Mountain View

জ্বালানি তেলের দাম তিন মাসে সর্বনিম্নে

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৭, ২০১৬ at ৭:০৯ অপরাহ্ণ

oil


চলতি সপ্তাহে নিম্নমুখিতায় শুরু হয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার। যুক্তরাষ্ট্রে উত্তোলন কর্মকাণ্ডে চাঙ্গাভাবের পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিশোধন কর্মকাণ্ডের শ্লথতায় বাজারে পণ্যটির অতিরিক্ত সরবরাহের চাপ দীর্ঘায়িত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে সোমবার দিনশেষে পণ্যটির মূল্য নেমে আসে তিন মাসে সর্বনিম্নে। খবর মার্কেট ওয়াচ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মরগান স্ট্যানলির রোববার প্রকাশিত এক নোটে দেখা যায়, বাজারে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে উত্তোলন আবারো পুরোদমে শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ছে, যা পেছনে ফেলে দিচ্ছে পণ্যটির চাহিদা প্রবৃদ্ধিকে।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) সোমবার সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ব্যারেলে ১ ডলার ৬ সেন্ট। আগের দিনের চেয়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে এদিন পণ্যটির বাজার স্থির হয় প্রতি ব্যারেল ৪৩ ডলার ১৩ সেন্টে। ফ্যাক্টসেট ডাটার হিসাব অনুযায়ী, বাজারে এদিন পণ্যটির সর্বশেষ মূল্য নেমে আসে ২৫ এপ্রিলের পর সর্বনিম্নে। এর আগে শুক্রবার ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে পণ্যটির বাজার স্থির হয়েছিল ৪৪ ডলার ১৯ সেন্টে। এর মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহে পণ্যটির দরপতনের হার দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশে।

অন্যদিকে লন্ডনের ইন্টার কন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে ব্রেন্ট তেলের দাম কমেছে ব্যারেলে ৯৭ সেন্ট। সোমবার এখানে পণ্যটির সর্বশেষ বিক্রয়মূল্য কমে দাঁড়ায় ৪৪ ডলার ৭২ সেন্টে। সারা দিনের লেনদেনে পণ্যটির মোট দরপতনের হার ২ দশমিক ১ শতাংশ। এর আগে শুক্রবার ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে পণ্যটির বাজার স্থির হয়েছিল ৪৫ ডলার ৬৯ সেন্টে। গত সপ্তাহে আইসিইতে ব্রেন্টের দরপতন হয়েছিল ৪ শতাংশ।

বিশ্বব্যাপী পরিশোধিত তেলের মজুদ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সামনের দিনগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যবহারিক চাহিদা আরো হ্রাস পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মরগান স্ট্যানলি। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, শিগগিরই বিশ্বব্যাপী পরিশোধনাগারগুলোর দৈনিক চাহিদা নেমে আসবে ৬ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেলে। বর্তমানে এ চাহিদার পরিমাণ দৈনিক আট লাখ ব্যারেল।

ইউরোপভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শ্নাইডার ইলেকট্রিকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হোলডার জানান, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে বড় শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ চাপ। চাহিদা হ্রাসের পাশাপাশি পরিশোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকাণ্ড শুরুর মৌসুমও ঘনিয়ে আসছে। এর ওপর বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, বিশ্বব্যাপী প্রতিদিনই পণ্যটির মজুদ বাড়ছে আগের দিনের চেয়ে বেশি পরিমাণে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহেও জ্বালানি তেলের উত্তোলনরত কূপের সংখ্যা বেড়েছে। দেশটিতে এ সময় পণ্যটি উত্তোলনরত কূপের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চলতি বছরে সর্বোচ্চে। জ্বালানি তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বেকার হিউজেসের হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানি তেল উত্তোলনরত কূপের সংখ্যা ১৪টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭১টিতে। এর আগের সপ্তাহে ছয়টি বেড়ে দেশটিতে এ ধরনের কূপের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩৫৭টিতে। দেশটিতে গত সপ্তাহে এ ধরনের কূপের সংখ্যা বেড়েছে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো।

নানামুখী কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেলের মূল্যস্তর প্রতি ব্যারেল ৫০ ডলারের নিচে আটকে রয়েছে। জুনে যুক্তরাজ্যের জনগণের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের চাহিদাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলা অব্যাহত রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ প্রভাবকে আরো জোরালো করে তুলছে হিটিং অয়েল, ডিজেল ও গ্যাসোলিনের মতো পরিশোধিত তেলের মজুদ বৃদ্ধি।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ফিলিপ ফিউচার্স গ্রুপের এশীয় পণ্যবাজার বিশ্লেষক আভতার সান্ধু বলেন, ব্যবহারিক চাহিদার ভরা মৌসুম যখন প্রায় শেষের পথে, তখনো বাড়তির দিকে রয়েছে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ। ফলে সামনের দিনগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

সান্ধুর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সর্বনিম্ন মূল্যস্তর দাঁড়াতে পারে প্রতি ব্যারেল ৪১ ডলারে।

এ সম্পর্কিত আরও

no posts found

কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর

no posts found
  • কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য - এর সব খবর →
  • Mountain View