ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

পদোন্নতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীদের গুরুত্ব দিন : সেনা সদরে প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার-বিশ্লেষণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে।’ গতকাল ঢাকা সেনানিবাসে সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৬’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা সুশিক্ষিত, কর্মক্ষম, সচেতন, বুদ্ধিমান এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ের অধিকারী—এমন যোগ্য অফিসারদের কাছে নেতৃত্ব ন্যস্ত করতে হবে।’ তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ হাজার বছরের বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও গৌরবময় অধ্যায়। আদর্শগতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যন্ত মৌলিক এবং মুখ্য বিষয়। আপনাদের সব সময় লক্ষ রাখতে হবে, যাতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব ন্যস্ত হয় তাঁদেরই হাতে যাঁরা দেশপ্রেমিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত যে সেনাবাহিনীর অফিসারদের পদোন্নতির জন্য ট্রেস (ট্রেস-টার্বুলেটেড রেকর্ড অ্যান্ড কমপারেটিভ ইভাল্যুশন)-এর মতো একটি আধুনিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়; যা কি না পেশাগত দক্ষতার বিভিন্ন দিকের তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রকাশ করে।’

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সাতটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে আপনারা যোগ্য ব্যক্তিকে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করছেন। পদোন্নতি প্রদানের সময় আপনাদের কতিপয় বিষয় বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এই সাতটি বিষয় হলো—মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস, নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা, মাঠের তত্পরতা বিচার, শৃঙ্খলা, সততা-বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য, নিযুক্তিগত উপযোগিতা এবং গ্রহণযোগ্যতা।’

শেখ হাসিনা বলেন, একটি সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য যোগ্য, দক্ষ, কর্মক্ষম এবং দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে এর নেতৃত্ব ন্যস্ত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘নেতৃত্ব ন্যস্ত করতে হবে তাঁদের হাতে যাঁরা সুশিক্ষিত, কর্মক্ষম, সচেতন, বুদ্ধিমান এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ের অধিকারী। একজন অফিসার কেবল একটি পদ বা নিযুক্তির জন্যই যোগ্য না হয়ে বরং বিভিন্ন প্রকার নিযুক্তি; যেমন—কমান্ড, স্টাফ, প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিযুক্তির জন্য উপযুক্ত হন।’ বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের শিক্ষা, মনোভাব, সামাজিকতা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিরীক্ষা করেই পদোন্নতি প্রদান করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার বিষয়টি অন্য কোনো গুণাবলির সঙ্গে তুলনীয় নয়। শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনো প্রকার আপস অবশ্যই বর্জনীয়। কেবল একাডেমিক ও কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ হলে হবে না। মাঠে কর্মতত্পরতায় কর্মকৌশলী, ত্বরিত এবং দক্ষ হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সেনাবাহিনী বরাবরই সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গুরুদায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে যখনই প্রয়োজন হয়েছে তখনই সেনাবাহিনী জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। দেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনা সদস্যদের ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের সেই কাজ জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী সুনাম পেয়েছে। দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী সর্বদা পেশাদারির পরিচয় দিয়েছে। গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাও এ সময় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার এবং ওভারপাসসহ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ‘অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে’ সম্পন্ন হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর জন্য নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন। বান্দরবানের রুমায় পূর্ণাঙ্গ সেনানিবাসের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া, কক্সবাজারের রামুতে সেনানিবাস স্থাপনের কাজ শুরু, নবগঠিত কম্পোজিট ব্রিগেডের আবাসনের লক্ষ্যে পদ্মা সেতুর দুই পাশে সেনানিবাস গড়ার প্রকল্পের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর সব পর্যায়ে প্রশিক্ষণের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। ‘কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে এবং একটি সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দুই বছরের পরিবর্তে তিন বছরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সৈনিকদের শিক্ষার মান বৃদ্ধিকল্পে উচ্চতর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর চিকিৎসাসেবা আধুনিকায়নের জন্য ঢাকা সিএমএইচকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের আদলে বিভিন্ন সেনানিবাসে মেডিক্যাল কলেজের কার্যক্রম চালু হয়েছে। কয়েকটি ডেন্টাল কলেজ এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সেনানিবাসে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও ‘আর্মি স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ গঠন করা হয়েছে।

বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীতে নারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নারী সৈনিক ইতিমধ্যে তাদের প্রশিক্ষণ সফলতার সঙ্গে শেষ করে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই স্টাফ কলেজ সম্পন্ন করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ শীর্ষ সেনা প্রেরণকারী দেশ, যা পুরো জাতির জন্য বিরল সম্মান বয়ে আনছে। আমাদের সৈনিকদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও কর্তব্যবোধে দৃঢ় মনোভাব বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হয়েছে।’ স্বাধীনতার আগে সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যের কথা এবং স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলার কার্যক্রমের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সমগ্র জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের যে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তার ধারাবাহিকতা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে অব্যাহত ছিল এবং আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর সেনাবাহিনীকে আরো কার্যক্ষম ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে নতুন পদাতিক ডিভিশন ও ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কোরের আধুনিকায়নের জন্য অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা হয়।

দেশে সম্প্রতিক জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের তাঁদের সন্তানদের সময় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পিছিয়ে পড়া শিশুদের স্কুল ‘প্রয়াস’-এর কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, মুখ্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জেনারেল এম মাহফুজুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

nasim

এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ হাজার নার্সের পোস্টিং : নাসিম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে জনশক্তির স্বল্পতা সমস্যা দূর করতে নতুন …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *