কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থানে হবে পার্ক ও খেলার মাঠ

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৯, ২০১৬ at ৭:১৮ অপরাহ্ণ

park


রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে বন্দী স্থানান্তর আনুষ্ঠানিকভাবে আজ শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে যা এখন পর্যন্ত চলছে। পুরান ঢাকার ২০০ বছরের পুরোনো কারাগারের ঠিকানা বদল হয়েছে। ফলে বন্দী কয়েদিরা পাচ্ছে নতুন ঠিকানা। তবে কারাগারের জায়গায় নতুন করে গড়ে উঠছে বিনোদন কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় বিনোদন পার্ক হবে বলে কারা সূত্র জানিয়েছে।

তাহলে কেন্দ্রীয় কারাগারের বিদায় আর সূচনা হচ্ছে পার্কের অধ্যায়ের।

এ ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় হবে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতি জাদুঘর। এলাকাবাসীর বিনোদনের স্থান হিসেবে কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থানে পার্ক হবে। ঐতিহাসিক মূল্য আছে, এমন ভবন সংরক্ষণ করা হবে, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’

মেয়র নির্বাচনের আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি নির্বাচিত হলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থানে পার্ক ও খেলার মাঠ গড়ে তুলবেন। উন্মুক্ত স্থান হিসেবে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা যাতে প্রাতর্ভ্রমণ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করবেন। শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার সুযোগ করে দেবেন।

নির্বাচনের আগে পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন আজ শুক্রবার বলেন, সবাই জানেন, পুরান ঢাকা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে নেই কোনো পার্ক। শিশুদের জন্য তেমন খেলার মাঠ নেই। এলাকাবাসীর প্রাতর্ভ্রমণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই পুরান ঢাকার বাসিন্দারা চান কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গাটি ‘উন্মুক্ত স্থান’ হিসেবে রাখা হোক। এলাকাবাসী যেন প্রাতর্ভ্রমণ করার সুযোগ পান, ছেলেমেয়রা যাতে খেলাধুলা করতে পারে।

সাঈদ খোকন জানান, কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে। জায়গাটি সিটি করপোরেশন পেলে অবশ্যই এলাকাবাসীর চাহিদা পূরণ করা হবে। তিনিও চান কারাগারের স্থানটিকে উন্মুক্ত স্থান হিসেবে রাখা হোক। এলাকাবাসীর বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে প্রাতর্ভ্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। সর্বোপরি এলাকাবাসীর জন্য পার্ক গড়ে তোলা দরকার। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে পরিত্যক্ত জায়গায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষের জন্য শিশুপার্ক, খেলার মাঠ, পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ সবুজ বলয় গড়ে তোলা হোক।

জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, আজ শুক্রবার ঐতিহাসিক দিন। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে ১৭৮৮ সালে নির্মিত কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হচ্ছে। কারাগারের ভেতরে ১৭ একর জমি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের স্থানে মানুষের বিনোদনের জন্য পার্ক হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে কারাগারের কিছু ভবন সংরক্ষণ করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও