ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

শেরপুরে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন শতাধিক মানুষ

nodi


শেরপুরের সদর উপজেলার চর পক্ষীমারি ইউনিয়ন এবং নকলা উপলোর চর অষ্টাধর ইউনিয়নের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এ কারণে ভয়াবহ নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ওই দুই উপজেলার শতাধিক মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছে। গত এক মাসে শেরপুর সদর উপজেলার চর পক্ষীমারি ইউনিয়ন এবং নকলা চর অষ্টাধর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়নখোলা গ্রামের শতাধিক বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই এলাকার মানুষ গৃহহারা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের পাশে এখনও কেউ এসে দাঁড়াননি।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষরা জানিয়েছেন, সরকারী কর্মকর্তারা শুধু আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন তাদের। সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরাও ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু এখনও কোনও ত্রাণ বা সহযোগিতা পাননি তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরেও নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে বিষয়টি জানালে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাকে আশ্বস্ত করেছেন। জিন্না এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

জানা গেছে, প্রতিবছরই কমবেশি ভাঙনের কবলে পড়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর তীর ঘেঁষা শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের বেপারী পাড়া গ্রাম । তারই ধারাবাহিকতায় এবারও শুরু হয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙন। গত এক মাসে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে।  গত ১৫ বছরে বিলীন হয়ে গেছে আশপাশের ভাগলগড়, কুলুরচরসহ তিনটি গ্রাম। নদী তীরবর্তী বর্তমানের এ গ্রামটিতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস। নদী ভাঙনের কারণে এ গ্রামের পাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতশত বাড়িঘর গত কয়েক বছরে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এবার নদী ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ গ্রামে বসবাসকারী মানুষজন হয়ে পড়েছেন দিশেহারা । ক্ষতিগ্রস্তরা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাঙন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া, চর্মসহ পানিবাহিত নানা রোগ। অর্থাভাবে চিকিৎসাও পাচ্ছে না এ অসহায় মানুষগুলো।

অপরদিকে, জেলার নকলা উপজেলার চর অষ্টাধর ইউনিয়নে একই নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ নারায়নখোলা গ্রামেও ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দেওয়ায় ওই এলাকার একটি মসজিদ ও দক্ষিণ নারায়খোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এ এলাকার বেশ কিছু বাড়ি-ঘর,  কয়েকশ’ একর জায়গা জমি, গাছপালা, কবরস্থান নদীগর্ভে চলে গেছে।

এদিকে, নদী ভাঙনের ব্যাপারে শেরপুর জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিম জানান, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

মিয়ানমারের গণহত্যার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে প্রতিবাদ ও গণমিছিল

মো:শরিফুল ইসলাম বাপ্পি,প্রতিনিধি (রাজবাড়ী জেলা) সাম্প্রতিক মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মুসলিম রোহিঙ্গাদের হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *