মুস্তাফিজ নামের গরীবের বৌ

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৬, ২০১৬ at ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

mustafiz_

দেবব্রত মুখোপাধ্যায় : আমি অমঙ্গল আশা করছি না। ‘কু ডাক’ ডাকতে চাই না। তারপরও বারবার মনে পড়ে সেই ২০০১ সালের কথা। কৈশোর পার না করা একটা ছেলের ক’দিন আগে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হয়েছে। অভিষেকে ঝড় তুলে দুনিয়াকে চমকে দিয়ে দেখিয়েছেন – বাংলাদেশ থেকেও ফাস্ট বোলার হওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ তখন গতির স্বপ্নে, সাফল্যের স্বপ্নে অন্ধ। ছেলেটাকে একটার পর একটা ম্যাচ খেলানো হচ্ছে। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট না খেলা ছেলেটাকে টেস্ট খেলতে হচ্ছে, ‘এ’ দল, জাতীয় দল, এমনকি অনুর্ধ্ব-১৯ দলেও খেলতে বলা হচ্ছে তাকে।

কেউ খেয়ালই করছে না, ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে পাওয়া চোটটা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। জোর করে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো নিউজিল্যান্ড সফরে। কারো অনুরোধ, উপদেশ না শুনে কোচ ট্রেভর চ্যাপেল জোর করে তাকে মাঠে নামালেন। একদিকে সিনিয়র পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম আগে থেকে ইনজুরিতে। টানা বল করে গেলো সেই কিশোর ছেলেটি। তারপর? তারপর ভেঙে পড়লো তার শরীর। সেই যে ভেঙে পড়লো, পরের ১৫টা বছর ধরে সেই ভাঙন সাথে নিয়েই পথ চলতে হয়েছে ছেলেটিকে।

ক্যারিয়ারের অর্ধেকেরও বেশী সময় তাকে মাঠের বাইরে ইনজুরির সাথে লড়ে সময় কাটাতে হয়েছে। শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের অবহেলা, নির্বুদ্ধিতা আর কোচের গোয়ার্তুমির ফলে সেই ছেলেটি চিরকাল সম্ভাবনমায় থেকেই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে চলে এলো। হ্যা, মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা বলছিলাম। শুধু মাশরাফি কেনো? মাশরাফির দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু তালহা জুবায়ের, মোহাম্মদ শরীফ আর সৈয়দ রাসেলের কথা মনে করুন।

কিংবা বাংলাদেশের বেশীরভাগ ওই প্রজন্মের ফাস্ট বোলারের কথা ভাবুন। ব্যাটসম্যানরা নন, এইসব ফাস্ট বোলারের বেশীরভাগের ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে মিস ম্যানেজমেন্টের কাছে। ইনজুরির ভুল ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ ফিট হওয়ার আগে মাঠে নামানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দেওযা এবং অবৈজ্ঞানিক অনুশীলন একটার পর একটা ফাস্ট বোলারের ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছে। তবে যুগ বদলেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন অনেক স্মার্ট।

এখন বোর্ডের আস্ত একটা মেডিকেল টিম আছে, দেশী-বিদেশী ফিজিও-ট্রেনার আছে। তারা অত্যাধুনিক ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়েন, বোঝেন, সেমিনারে যান। ফলে এই সময়ে এসে মাশরাফি বা তালহা কান্ড ঘটাটা একটু কঠিন। তারপরও মুস্তাফিজ এই যে ইংল্যান্ডে ইনজুরিতে পড়লেন, তাতে একটা শঙ্কা তৈরী

এ সম্পর্কিত আরও