Mountain View

জঙ্গি শেহজাদের আমেরিকান পাসপোর্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন নানান বিতর্ক

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৮, ২০১৬ at ১:৩৮ অপরাহ্ণ

2016_07_27_22_48_47_xOFQHRHCevgt24SVUMvcYTKRAxGYNU_original

কল্যাণপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত নয় জনের একজন শেহজাদ রউফ অর্ক ওরফে মরক্কো। বাবার নাম তৌহিদ রউফ।

৬২ পার্ক রোড, বাসা নং-৩০৪, রোড নং-১০, ব্লক-সি, ফ্ল্যাট নং-০৯, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাদের বাসা।

শেহজাদের মার্কিন নাগরিকত্বও রয়েছে। তার মার্কিন পাসপোর্ট নম্বর- ৪৭৬১৪৫৯৯২। এ বিষয়টিই আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি কীভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেন? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

শেহজাদের এক নিকটাত্মীয় জানান, তিনি অনার্স করেছেন আমেরিকান ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০১৫ সালে দেশে ফিরে মাস্টার্স করার জন্য ভর্তি হোন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার বাবা তৌহিদ রউফ সেনাবাহিনীর সাপ্লাইয়ের বিজনেস করেন।

দু’ বোন এবং বাবা মায়ের সঙ্গে শেহজাদ নিজেদের বাড়িতেই থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরে।

তবে এই মার্কিন পাসপোর্ট শেহজাদ যুক্তরাষ্ট্র পড়তে যাওয়ার আগে পেয়েছেন নাকি তিনি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে ফিরেছেন এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মুখ খুলছেন না।

বিষয়টিতে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘শেহজাদ কীভাবে মার্কিন পাসপোর্ট পেলেন, সেটা ঠিক আমার জানা নেই। তদন্ত করে তারপর জানাতে পারবো।’

শেহজাদের ওই নিকটাত্মীয় জানান, তিনি গান শুনতে প্রচণ্ড পছন্দ করতেন। মাঝে মাঝে পারিবারিক অনুষ্ঠানে গাইতো। কীভাবে সেই ছেলে এমন উগ্রপন্থায় জড়িয়ে গেল তারা ভেবেই কূল পাচ্ছেন না।

গত সোমবার মধ্যরাতে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডের জাহাজ বিল্ডিং নামের পরিচিত একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। সারারাত ওই বাড়ি ঘিরে রেখে মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালায়। অভিযানে নিহত হয় ৯ জঙ্গি। ডিএমপি থেকে নিহতদের ছবি প্রকাশের পর শেহজাদ বাবা তৌহিদ রউফই পুলিশকে জানান, এর মধ্যে একজন তার ছেলে বলে তাদের ধারণা।

ছেলের মৃতদেহ শনাক্ত করতে বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে যান তিনি। এসময় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তাও ছিল তার সঙ্গে। কিন্তু সাংবাদিকদের সঙ্গে তাদের কেউই কথা বলতে রাজি হননি। তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদের সঙ্গে কথা বলেন।

শেহজাদের ওই আত্মীয় আরো জানান, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আমেরিকান পাসপোর্ট নিয়ে বাড়ি থেকে উধাও হোন শেহজাদ। ৭ ফেব্রয়ারি রাতে শেহজাদের মামাতো ভাই আহমেদ শাম্মুর রায়ইানকে বাসা থেকে তুলে নেয় আইনশৃঙ্খলবা বাহিনী। বলা হয়, তার কিছু বন্ধু নিখোঁজ হয়েছে। ওদের সম্পর্কে শাম্মুর কাছ থেকে কিছু তথ্য নেয়া হবে।

৯ ফেব্রুয়ারি শাম্মুরের মা মেহেরজাবীন রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি শাম্মুরসহ আরো দু’জনকে আদালতে হাজির করে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অন্য দু’জন হলেন রায়হান মিনহাজ ও তৌহিদ। ওই মামলায় শেহজাদ, গুলশান হামলায় নিহত নিবরাসসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ৭ ফেব্রুয়রি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউটের সামনে একদল তরুণ নাশকতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করা হয়। নিবরাস, শেহজাদসহ আরো ৫ থেকে ৬ জন পালিয়ে যায়। ওই মামলায় প্রথমে ৬ দিন, পরে ৪ দিন রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয় শাম্মুরসহ ৩ জনকে। মাসখানেক পরই জামিনে ছাড়া পান শাম্মুর। তিনি এখন বাড়িতেই আছেন। কিন্তু শেহজাদ নিখোঁজই থেকে যান।

শেহজাদ আর শাম্মুর মামাতো-ফুফাতো ভাই। শেহজাদ ৭ মাসের বড়। শেহজাদ বড় হলেও শাম্মুর আগে অনার্স শেষ করেছেন। তারা দুজনই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল স্কলাস্টিকা থেকে ‘ও’ লেভেল সম্পন্ন করে পড়তে যান যুক্তরাষ্ট্র। ওখানে

একবছর পড়াশুনা করে শাম্মুর চলে যান মালয়েশিয়া। শেহজাদ আমেরিকাতেই থেকে যান। সেখান থেকে স্নাতক শেষ করে দেশ ফিরে আসেন শেহজাদ। আর মালয়েশিয়ার লিংকন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতোকত্তর শেষ করে দেশে ফিরে আসেন শাম্মুর।

পরে শেহজাদ দেশে ফিরে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হোন। গত ১ জুলাই গুলশান এবং ঈদের দিন শোলাকিয়া হামলার পর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বারবার আলোচনায় উঠে আসছে। গুলশান হামলাকারী নিবরাস এবং শোলাকিয়া হামলাকারীদের একজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম গুলশান হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আছেন।

উল্লেখ্য, গুলশানের হোটেল আর্টিসান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর নিখোঁজ ও বিদেশ ফেরত তরুণদের বিষয়ে তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় নিখোঁজ ৬৮ জনের একটি তালিকা। ওই তালিকাতেও রয়েছে শেহজাদের নাম।

এ সম্পর্কিত আরও