকা করে লাগতো। একটা ম্যাসেজে ৫-৭ টা কলেজের নাম লেখা যায় না? এটা লেখা যেতে পারতো। প্রত্যন্ত অনেক অঞ্চলেও অনলাইনের অতটা ব্যাপকতা না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে অনেককে।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: প্রতি বছরই ভর্তি-ফি নিয়ে সমালোচনা হয়। উন্নত ব্যবস্থাপনার নামে অনেক কলেজে উচ্চ ভর্তি-ফি নেওয়া হয়। এ বছর তাঁর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে করছেন?

ড. শাহান আরা বেগম: প্রতিটা কলেজেই কি একই রকম টাকা নিয়ে ভর্তি করাচ্ছে? কেউ নিচ্ছে নয় হাজার কেউ ২৯ হাজার! এখানে উন্নত সুবিধার নামে অনেক নামি বেনামি কলেজ এই অপকর্ম করছে। এটা বোর্ড ও মন্ত্রণালইয়ের কঠিন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে একটু বলবেন?

ড. শাহান আরা বেগম: ছাত্র-ছাত্রীরা মানসিক ভাবে ফিট থাকলেও, আজকাল অনেক শিক্ষার্থীই অসুস্থ হয়ে যায় একটুতেই। কেউ শাঁস কষ্ট, কারো হার্টে সমস্যা, কারো চোখে সমস্যা। এখানে অভিবাভকদের আরো সচেতন হতে হবে। ভাল পড়াশোনার জন্য সু-স্বাস্থ্যের ও প্রয়োজন আছে।

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডটকম: আপনাকে অনেক ধন্যাবাদ।

ড. শাহান আরা বেগম: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

 

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

এসএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ (ডাউনলোড করুন খুব সহজেই)

আজ (বুধবার) ১৬ নভেম্বর প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, অাগামী বছরের ৪ মার্চ পর্যন্ত এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা …

Mountain View

আপনার-মন্তব্য