ঢাকা : ২২ জুলাই, ২০১৭, শনিবার, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ইসলামে ধৈর্যধারণ বড় শিক্ষা

ujala masjid kaba


  • ধৈর্য মহৎ লোকদের অন্যতম চরিত্র। এটি আল্লাহতায়ালার গুণবিশেষ। আল্লাহতায়ালার অবাধ্য বান্দারা দিবানিশি যে রূপ তার অবাধ্যতা ও বিরোধিতা করে; তার আদেশ ও নিষেধের কোনো তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছাচারিতায় ব্যাপৃত হয়, তাতে আল্লাহতায়ালা ইচ্ছা করলে মুহূর্তেই তাদের ধ্বংস করে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা না করে পরম ধৈর্যের সঙ্গে অকৃতজ্ঞ-অবাধ্য বান্দাদের সব অন্যায় সহ্য করে যাচ্ছেন। আল্লাহর এই স্বভাবের প্রতি লক্ষ্য করে প্রত্যেকেরই এ বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করা কর্তব্য।
  • বিপদে অধীর না হওয়া, দুঃখ-দুর্দশা ও কষ্ট করে ভেঙে না পড়াও ধৈর্যের একটি ভালো দিক। মানুষের ইমানের দৃঢ়তা পরীক্ষা এবং বিভিন্ন কারণেও তাদের প্রতি আপদ-বিপদে পতিত হয়ে থাকে। তখন ধৈর্য না হারিয়ে আল্লাহর প্রতি নির্ভর করে ধৈর্যধারণ করা ইমানের অর্ধেক। যারা ধৈর্যধারণ করে আল্লাহ তাদের সাহায্য করেন। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ আর হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ধৈর্য অবলম্বন করা ইমানের অঙ্গবিশেষ।’
  • অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বিনয়ে ধৈর্যধারণ করে আল্লাহ তার ধৈর্যগুণ আরও বৃদ্ধি করে দেন। ধৈর্যাপেক্ষা উত্তম নিয়ামত আর কিছু নেই। আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত রাসূলে করিম (সা.) বলেন, মুমিন নর-নারীদের দৈহিক, আর্থিক এবং পারিবারিক বিপদ-আপদ মৃত্যু পর্যর্ন্ত আসতেই থাকে। যারা এতে ধৈর্যধারণ করে থাকে, এর দ্বারা তাদের সব গুনাহ মার্জিত হয়ে থাকে।
  • অনেক ইসলামী স্কলারের অভিমত হলো, আল্লাহতায়ালা যে সম্প্রদায়কে অধিক ভালোবাসেন তাদের প্রতি অধিক বিপদ প্রদান করে থাকেন। যে ব্যক্তি বিপদে ধৈর্যধারণ করে কিয়ামতে সন্তুষ্টি লাভ তার জন্য অবধারিত। আর যে ব্যক্তি বিপদে অধৈর্য হয়ে পড়ে রোজ কিয়ামতে পেরেশানি তার জন্য সুনিশ্চিত।
  • হাদিসে বর্ণিত রয়েছে- হজরত রাসূলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন দাতা ও শহীদ সবারই হিসাব গ্রহণ করা হবে; কিন্তু বিপদ-আপদের হিসাব গ্রহণ করা হবে না। তাদের আমল ওজনের জন্য দাঁড়ি-পাল্লা স্থাপন করা হবে না। তাদের প্রতি শুধু সওয়াবের (পুণ্যের) ধারা বর্ষিত হতে থাকবে। তখন দুনিয়ায় যারা কোনোরূপ বিপদগ্রস্ত হয়নি, কেবল নিরবচ্ছিন্ন সুখ-শান্তি ভোগ করেছে তারা আফসোস করে বলতে থাকবে, হায়, দুনিয়ায় যদি আমরাও দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতাম এমনকি যদি কাঁচি দিয়ে আমাদের গায়ের চামড়া খসে ফেলা হতো!
  • পার্থিব কাজকর্মগুলোর ধৈর্য, সহ্য এবং স্থিরতার প্রয়োজন। তাহলেই যে কোনো কাজ সুষ্ঠু এবং নির্ভুলভাবে সম্পাদিত হয়। আর ধৈর্যহারা হয়ে কোনো কাজ শুরু করলে তাতে বহু রকম ত্রুটি-বিচ্যুতির সম্ভাবনা থাকে। ধৈর্যহীন মানুষ চঞ্চলতাবশে ভুলের শিকার হবে, এটাই স্বাভাবিক। যার ফলে ধৈর্যহীন মানুষ প্রায় ক্ষেত্রেই মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হয়। ধৈর্যহীন মানুষ কাজকর্মে ভুল করে এবং পরে তার জন্য অনুশোচনা করে। কিন্তু তখন আর তা সংশোধন করার সুযোগ থাকে না। এ জন্যই সব ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা বজায় রাখা এবং ধৈর্যধারণ করা সবারই অবশ্য কর্তব্য।

এ সম্পর্কিত আরও

আপনার-মন্তব্য