ঢাকা : ৩০ মার্চ, ২০১৭, বৃহস্পতিবার, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

কোটি টাকার বাঁধ পানিতেই গেলো!

badh

রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্য পানিতেই গেলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোটি টাকার সিসি ব্লক। কারণ পদ্মা নদীর তীর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ না হতেই আবারও ধস নেমেছে বাঁধে।বিশেষ করে শ্রীরামপুর পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা দিয়েছে।

নদীর পানিতে আবার ব্লক ধসে গেছে। এখন বালুর বস্তা ফেলে চলছে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা! তবে সিনথেটিক বস্তায় বালি ভরে ভাঙনরোধের চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তীরের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, বর্ষা মৌসুমের আগে শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে মাথা ঘামায়নি পাউবো। এখন ভাঙন শুরু হওয়ায় তড়িঘড়ি করে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। ভরা নদীতে কোনো রকমে পানি হাতড়ে ব্লকগুলো বসানো হয়েছিল। যেমন তেমনভাবে তৈরি কাঁচা ব্লকগুলো শুকোনোর জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পায়নি।

রাজশাহীর পাউবো কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই রাজশাহীতে পদ্মা নদীর উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ মিটার। সর্বশেষ আজ (মঙ্গলবার) ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মা নদীর উচ্চতা ছিল ১৭ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। যা এখন আর মাত্র দেড় মিটার নিচে রয়েছে। যে হারে পানি বাড়ছে তাতে দু’বছর পর বিপদসীমা অতিক্রমের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের কাছে শ্রীরামপুর এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম ভাঙন দেখা দেয়। সুরতি বাঁধের ব্লক খুলে নদীতে পড়ে যায়। ওই সময় দাবি ওঠে শুকনো মৌসুমেই যেন বাঁধের সংস্কার করা হয়। কিন্তু এরপরও তখন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

গত মে মাসে নদীতে নতুনভাবে পানি আসার সময় বাঁধের ১৫১ দশমিক ৭৫ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা সংস্কারের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজটির জন্য ১ কোটি ৪১ লাখ টাকার বরাদ্দও পাওয়া যায়।

কিন্তু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় অনুমাণের উপর নির্ভর করে ব্লক বসানো হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী এ ব্লক তৈরি করে প্রায় এক মাস পরিচর্যার পর বাঁধে বসানোর কথা। কিন্তু ঠিকাদার ফ্রেমে ঢালাই উপকরণ ঢেলে ব্লক কাঁচা থাকতেই তুলে ফেলে এবং তার গায়ে এক মাস আগের তারিখ লিখেই বসিয়ে দেয়।

বাঁধের উপর নদীর পানি আছড়ে পড়ায় অল্পতেই সেই ব্লক তলিয়ে যায়। ফলে পাউবোর কোটি টাকা কার্যত পানিতেই পড়ে যায়। খবর পেয়ে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা গত ২০ জুলাই শহর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে যান। এ সময় অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শ্রীরামপুর এলাকার অধিবাসী জলিল মণ্ডল, আরশাদ আলী ও সেলিম হোসেন জানান, ব্লক ফেলার পর গত ২৪ জুলাই ভোরের দিকে বাঁধের একটি অংশ নদীর মধ্যে বসে যায়। সকালে পাউবোর প্রকৌশলীরা সেখানে গিয়ে বালুর বস্তা ফেলার নির্দেশ দেন। বর্তমানে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় এ চেষ্টাও ব্যর্থ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে রাজশাহী পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী সরদার রুহুল আমিন জানান, শহর রক্ষা বাঁধের শ্রীরামপুর পয়েন্টে ৩৫ মিটার এলাকার দু’সারি ব্লক পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে। তবে এরই মধ্যে ১ হাজার ৬০০ সিনথেটিক বস্তায় বালু ভরে ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্ট ভরাট করে দেওয়া হয়েছে।

বর্ষা গেলে শুকনো মৌসুমে স্থায়ীভাবে বাঁধ ব্লক বসাবেন। সে পর্যন্ত বাঁধে কোনো ঝুঁকি নেই বলে দাবি করেন এ কর্মকর্তা।

গত সপ্তাহে একনেক রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের জন্য ২৬৮ কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

খানসামায় জঙ্গীবাদ বিরোধী সমাবেশ ও মিছিল

খানসামা (দিনাজপুর)প্রতিনিধি: দিনাজপুর খানসামা উপজেলায় গতকালকে পালিত হলো জঙ্গীবাদ বিরোধী মিছিল ও সমাবেশ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ …