Mountain View

সংসদে উত্তাপ বক্তব্য প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৬, ২০১৬ at ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ

টিআর-কাবিখার বরাদ্দে চুরি নিয়ে মন্তব্য করায় সংসদ অধিবেশনে রীতিমতো তোপের মুখে পড়েন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
সোমবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর এনিয়ে তুমুল হই হট্টগোল শুরু করেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা। পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে তারা ওই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। জবাবে মন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করেন। এতেও সদস্যরা শান্ত না হলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তথ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে অধিবেশনের শুরু থেকেই উত্তেজনা চলছিলো। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে এমপিরা এবিষয়ে ফ্লোর চাইলেও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পরে সময় দেয়ার কথা জানান। মাগরিবের নামাজের বিরতির সময় এনিয়ে স্পিকারের দফতরের নানা দেন-দরবার চলে। যে কারণে ২০ মিনিটের নামাজের বিরতি দেয়া হলেও অধিবেশন শুরু হয় প্রায় এক ঘণ্টা পর। চলমান কার্যক্রম শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ দেন। কথা বলেন, সরকারী দলের সদস্য সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, বিরোধী দলের সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। এরপর অনেকে ফ্লোর চাইলে স্পিকার তাদেরকে না দিয়ে তথ্যমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন।
এসময় সরকার ও বিরোধী দলের তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে সংসদে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি সংসদ সদস্যদের তীব্র ক্ষোভ ও হৈ-চৈ-এর মধ্য ফ্লোর নিয়ে বলেন, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য ছাপা হয়েছে সেটি অনভিপ্রেত ছিল। সেজন্য আমি সকল সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। এরপরও সংসদ সদস্যরা না থামলে তিনি আবারো বলেন, ওই বক্তব্যের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।
এর আগে অনির্ধারিত বিতর্কের সূত্রপাত করে তথ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সকল এমপিদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। তথ্যমন্ত্রীর এলাকায় টিআর ও খাবিখার কী কী কাজ হয়েছে তা তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সংসদের সাড়ে তিনশ’ সদস্যই চোর, আর একমাত্র সাধু হচ্ছেন আমাদের তথ্যমন্ত্রী। সারাদেশে এতো উন্নয়ন কী বাতাসে হচ্ছে? তথ্যমন্ত্রী কী ম্যাসেজ জাতিকে দিতে চাচ্ছেন? হাসানুল হক ইনুর বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। এই সংসদের প্রতিটি সদস্যকে তথ্যমন্ত্রী অপমান করেছেন। এই সংসদে দাঁড়িয়ে উনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই।
স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, তথ্যমন্ত্রী সবাইকে চোর বানাতে পারেন না। উনি যা বলেছেন তাতে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রীরা কেউ-ই সেই অপবাদ থেকে বাদ পড়েন না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দুদকসহ তথ্যমন্ত্রী সবাই মিলে আমার এলাকা তদন্ত করুন। এক টাকার অনিয়ম হলে আমি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবো। তবে তথ্যমন্ত্রীর এলাকারও তদন্ত করা উচিত। তথ্যমন্ত্রী সবারই ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন, উনার বিবেকের তাড়নায় তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী প্রথমে তার বক্তব্যে প্রত্যাহার এবং দুঃখ প্রকাশ করলেও এমপিদের শান্ত করতে ব্যর্থ হন। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণার দাবি জানান। এরপরও সংসদ সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ জানাতে থাকলে স্পিকার বলেন- তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখা দিয়েছেন এবং প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন। এরপরও আপনারা কী চান তা আমাকে বুঝতে হবে। এ সময় জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ আরো বেশ ক’জন সদস্য মাইক ছাড়াই চিৎকার করে বলতে থাকেন- মাননীয় স্পিকার, তথ্যমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে আমরা শান্ত হবো না। তাকে ক্ষমা চাইতেই হবে।
এরপর দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তার বক্তব্যের জন্য এমপিদের সামনে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখা দিতে গিয়ে বলেন, রোববার দুপুরে রাজধানীতে পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা ফাউন্ডেশনের একটি আলোচনা সভায় টিআর ও কাবিখা নিয়ে আমার একটি মন্তব্য নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এই মন্তব্যে কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এ ব্যাপারে রোববার রাতেই আমি একটি বিবৃতি দিয়েছি। আসলে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে টিআর ও কাবিখা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়ে আমি সম্প্রতি সময়ে ক্ষেত্র বিশেষে কিছু দুর্নীতির কথা বলেছি। ঢালাওভাবে সবাইকে অভিযুক্ত করে কিছু বলিনি।
এ সময় এমপিরা ‘নো নো, আপনি বলেছেন’ বলে প্রতিবাদ করতে থাকলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে আমার বক্তব্যে আংশিকভাবে প্রচার হয়েছে, পুরোটা প্রচার হয়নি। তবে আমি একজন এমপি হয়ে অন্য সব এমপিকে আন্তরিকভাবে সম্মান করি এবং তা অব্যাহত আছে। তাই আমার বক্তব্যে জনপ্রতিনিধিরা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাকে দুঃখিত। আমি ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।

এ সম্পর্কিত আরও