ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

মানুষের সঙ্গে বোঝাপড়া রয়েছে যে পাখির

pakhi

এই প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেলেন যে, বনের প্রাণীর সঙ্গে মানুষের বোঝাপড়া রয়েছে। কারণ যে চুপচাপ কথা শোনে ও বোঝে সে আর কেউ নয়, আফ্রিকার ছোট্ট এক পাখি যার নাম হানিগাইডস।

মোজাম্বিকের উত্তরাংশের মানুষরা এই পাখির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। হানিগাইডসের সঙ্গে বিশেষ সুরেলা শব্দে কথা বলা যায়। এই শব্দে সে মৌমাছির বাসা মৌচাক খুঁজে বের করে দেয়। মানুষের কাছ থেকে এক বিশেষ কম্পমান ধ্বনি শোনার পর পাখিটি মৌচাক খুঁজতে শুরু করে। তারা মানুষকে তা খুঁজে দেয় এবং পুরস্কার হিসাবে একট টুকরো মধুর চাক পায়।

ব্রিটেনের অ্যাংলিয়া রাস্কিন ইউনিভার্সিটির বিহেভিয়োরাল বায়োলজিস্ট ক্লদিয়া ওয়াসচার জানান, পোষ মানানো যায় এমন প্রাণীর সঙ্গে মানুষের বোঝাপড়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। কিন্তু হানিগাইডস নামের এই পাখির সঙ্গে মানুষের এতটা যোগাযোগের বিষয়টি বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ করে।

এ সম্পর্কের বিষয়টি এর আগে নিরেট বিজ্ঞান প্রমাণ করেনি। এখানে সম্পর্কটা পুরনো হলেও বিজ্ঞানটা নতুন। হানিগাইডস এবং মানুষের এই বোঝাপড়া নতুন নয়, এটা হাজার বছরের পুরনো হতে পারে।

সংকেত পাওয়ামাত্র পাখিটি গাছ থেকে গাছে উড়ে যায় এবং মানুষটিকে ডাকতে থাকে। কোনো মৌচাক না পাওয়া পর্যন্ত তা চলতেই থাকে। এই পাখিটি দ্রুত মৌমাছির মধুপূর্ণ চাক বের করতে সহায়তা করে। বিনিময়ে তার এক টুকরো চাক পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ঠিকই। কিন্তু এ কাজ তার মৃত্যুর কারণও হয়ে ওঠে।

প্রধান গবেষক ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব কেপ টাউনের ফিল্ড বায়োলজিস্ট ক্লেয়ার স্পটিসউড বলেন, মানুষ ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে মধু আহরণে দক্ষ। কিন্তু মৌচাক খুঁজে বের করতে পারে না। এর আগে তাঞ্জানিয়া এবং কেনিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, কোনো পাখির সহায়তায় মানুষ অনেক বেশি মধু সংগ্রহ করতে পারে।

স্পটিসউড এবং তার সহকর্মীরা মোজাম্বিকের নিয়াসা ন্যাশনাল রিজার্ভে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে ইয়াও গোত্রের মানুষরা হানিগাইডসের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে নমুনা দেখান। প্রথমে তারা একটি বিশেষ আওয়াজ করে হানিগাইডসকে ডেকে আনেন।

একটা পাখির দেখা মিললে তারা ওই বিশেষ আওয়াজ করতেই থাকেন তাকে উৎসাহ দিতে। মধু সংগ্রহ ছাড়া এ আওয়াজ আর কখনোই ব্যবহৃত হয় না। এই আওয়াজে পাখিটি মৌচাক খুঁজতে বেশ অস্থির হয়ে ওঠে। বনে বাস করা মুক্ত প্রাণীর সঙ্গে মানুষের এমন সম্পর্কের নমুনা এই প্রথমবারের মতো দেখা গেল।

এর আগেও গবেষণায় দেখা গেছে সমুদ্রের ডলফিন মানুষকে বেশি বেশি মাছ ধরতে সহায়তা করে। কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সংকেত আদান-প্রদানের বিষয়টি পরিষ্কার নয়। সম্ভবত হানিগাইডসরা বিশেষ সংকেত গ্রহণে অন্যকে সহায়তা করার বিশেষ গুণ নিয়েই জন্মে, বলে স্পটিসউড।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

1480390465

বিপিএল খেলতে থাকা যে ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে নেয়ার চিন্তা করছে বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক: বিপিএলের টিম নিয়ে তো আর ভাবনা নেই বিসিবির। বিসিবির ভাবনা নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়ে। …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *