Mountain View

ইউটিউবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জাওয়েদের গল্প

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৫, ২০১৬ at ৬:১৭ অপরাহ্ণ

বর্তমানে ইউটিউব ছাড়া অচল হয়ে পড়েছেন অনেকেই। অনেকের মতে ইউটিউব হচ্ছে গৃহশিক্ষক। যে কোন কিছু শিখতে চাইলে বা জানতে চাইলে ইউটিউবতো আছেই। কিন্তু জানেন কি, কিভাবে এলো এই ইউটিউব? কে এর প্রতিষ্ঠাতা?

ইউটিউবকে নিয়ে আসলে আজকের দিনে নতুন করে বলার কিছুই নেই। আর এই ইউটিউবের প্রতিষ্ঠাতাদেরই একজন হলেন জাওয়েদ করিম। আর আমাদের জন্য গর্বের বিষয় হলো- তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। বাংলাদেশের নামকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে যারা অবদান রেখে যাচ্ছেন, তাদেরই একজন জাওয়েদ করিম।

জাওয়েদের জন্ম ১৯৭৯ সালে, পূর্ব জার্মানিতে। তার বাবা নাইমুল ইসলাম। কর্ম সূত্রে তিনি ছিলেন থ্রিএম কোম্পানির একজন গবেষক। সেই সুবাদেই জার্মানিতে ছিলেন তিনি। জাওয়াদের মা ক্রিসটিন করিমও একজন গবেষক। তিনি জার্মান বিজ্ঞানী, গবেষক ও মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি। জাওয়েদের জন্ম পূর্ব জার্মানিতে হলেও তার জন্মের এক বছর পরই পরিবার চলে যায় পশ্চিম জার্মানিতে। আর ১৯৯২ সালে তারা চলে যায় আমেরিকায়। সেখানে সেন্ট পল সেন্ট্রাল হাই স্কুলে পড়ালেখা শুরু জাওয়েদের। পরে তিনি ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আরবানা-শ্যাম্পেইনের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে। কিন্তু পড়ালেখার গণ্ডিতেই আটকে থাকতে রাজি ছিলেন না জাওয়েদ।

বর্তমানে সারা দুনিয়ায় অনলাইন লেনদেনে রাজত্ব করা পেপ্যাল মাত্র যাত্রা শুরু করেছে। খবরটা চোখে পড়ে জাওয়েদের। পেপ্যালের প্রথম দিককার একজন কর্মী হিসেবে যোগও দেন সেখানে। আর পাশাপাশি চালিয়ে যেতে থাকেন পড়ালেখা। এভাবেই এক সময় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও নিয়ে ফেলেন জাওয়েদ। তবে পেপ্যালের আজকের অবস্থানে আসার পিছনে জাওয়েদের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যাবে না। পেপ্যালের অনলাইন লেনদেনের অনেক মৌলিক সেবার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে তার নাম। বিশেষ করে ইন্টারনেটে রিয়েল টাইমে প্রতারণা রোধে পেপ্যাল যে সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে তার ডিজাইন ও বাস্তবায়ন করেছিলেন জাওয়েদ।

পেপ্যালে কাজ করতে গিয়েই জাওয়েদের সঙ্গে পরিচয় চাদ হার্লি ও স্টিভ চেনের। তিন তরুণের মাথাতেই নিত্যনতুন আইডিয়া। কিন্তু তার কোনোটি নিয়েই মনস্থির করতে পারছিলেন না তিনজন। এর মধ্যেই একদিন রাতের খাবারের দাওয়াত পড়লো স্টিভ চেনের বাড়িতে। পার্টিতে ভিডিও হলো। কিন্তু ওই পার্টিতে ছিলেন না জাওয়েদ। তখনই মনে হলো- পার্টির ভিডিও অনলাইনে দেখার ব্যবস্থা থাকলেই তো দেখে নিতে পারতেন জাওয়েদও। এই ভাবনাই তিন তরুণকে মাতিয়ে তুললো। তারা অনেক ভেবে-চিন্তে দেখলেন, অনলাইনে এতকিছুর ওয়েবসাইট রয়েছে কিন্তু ভিডিও শেয়ারিংয়ের জন্য নেই কোনো ওয়েবসাইট। এমন একটি নতুন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা নিয়ে আর কোনো দ্বিধা ছিল না তাদের। এই ছিল ইউটিউবের শুরু।

২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হয়ে গেল ইউটিউবের ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পেল সেকুয়া ক্যাপিটাল থেকে। শুরু হয়ে গেল ওয়েব ডিজাইনের কাজ। এপ্রিল মাসে ‘মি অ্যাট জু’ নামে প্রথম ডিডিও ইউটিউবে আপলোড করলেন জাওয়েদ নিজেই। সেই থেকেই শুরু হলো বিশ্বব্যাপী ভিডিও শেয়ারিং। কিন্তু এসব অভাবনীয় একটি আইডিয়া নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সাড়া পাচ্ছিলেন না তারা। কেউ তো এই সাইটের কথা জানে না। কেউ ব্যবহারই করেন না এই সাইট। তাহলে ভিডিও শেয়ারিংয়ের কী হবে? ক্রেইগলিস্টে বিজ্ঞাপন দিলেন। সুন্দরী মেয়েদের আকৃষ্ট করলেন- ১০টি ভিডিও ইউটিউবে পোস্ট করলে একশ ডলার পুরস্কার! তাতেও সাড়া পেলেন না। জুনে নতুন রূপে হাজির হলো ইউটিউব। শেয়ারিংয়ের জন্য যুক্ত হলো বাড়তি সুবিধা, এক্সটার্নাল ভিডিও প্লেয়ার। বাড়তে থাকল ব্যবহারকারী। ওই অর্থে সাড়া না পেলেও এমন একটি উদ্যোগ যে বিশ্বজয়ী, তা বুঝতে সমস্যা হয়নি গুগলের। তাই তো বছরখানেক পরেই ২০০৬ সালের অক্টোবরে ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলারে ইউটিউবকে কিনে নেয় গুগল। জাওয়েদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা ইউটিউবের সাফল্য তো আর সবার জন্যই ঈর্ষণীয়।

পেপ্যাল আর ইউটিউব ছাড়াও জাওয়েদ আরো বেশকিছু প্রকল্প নিয়ে সফল হয়েছেন। পোর্টেবল থ্রিডি গ্রাফিক্স, থ্রিডি স্প্রিং সিমুলেশন, রোবোটিক ওয়েবক্যাম, রেডিওসিটি ইঞ্জিন, বামপাম্পিং ডেমো প্রভৃতি প্রকল্পে রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। আধুনিক প্রযুক্তির এই সময়ে তার এসব প্রকল্প ভবিষ্যতের সময়কেও বদলে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তখন হয়তো কেবল ইউটিউব নয়, আরো নতুন কোনো প্রকল্পের জন্য লিখতে হবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিমকে নিয়ে।

এ সম্পর্কিত আরও