Mountain View

বাংলাদেশ-ভারত বন্দি বিনিময়ে চুক্তি শীঘ্রই কার্যকর

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৯, ২০১৬ at ৯:৫১ অপরাহ্ণ

bd ind


সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করার জন্য একমত হয়েছেন দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবার পঞ্চম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তারা সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অবৈধ মাদক ব্যবসা দমন সংক্রান্ত চুক্তি অবিলম্বে কার্যকর করার বিষয়ে একমত হন। বাংলাদেশে ভারত দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছে এবং গত ১২ মাসে ৫০টির মতো সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়েছে। এরই মধ্যে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে আক্রমণের মতো বড় আকারের জঙ্গি হামলাল ঘটনা ঘটেছে।
বৈঠকে রাজনাথ সিং ঢাকায় জুলাইয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নতি নিশ্চিত করার জন্য দুই দেশকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। আসাদুজ্জামান কামাল খাঁন কামাল বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ে মোদি সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের অব্যাহত সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভারতীয় দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে অন্য দেশে আটক বন্দি ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টির ক্ষেত্রে একমত পোষণ করা হয়। এখানে উল্লেখ্য বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, ২১ আগস্ট মাসে গ্রেনেড হামলার মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের হুরকাতুল জিহাদ নেতা মুরসালিন, মুত্তালিন, কুখ্যাত অপরাধী সুব্রত বাইন, সাবেক সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টার খুনের অভিযুক্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি দীপু, চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেন এবং উগ্রপন্থী নেতা মুক্তার হোসেন ভারতে আছে।
অন্যদিকে, ভারতের নাগরিক জঙ্গি সালিম ওরফে মোবাশ্বের শাহীদসহ দাউদ মার্চেন্ট, মাওলানা মনসুর আলী হবিবুল্লাহ, মুফতি ওবায়েদুল্লাহ ওরফে আবু জাফর, মাওলানা এমদাদল্লাহ, জাহিদ শেখ ও আরিফ হাসান বাংলাদেশে আছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্যদেশে আটক নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে প্রত্যাবাসনের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনের চুক্তি করার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং দুইপক্ষ এ চুক্তি করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়।
বৈঠকে বহিঃসমর্পণ চুক্তির একটি ধারার সংশোধনী আনার জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়। এর ফলে এ চুক্তি আরও বেশি কার্যকর হবে।
বৈঠকে তিনটি সমঝোতা স্মারক দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত কোস্টগার্ড সমঝোতা স্মারক, নকল মুদ্রা চোরাচালান সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক এবং মানবপাচার বন্ধ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে জোর দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক শহীদুল হক, বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম, প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজ্জু, স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব মেহরিশিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সম্পর্কিত আরও