ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নানা বঞ্চনায় ভারত থেকে ফিরতে চায় সাবেক ছিটমহলের মানুষ

c


বঞ্চনার মুখে ভারত থেকে ফিরে যেতে চাইছেন সাবেক ছিটমহলের মানুষ- এই শিরোনামে ভারতের কলকাতার দৈনিক গণশক্তি্  আজ বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়ায় ইতিমধ্যেই অন্তত ২০ জন বাংলাদেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভারতের কোচবিহারের ‘ছিটমহলবাসী’দের জন্য প্রতিশ্রুতিমাফিক পরিকাঠামো তৈরি হলো না কেন? সোমবার ভারতের রাজ্যসভায় এই প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগে সরব হলেন সিপিআই (এম) সাংসদ ঋতব্রত ব্যানার্জি ও কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য।

কোচবিহারে ছিটমহলবাসীদের জন্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো টাকা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি হচ্ছে ও পরিকাঠামো নির্মাণের টাকা পশ্চিমবঙ্গ সরকার যথাযথভাবে খরচ করছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ঋতব্রত ব্যানার্জি।

ভারত ও বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকর করতে গত বছরের মার্চ মাসে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হয় সংসদে। সেই অনুসারে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ১৬২টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মিশে যায় এবং ভারতের মধ্যে থাকা ৫১টি ছিটমহল ভারতীয় ভূখণ্ডে মিশে যায়। এই ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময়ের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে ৯২১ জন চলে এসেছিলেন ভারতে। কিন্তু তাদের এখনকার অবস্থা কী?

রাজ্যসভায় জিরো আওয়ারে ঋতব্রত ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, যে স্বপ্ন নিয়ে তারা ভারতে এসেছিলেন তা কয়েকমাসের মধ্যেই ভঙ্গ হয়েছে। দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়িতে তিনটি অস্থায়ী শিবির তৈরি হয়েছে। তিনটি অস্থায়ী শিবিরেরই করুণ অবস্থা। একটা ছোট টিনের ঘরে একাধিক পরিবারকে থাকতে হচ্ছে। চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা হয়নি।

এরপরেই মারাত্মক অভিযোগ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়ায় ইতিমধ্যেই অন্তত ২০ জন বাংলাদেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উচিত একসঙ্গে বসে অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ শুরু করা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তিমাফিক ছিটমহলবাসীদের আবাস, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ এখন সেসব না পেয়ে ছিটমহলবাসীরা বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

ছিটমহল বিনিময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের এগারোশো কোটি টাকার একটি প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ঋতব্রত ব্যানার্জি অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখনো পর্যন্ত মাত্র ১০ কোটি টাকা খরচ করেছে। বাস্তবে এই টাকা খরচ নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এখনই আরো ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা ছিটমহলে পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য।

বাস্তবে কোচবিহারের দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়িতে তিনটি অস্থায়ী শিবিরে যারা রয়েছেন তাঁরা নামমাত্র রেশন পাচ্ছেন। স্থায়ী আয়ের কোনো ব্যবস্থা করেনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। কাজের সুযোগ সুবিধা না পেয়ে অনেকে চোরাপথে ফিরে গেছেন বাংলাদেশে। রাজশাহীতে কর্তব্যরত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাংলাদেশের সাবেক ছিটমহল পঞ্চগড় পরিদর্শন করে জানতে পারেন ভারতীয় ছিটমহল থেকে জমি বাড়ি বিক্রি করে চলে যাওয়া নাগরিকদের অনেকেই আবার ফিরে আসতে চাইছেন। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বুঝে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রিপোর্ট পাঠান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে রিপোর্ট পাঠিয়ে বিস্তারিত জানতে চায়। আর তারপরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে চেয়ে কলকাতায় নবান্নে চিঠি পাঠান। নবান্ন থেকে কোচবিহার জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই জটিল হয়ে গিয়েছে।

ক্ষোভ শুধু বাংলাদেশ থেকে আসা ছিটমহলবাসীদের অস্থায়ী শিবিরেই নয়, ভারতীয় ভূখণ্ডের ছিটমহলবাসীদের মধ্যেও। গত এক বছরে প্রতিশ্রুতিমাফিক বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, পানীয়জল কিছুই মেলেনি। এমনকি জমির কাগজপত্রও না মেলায় তাদের সমস্যারও কোনো সমাধান হয়নি। এসব বিষয়ে রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার কিছুই হয়নি। অস্থায়ী আবাসসহ অন্যান্য পরিকাঠামো নির্মাণে রাজ্য সরকার যা খরচ করেছে তা সাকুল্যে ৫০ লক্ষ টাকার মতো হবে। তাহলে কেন্দ্রের থেকে পাওয়া ১০ কোটি টাকার কী হলো? এই প্রশ্নও উঠছে। বাংলাদেশ থেকে আসা ভারতীয় নাগরিকদের দুবছরের মধ্যে স্থায়ী আবাস দেয়ার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত স্থায়ী আবাসের জমিই চিহ্নিত হয়নি বলে কোচবিহার জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ১১০০ কোটি টাকার মধ্যে চারশো কোটি টাকা দিয়ে হলদিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জের মধ্যে তিস্তা সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো রাজ্য সরকার। শিলান্যাস হয়ে গেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে সেতুর নামকরণও করে ফেলেছেন, ‘জয়ী সেতু’। কিন্তু সেই সেতুর জন্য আজ পর্যন্ত একটা ইঁটও গাঁথা হয়নি।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

68c6a1d425672e5846dcf5dbe32a3b36x600x400x33

‘শান্তিরক্ষা মিশনে অস্ত্রশস্ত্র ভাড়া বাবদ বাংলাদেশের বার্ষিক আয় ৪৩৭,৫২,৯৫,২৬৪ টাকা’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ২০০১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত জাতিসংঘ …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *