Mountain View

সমর্থকদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই : শাহরিয়ার

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৪, ২০১৬ at ২:২৮ অপরাহ্ণ

shariar nafees

স্পোর্টস ডেস্ক : দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পরও ক্রিকেট পাগল মানুষের মনে গেথে আছে শাহরিয়ার নাফীস। প্রশ্নটা শাহরিয়ারকে করতেই উত্তরে জানালেন সমর্থকরা আমাকে এখনও মনে রেখেছে বিষয়টা আমারা জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরনাদায়ক বিষয়। সুযোগ পেলে সমর্থকদের এই অকৃত্তিম ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই।

যুব বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশি তরুণদের নিয়ে গড়া দল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সে ম্যাচে মোটাসোটা বাঁহাতি এক তরুণের ব্যাটিং দেখে বিস্ময় এবং ফিসফিসানি। ভক্তদের জন্য মন খুলে স্বপ্নের কথা বললেন শাহরিয়ার নাফীস।

সেকালে দল নির্বাচনকে ঘিরে নানান ‘অপপ্রচার’ ছিল, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তো আরো বেশি। তাহলে কি তারই শিকার শাহরিয়ার নাফীস? নইলে ভারতীয় বোলারদের উড়িয়ে দিয়ে সেঞ্চুরি করা এ তরুণ কেন থাকবেন না মূল দলে!

আরো বিস্ময়কর শাহরিয়ারের সম্ভাবনার শিখর থেকে পতন। যুব বিশ্বকাপে আর খেলা হয়নি তার। তবে পরের বছরই খুলে গিয়েছিল জাতীয় দলের দরজা। শীতের শুরুতে ইংল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে উতরেও গিয়েছিলেন শাহরিয়ার। তবে ওটা তো নিছকই পাস নম্বর। ২০০৬ সালের এপ্রিলে ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার ১৩৮ রানের ইনিংস চমকে দিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বকে। ব্রেট লি, স্টুয়ার্ট ক্লার্ক, জেসন গিলেস্পি আর স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলকে নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের নেতা ছিলেন শেন ওয়ার্ন। নিজের পঞ্চম টেস্টে খেলা ওই ইনিংসটা এখনো মনে পড়ে শাহরিয়ার নাফীসের, ‘তখন ইয়াং ছিলাম। খুব ভালো খেলেছিলাম। প্রতিটা শট মনে আছে।’ বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের খেলা স্মরণীয় ইনিংসগুলোর তালিকায় ওটা জনমনেও ওপরের দিকেই থাকবে।

পরের বছর বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ওয়ানডেই বেশি খেলে বাংলাদেশ। রানের বড় মালাও গেঁথেছেন। সঙ্গে ক্রিকেটীয় বুদ্ধি আর ‘প্রেজেন্টবল’ হওয়ায় ২০০৭ বিশ্বকাপে হাবিবুল বাশারের ডেপুটিও করা হয় শাহরিয়ারকে। কিন্তু ভবিষ্যতের


অধিনায়ক বিশ্বকাপেই পথহারা! টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি এ ওপেনার একসময় বাদ পড়েন একাদশ থেকেও। ওই যে ছন্দপতন, এরপর আইসিএলে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জাতীয় দলেও ফিরেছিলেন। কিন্তু ক্যারিয়ার শুরুর আস্থাটা আর ধরে রাখতে পারেননি শাহরিয়ার।

কেন? গতকাল জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্প শেষে নিজেই উত্তরটা দিলেন শাহরিয়ার নাফীস, ‘সিংহভাগ দায় আমারই। অপরিণত ছিলাম। নিজের অ্যাসেসমেন্টটা ঠিকভাবে করতে পারিনি। সঙ্গে আরেকটা ব্যাপারও আছে। শুরুতেই প্রত্যাশা তৈরি করেছিলাম। তাই অন্য সবার সঙ্গে আমার পারফরম্যান্সও যখন নামতে থাকল, তখন সবার চোখে শুধু আমারটাই ধরা পড়ত। এ কারণেই হয়তো কেউ কেউ টিকে গেলেও আমি পারিনি।’

