Mountain View

ব্যবসায় সততার ফজিলত

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৯, ২০১৬ at ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

islam


নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহাবিরা আরজ করলেন, আল্লাহর নিকট ব্যবসায়ীদের মর্যাদা কীরূপ? হজরত রাসূল (সা.) বললেন, ‘সৎ ব্যবসায়ীরা আল্লাহর বন্ধু। ব্যবসায়ীরা শত ব্যস্ততার মধ্য থেকেও আল্লাহর স্মরণে সময় ব্যয় করে। সালাত আদায় করে। নামাজের জামায়াতে শামিল হয়। যাকাত প্রদান করে। ব্যবসায়ীরা মুমিনের দলভুক্ত।’ হজরত রাসূল (সা.) সৎ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শ ব্যবসায়ীদের খুব পছন্দ করতেন। হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক এবং শহীদের সাথে থাকবে।’ -সুনানে তিরমিযি
কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘এরা এমন লোক (মুমিন ব্যবসায়ী), যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ (জিকির) থেকে বিরত রাখে না; সালাত কায়েম করা এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে। পরিণামে তাদের সৎ কাজের জন্য আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করেন।’
-সূরা নূর :৩৭-৩৮
হারাম নেশাজাতীয় খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করলে গুনাহগার হতে হয়। হারাম খাদ্যবস্তু বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দা হারাম পন্থায় উপার্জিত অর্থ দান-খয়রাত করলে তা (আল্লাহর দরবারে) কবুল হবে না এবং নিজ কাজে ব্যয় করলে তাতে বরকত হবে না। আর এরূপ অর্থ তার ওয়ারিশদের জন্য রেখে গেলে তা তার জন্য দোযখের মূলধন হবে।’ -আহমদ
হযরত উবাইদা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হারাম ও ভেজাল মিশ্রিত খাদ্যবস্তু বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীরা ফাসেক ও গুনাহগারদের কাতারে উপস্থিত হবে।’
সৃষ্টির কল্যাণ ও মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে হালাল ব্যবসা করার নিয়ত করাও একটি উত্তম ইবাদত। হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, একদিন সাহাবিরা আরজ করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)! কোন প্রকারের কামাই উত্তম? তিনি বললেন, নিজ হাতের কামাই এবং হালাল ব্যবসার উপার্জন।’ -আহমদ
হালাল খাদ্য না খেলে ইবাদত কবুল হয় না। তাই নিজ হাতের দ্বারা উপার্জন করা উত্তম। আর যে ব্যবসা মানুষের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেয় তা কোরআন-হাদিস মোতাবেক বৈধ ব্যবসা নয়। অধিক মুনাফার লোভে বাজারে খাদ্যবস্তুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দিলে গুনাহগার হতে হয়। এ প্রসঙ্গে হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের ওপর অভাব-অভিযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে খাদ্যবস্তু গুদামজাত করবে; মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দরিদ্র এবং কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।’ -ইবনে মাজাহ ও বায়হাকি
হজরত মামার (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, ‘হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি খাদ্যবস্তু গুদামজাত করে, সে গুরুতর অপরাধী। খাদ্যবস্তু গুদামজাতকারী গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবে। -সহিহ মুসলিম
ব্যবসায় সততার লক্ষণ হলো ওজনে সঠিক মাপ দেওয়া। পরিমাপে কম দেওয়া গুনাহ। এ প্রসঙ্গে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে_ ‘তোমরা মেপে দেওয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়, এটাই উত্তম ও পরিণামে উৎকৃষ্ট।’ -সূরা বনি ইসরাঈল :৩৫
ব্যবসায়ীরা খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রয় করে। আর কোনো ব্যবসায়ী যদি মনে করে যে, তার সংগৃহীত খাবার খেয়ে মানুষ আল্লাহর গুণকীর্তন করবে; নামাজ পড়বে, রোজা রাখবে, সুস্থ থাকবে; তখন ব্যবসায়ীর পুরো ব্যবসা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে। আর আল্লাহ সৎ ব্যবসায়ীকে গায়েব থেকে অপরিমিত বরকত দান করবেন। ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে দেবেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা বজায় রাখার জন্য আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দান করুন।

এ সম্পর্কিত আরও