Mountain View

কাউন্টিতে নেমেই বাজিমাত করলেন মোস্তাফিজ সাথে ম্যাচ সেরা

প্রকাশিতঃ জুলাই ২২, ২০১৬ at ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

musta90

মোঃ রাজিব রজ্জব, স্পোর্টস ডেস্কঃ মোস্তাফিজুর রহমান যেখানেই যান তার প্রতিভার চমক দেখিয়ে যান।এইত বাংলাদেশ ,বিপিএল বিশ্বকাপ,আইপিএলে নিজের কাটার স্লোয়ার মাঝে মাঝে গতির ঝড় দিয়ে ব্যাটসম্যানকে কাবু করার যেই শক্তি তা দিন কে দিন বাড়িয়ে চলছে মোস্তাফিজ।এইত  ইংলিশ কাউন্টিতে অভিষেকেই বাজিমাত করলেন মোস্তাফিজ।চার ওভারে ৪ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি প্রথম খেলাতেই ম্যাচ সেরার পুরুষকারটা নিজের করে নেন।

বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা চমক যে মোস্তাফিজুর রহমান, তা নতুন করে প্রমাণ করার কিছুই নেই। ইংলিশ কাউন্টিতে সাসেক্সের হয়ে স্বপ্নের অভিষেকে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন টাইগার এই পেসার। নিজের প্রথম ম্যাচেই টেবিলের শেষের দিকে থাকা সাসেক্সকে ২৪ রানে জেতাতে ম্যাচের নায়ক কাটার এই মাস্টার।

আগে ব্যাট করে সাসেক্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে, মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে এসেক্স ১৭৬ রানেই থেমে যায়। দলকে জেতাতে ম্যাচ সেরা পুরস্কারের সঙ্গে মোস্তাফিজ নিজের পকেটে জমান সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট।শুধু উইকেটে বিচার করলেই থেমে থাকা যায় না ২৪ টা বলের মধ্যে ১৫টা বলই ব্যাটসম্যান তার বলে কোন রান নিতে পারেনি।২৪ বলে ২৩ রান দিয়ে চার উইকেট নেন এই বাহাতি কাটার মাস্টার।সেই সাথে একটা ক্যাচ ধরে দলের উইকেট পেতে সাহায্য করেন।

সাসেক্স দলপতি লুক রাইট মোস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে। নিজের প্রথম ওভারে কোনো উইকেট নিতে না পারলেও টাইগার পেসার মাত্র ৪ রান খরচ করেন। এরপর লম্বা বিরতী দিয়ে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা মোস্তাফিজের হাতে লুক রাইট ইনিংসের ষোলোতম ওভারে বল তুলে দেন। মাত্র ২ রান খরচ করে টাইগার পেসার তুলে নেন রবি বোপারাকে।

১৮তম ওভারে ১১ রান দিলেও (৪ রান অতিরিক্ত খাত থেকে সাজঘরে পাঠান টেইলর আর ফস্টারকে। ফলে, তার প্রথম তিন ওভারে ১৩ রান নিতে পারে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। আর নিজের ও দলের শেষ ওভারে ১০ রান খরচ করে মোস্তাফিজ তুলে নেন ডয়েসকাটের উইকেট।

এর আগে সাসেক্স এর হয়ে ওপেনার ক্রিস ন্যাশ ২৫, দলপতি লুক রাইট ৩২, তিন নম্বরে নামা ফিলিপ সল্ট ৩৩, চার নম্বরে নামা রস টেইলর ২৪ রান করেন। ম্যাট মাচানের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান। তবে, ক্রিস জর্ডান ২১ বলে একটি চার আর ৫টি ছক্কায় অপরাজিত ৪৫ রান করেন। শেষ দিকে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ক্রেইগ ১৮ ও জোফরা আর্চার ১২ রান করেন।

২০১ রানের টার্গেটে নেমে এসেক্স ব্যাটসম্যানরা কোনো কূল খুঁজে পাননি মোস্তাফিজের দুর্দান্ত সব ডেলিভারির। ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান খরচায় এই পেসার তুলে নিয়েছেন চার ব্যাটসম্যানকে। তার স্লোয়ার, কাটার আর ইয়র্কারে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা ১৫টি বল থেকে কোনো রানই নিতে পারেননি। ৫.৭৫ ইকোনমি রেটে বল করে বাংলাদেশি এই পেসার ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন।

এসেক্সের হয়ে ওপেনার লরেন্স সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন। এছাড়া, ওয়েসলি ২৩, দলপতি রবি বোপারা ৩২, আসার জাইদি ১৮, রায়ান টেন ডয়েসকাট ২৬ রান করেন।

মোস্তাফিজের দুর্দান্ত পারফর্মে জয় পাওয়ায় সাসেক্স নকআউট পর্বে উঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের সাউথ গ্রুপে থাকা দলটি মোট ১২ ম্যাচের ৫টিতে জয় তুলে নিল। পাঁচটি ম্যাচ হারায় আর দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় মোস্তাফিজের দলটির সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়ালো ১২ পয়েন্ট।

এ সম্পর্কিত আরও