Mountain View

নরসিংদীর রায়পুরা আড়িয়ালখাঁ নদে পানিতে ডুবে ৯জনের মৃত্যু

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৩, ২০১৬ at ১০:১৬ অপরাহ্ণ

রায়পুরা উপজেলার জঙ্গি শিবপুরের আড়িয়ালখাঁ নদে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা ডুবিতে নারী-শিশুসহ ৯ জনের সলিল সমাধি ঘটেছে। শনিবার দুপুরে ঢাকা ডুবুরি দলের স্টেশন অফিসার পতিরাম মন্ডলের নেতৃত্বে চলে উদ্ধার কাজ।
এঘটনায় নিহতরা হলো—বেলাব উপজেলার দেওয়ানের চর গ্রামের মৃত ফজর আলীর স্ত্রী মালদার নেছা (৮০), মালদার নেছার নাতী ও আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে ইয়াছিন (০৬), একই উপজেলার বাড়ৈচা এলাকার মিলন মিয়ার কন্যা মারজিয়া (০৩), রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব (১৩), আক্তার হোসেনের ছেলে সম্রাট (০৪), রবিউল ইসলামের কন্যা সুমাইয়া (০৩), সুন্দর আলীর কন্যা জেরিন (০৬), মিয়া বক্স এর স্ত্রী ফুলেছা বেগম (৬০) এবং নাদিম (১০) পিতা অজ্ঞাত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, প্রায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে সকাল ১০টার দিকে পার্শবর্তী বি-বাড়িয়া জেলার নবীনগরের গণি শাহ্রে মাজারে ওরশ শরিফে যাচ্ছিল নৌকাটি। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকাটি অল্প কিছুদুর গেলেই ডুবে যায়। আশপাশের লোকজন ঝাপিয়ে পড়ে উদ্ধার কাজ চালায়। এসময় ঘটনাস্থলেই ৪ শিশু ও এক নারী সহ ৫ জনের মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বাকী আহতরা ভৈরব, নরসিংদীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বাড়ৈচা গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মো: হযরত আলী জানান, দুই নৌকার প্রায় দুইশত যাত্রী একটি নৌকায় উঠে। তার এই নৌকা থেকে কিছু সময় আগে ছেড়ে যাওয়া নৌকায় উঠার করা ছিলো। অতিরিক্ত যাত্রী হওয়া ও নৌকার ছাদে শিশুরা উল্লাশ করায় নৌকা একদিকে ঢাল হয়ে যায়। যার ফলে নৌকা উল্টে যায়।
নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খন্দকার নুরুল হক বলেন, ঘটনার সাথে সাথে তাৎক্ষনিকভাবে আমি, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ: মতিন, পার্শ্ববর্তী বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছি। স্থানীয়দের সহযোগীতায় নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী ও ভৈরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে নিখোঁজের সন্ধানে ঢাকা থেকে আগত ডুবুরী দলের সদস্যরা কাজ করেছেন। সন্ধান না পাওয়ায় বিকেল সাড়ে পাঁটার দিকে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে কোন নিখোঁজের অভিযোগ পেলে আবারো তল্লাসী চালানো হতে পারে। তাৎক্ষনিক নিহতদের দাফন করার জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা ও ২০ কেজি চাউল বরাদ্ধ করা হয়েছে। এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View