Mountain View

হেপাটাইটিস রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৯, ২০১৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

h t


আধুনিক চিকিৎসায় হেপাটাইটিস রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব বলে জানিয়েছেন লিভার বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা ও পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করলে এ রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া যায়। তাই এ রোগ নিরাময় সম্পর্কে তৃণমূলে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বৃহস্পতিবার বিশ্ব হেপাটাইটস দিবস-২০১৬ পালন উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন।
দিবসটি উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজিজ কন্ট্রোল ইউনিট, ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দি লিভার বাংলাদেশ এবং ভাইরাল হেপাটাইটিস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর আগে এ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি প্রেসক্লাব থেকে হাইকোর্টের সামনে দিয়ে সচিবালয় হয়ে আবার প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়। র‌্যালি ও গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক কামরুল হাসান খান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ কে আবদুল মোমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সেলিমুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বে প্রতিদিন হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত ৪ হাজার রোগী মারা যান। আর ৮০ শতাংশ লিভার ক্যান্সারের কারণ হচ্ছে হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাস।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ থেকে ২০ কোটি, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ লোক এ ভাইরাসে আক্রান্ত। অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভারের চেয়ারম্যান ডা. মামুন আল-মাহতাব স্বপ্নীল বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৫.৪ শতাংশ লোক হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ০.৮ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এ দুইটি ভাইরাস দেশে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারণ। এ রোগে ভুগে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ লোক মারা যান। আর হেপাটাইটিস ‘বি’র চিকিৎসায় প্রতি বছর যে অর্থ ব্যয় হয়, তা দিয়ে প্রতি ৫ বছরে একটি পদ্মা সেতু বানানো সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে বিএসএমএমইউ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে। পাশাপাশি তিনি হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের গবেষণায় এ দেশের লিভার বিশেষজ্ঞদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলের আওতায় বাংলাদেশে ২০১৩ সালের মধ্যে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসের ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। হেপাটাইটিস নির্মূলেও আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারব।
অধ্যাপক কামরুল বলেন, এ নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস প্রতিরোধে আমাদের সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। আমরা চিকিৎসকরা এ রোগ সম্পর্কে সম্যকভাবে জানি। কিন্তু এ রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তৃণমূল মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ গণমাধ্যম যে কোনো তথ্য মুহূর্তে ছড়িয়ে দিতে পারে। এ জন্ডিস বা হোপাটাইটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধ কীভাবে করা যায়, তা মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। বর্তমানে হেপাটাইটিস বিষয়ে দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন বলেন, উন্নত দেশে হেপাটাইটিস রোগের প্রকোপ খুবই কম। কিন্তু এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দরিদ্র দেশগুলোয় এ রোগে মৃত্যু হার অনেক বেশি। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে হবে, যক্ষ্মা বা এইচআইভি/এইডসে যে পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হয়, তার চেয়েও নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস রোগে বেশি মানুষ মারা যান। অথচ সচেতনতার মাধ্যমে সহজেই এ রোগ নিরাময় সম্ভব।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View