Mountain View

তারেকের রায়ের প্রতিবাদ চলবে আসছে হরতালও

প্রকাশিতঃ জুলাই ২২, ২০১৬ at ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

BNP Metting

অর্থপাচারের একটি মামলায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাত বছরের সাজা দেয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে দলটি।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে নয়াপল্টনে রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ওই এলাকা থেকে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে আটক করে।

এই রায় নিয়ে রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৈঠক নিয়ে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। বৈঠকে অংশ নেয়া নেতারাও কেউ মুখ খুলছেন না। শুক্রবার দলটির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তবে বৈঠক সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে যে রায় দেয়া হয়েছে তার প্রতিবাদে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে অংশ নেয়া বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশসহ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

অবশ্য আরেকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, বৈঠকে হরতালের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টা চলছে, তাছাড়া মানুষ বর্তমানে হরতাল কতটুকু গ্রহণ করবে বা হরতাল কর্মসূচি সফল করার জন্য বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা কতটুকু আছে এসব প্রশ্নও সামনে আসছে। আবার দলের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারির বিরুদ্ধে যে রায় হয়েছে তাতে দলের পক্ষ থেকে কঠোর এবং সতর্কতামূলক কর্মসূচিও তো থাকা উচিত। এ নিয়ে কিছুটা দোলাচলেও থাকলেও দলের একটি অংশ মনে করছে, এর প্রতিবাদে হরতাল দেয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে অর্থপাচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তারেকের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাত বছর কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তবে তাকে বিচারিক আদালতের দেয়া ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড কমিয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। যদি এই মামলায় বিচারিক আদালত তারেককে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন।

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ‘বিভিন্ন পন্থায়’ ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে মামুনের অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়, যার মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন তারেক রহমান।

আজ (২১ জুলাই) রাতে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান; ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান; চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু; সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ প্রমুখ

এ সম্পর্কিত আরও