Mountain View

মূল পরিকল্পনাকারীর তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার দাবি পুলিশের

প্রকাশিতঃ জুলাই ২২, ২০১৬ at ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনাকারীর বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ছাড়া হামলাকারীর কয়েকজন সহযোগীকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) একজন শীর্ষ নেতা। বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার জেএমবির নেতাদের কাছ থেকে মূল পরিকল্পনাকারীর নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে ধরার চেষ্টা চলছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, হামলার সময় জঙ্গিদের পেছনে সহযোগী হিসেবে যারা কাজ করেছে, তাদের কয়েকজনকে ইতিমধ্যে শনাক্ত করা গেছে। তবে তিনি তাদের সংখ্যা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে। অবশ্য হামলার ঘটনায় করা মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গুলশানের হামলায় অংশ নেওয়া ছয়জনই মারা গেছেন। বসুন্ধরা, শেওড়াপাড়া ও মিরপুরের তিনটি জঙ্গি আস্তানা থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চার সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে পাঁচ জঙ্গিসহ নিহত ছয়জনের সংগৃহীত নমুনা আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কাছে হস্তান্তর করবেন তদন্ত-সম্পৃক্ত কাউন্টার টেররিজমের কর্মকর্তারা। তদন্ত-সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মর্গের হিমঘরে থাকা পাঁচ জঙ্গি মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর বাবুর্চি সন্দেহভাজন সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের মরদেহ থেকে ২০ মিলিগ্রাম রক্ত ও ৩০টি করে চুল সংগ্রহ করা হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ: হলি আর্টিজানে হামলায় জড়িত জঙ্গিদের বাসা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম গিয়াস উদ্দিন আহসান তাঁর ফ্ল্যাটের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে আলম চৌধুরী এবং শেওড়াপাড়া থেকে গ্রেপ্তার সাবেক শিক্ষক নুরুল ইসলামের রিমান্ডের গতকাল চতুর্থ দিন পার হয়েছে। আট দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্কুলশিক্ষক নুরুল ইসলামকে আদালতের মাধ্যমে গতকাল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হলি আর্টিজানে হামলায় নিহত শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বলকে সহযোগিতার অভিযোগে মিলন হোসাইনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা জেলার পুলিশ। এদিকে হলি আর্টিজানের জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার হাসনাত করিম ও তাহমিদের পরিবারের পক্ষ থেকে গতকালও বলা হয়, তাঁরা বাসায় ফেরেননি।

গতকাল ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা ৩২ জনের মধ্যে অধিকাংশ রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে আমরা দু-তিনজনকে সন্দেহ করছি, জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জঙ্গি হামলায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না বা তাঁরা পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন, সে বিষয়ে সূক্ষ্মভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View