সেই চিরায়ত বঞ্চনার হাহাকার! কিন্তু আসলেই কি বঞ্চনার শিকার? ২০১৩ সালে তো আবারও সুযোগ এসেছিল পায়ের তলার মাটি শক্ত করার। পারেননি কেন? ‘তত দিনে আমি দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েছি। তাই একটু বেশিই চেষ্টা করছিলাম। বেশি ভাবতাম যে, এমন কিছু করতে হবে যেন আর বাদ না পড়ি। বেশি বেশি চিন্তার কারণেই নিজের সেরাটা খেলতে পারিনি’, প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরে শাহরিয়ার নাফীসের আত্মোপলব্ধি। মাঝখানে একবার ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ‘এ’ দলের নেতাও শাহরিয়ারকে করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ করে দিতে। কিন্তু ভারতে সে সফরের মাঝপথেই মাঠে অভব্য আচরণের দায়ে ফিরিয়ে আনা হয় তাকে।

আম্পায়ারের একটি ‘বাজে’ সিদ্ধান্তে এমনই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন শাহরিয়ার যে, নিজের বোর্ড থেকেই দেখানো হয় ‘লাল কার্ড’! তীব্র হতাশা থেকেই কি অমনটা করেছিলেন তিনি? হতে পারে। সেই তরুণ বয়স থেকেই মন খুলে কথা বলেন শাহরিয়ার। এ দেশীয় ক্রিকেট সংস্কৃতিতে যা একটু বিরলই ছিল তখন। স্বভাবতই এ বাগ্মিতা জনপ্রিয়তা বাড়ায়নি শাহরিয়ারের।

৩১ বছর বয়সী শাহরিয়ার এখন বদলেছেন অনেকখানি। এটা শুধু তার মন খুলে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতাই নয়, চিন্তাধারায় স্পষ্ট পরিবর্তন। আর দৃশ্যমান পরিবর্তন শাহরিয়ারের ফিটনেসে। তিনি স্বীকারও করেন, ‘ওই সময় ফিটনেস নিয়ে এখনকার মতো স্পষ্ট ধারণাও ছিল না। ব্যাটিং প্র্যাকটিসের ব্যাপারে আমি বরাবরই সিরিয়াস। কিন্তু ফিটনেস নিয়ে সেভাবে কাজ করিনি। তবে এখন আমি খুবই ফিট। আমার টিমমেটরাও বুঝতে পারে। প্র্যাকটিসের কোনো ড্রিল মিস করি না। এই ফিটনেস শুরু থেকে থাকলে হয়তো…। আসলে তখন সেভাবে বুঝতাম না।’

বুঝতে বুঝতেই বেলা গেল গড়িয়ে। তবে হাল ছাড়েননি শাহরিয়ার, ‘সব সময়ই আমার চিন্তা ছিল দলে কন্ট্রিবিউট করা। সেটা শুধু রান করে নয়, সব বিভাগেই অবদান রাখতে চাই। আমি বোলার না, তাই ব্যাটিং-ফিল্ডিং এমনকি, এই যে ফিটনেস ক্যাম্প হচ্ছে, সেখানে যদি নিজের উপস্থিতি দিয়েও কোনো অবদান রাখতে পারি, তাতেই আমি খুশি।’

আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার স্বপ্নটাও নাগালের মধ্যেই রেখেছেন শাহরিয়ার, ‘অত দূর ভাবি না। আমার ভাবনা শুধু যেখানেই খেলি, সেটা ঘরোয়া ক্রিকেট হলেও যেন কন্ট্রিবিউট করতে পারি।’ কিন্তু যদি সুযোগ আসে, এই বয়সেও কি ফতুল্লার ওই ইনিংসটার মতো খেলার সামর্থ্য আছে—এই প্রশ্ন অফস্টাম্পের বাইরে পাওয়া হাফভলির মতো অনায়াসে খেললেন শাহরিয়ার, ‘অবশ্যই আছে। এখন আমি অনেক পরিণত এবং ফিট!’-কালেরকন্ঠ

এ সম্পর্কিত আরও