Mountain View

চট্টগ্রামে এক প্রকল্পের সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে অন্য প্রকল্পে

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৬, ২০১৬ at ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ

cht


মাটি খননের জন্য এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে লংবোম্ব স্কেভেটর। মাটি সরিয়ে আনতে কেনা হয়েছে দেড় কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি বড় ড্রাম্প ট্রাক। চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত ২ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খননের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে এসব সরঞ্জাম কিনেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।

কিন্তু এসব সরঞ্জাম এখন ব্যবহার করা হচ্ছে অন্য প্রকল্পে! কারণ তিন বছর মেয়াদের এ প্রকল্পের দুই বছর শেষ হয়ে গেলেও এ প্রকল্পের মাত্র সাত শতাংশ টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাই এ প্রকল্পের কোনো কাজেই হাত দিতে পারেনি সিসিসি। ফলে নিজস্ব অর্থায়নের টাকা থেকে নতুন খাল খনন প্রকল্পের জন্য কেনা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সরঞ্জামের কার্যক্ষমতা খরচ হচ্ছে পুরনো খাল খননের কাজে!

এ ব্যাপারে সিসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ বশাক বলেন, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে পূর্বদিকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ২ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৬ থেকে ১০ মিটার প্রশস্থ এই খাল খনন করা হবে। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়ায় কাজে হাত দেয়া যায়নি। এ প্রকল্পের জন্য সিসিসি এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা দিয়ে একটি লংবোম্ব স্কেভেটর কিনেছে। একই সঙ্গে কেনা হয়েছে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি ড্রাম্প ট্রাক। এ প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় এসব সরঞ্জাম অন্যান্য প্রকল্পের কাজে লাগানো হচ্ছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ওই খাল খননে  প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। সাড়ে চারশ’ কোটি টাকার এ প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ সরকার এবং ২৫ শতাংশ সিসিসি নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় গত দুই বছরে এ প্রকল্পের জন্য মাত্র বিশ কোটি টাকা ছাড় করেছে। যা এ প্রকল্পের সরকারের অর্থায়নের সাত শতাংশ। এ টাকাও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে সিসিসি’র প্রকৌশল বিভাগ।

এছাড়া সিসিসি’র ২৫ শতাংশ ব্যয় থেকে তিন কোটি ৩৭ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে একটি স্কেভেটর ও পাঁচটি ড্রাম ট্রাক। আর গত ছয় মাস ধরে এসব সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে অন্য প্রকল্পের কাজে। এতে এসব সরঞ্জামের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ কারণে খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে এসব সরঞ্জাম আবারও কিনতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিসিসি’র একাধিক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, একটি লংবোম্ব স্কেভেটর নতুন অবস্থায় যেটুকু মাটি উত্তোলনের কাজ সম্পাদন করতে পারে ছয় মাস বা এক বছর ব্যবহারের পর ওই যন্ত্রের সক্ষমতা পুরোপুরি থাকে না। বহদ্দারহাট-কর্ণফুলী খাল খনন প্রকল্পের জন্য কেনা স্কেভেটর চট্টগ্রামের বিভিন্ন খালের মাটি উত্তোলনের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে যখনই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে তখন নতুন স্কেভেটর কিনতেই হবে।

এ ব্যাপারে সিসিসি’র প্রধান নির্বাহী সফিউল আলম বলেন, ‘টাকা ছাড় সংক্রান্ত জটিলতায় এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই কাজে হাত দেয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া এ প্রকল্পের জন্য কেনা সরঞ্জামগুলো অন্য প্রকল্পের কাজে লাগিয়ে সচল রাখা হয়েছে। এতে কার্যক্ষমতা কমলেও অন্তত সরঞ্জামগুলো পুরোপুরি নষ্ট হবে না।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View