ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বরিশালে কমছে দেশি পেয়ারার উৎপাদন

deshi


বাংলার আপেলখ্যাত বরিশালের পেয়ারা উৎপাদন ক্রমেই হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর জেলার ৩৫ গ্রামজুড়ে প্রায় ৩১ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠেছে পেয়ারার বাগান। বাগানগুলোয় পেয়ারার উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। গেল বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৪ হাজার টন পেয়ারার উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্ট চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা। অপরদিকে বিদেশি পেয়ারার জাত বাজার দখল করায় দেশি পেয়ারা উৎপাদনকারী চাষি সঠিক মূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ ও চাষিদের তথ্য মতে, স্বরূপকাঠির ৬৫২ হেক্টর জমিতে এবার প্রায় ৫ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদন হতে পারে। যদিও গেল বছর উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার টন। ঝালকাঠির ৫০০ হেক্টর পেয়ারা বাগানে এবার সাড়ে ৩ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদন হতে পারে। গেল বছর পেয়ারা উৎপাদন হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টন। বানারীপাড়ায় ১৫ হেক্টর জমিতে এবার ১০০ টন পেয়ারা উৎপাদন হতে পারে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে। গেল বছর পেয়ারা উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১৫০ টন।
জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতেই সরগরম হয়ে উঠেছে এ অঞ্চলের বাজারগুলো। বরিশাল, ঝালকাঠি, স্বরূপকাঠির প্রায় ৩৫টি গ্রাম নিয়ে গড়ে ওঠা পেয়ারার রাজ্য দেশজুড়ে পরিচিতি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঝালকাঠির কীর্তিপাশা, ভিমরুলী, শতদশকাঠি, জগদীশপুর, মিরাকাঠি, রাঙ্গামাটিয়া, ডুমরিয়া, স্বরূপকাঠির আটঘর, কুরিয়ানা, জিন্দাকাঠি, নড়েররকাঠি এবং বানারীপাড়ার গাভা ও নরেরকাঠি। এসব গ্রাম থেকে প্রতিদিন চাষিদের মাধ্যমে পাইকাররা নৌ ও সড়কপথে শত শত টন পেয়ারা নিয়ে যাচ্ছে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায়। পেয়ারা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বরিশাল-ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৬টি ব্যবসা কেন্দ্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ভিমরুলী, আটঘর, কুড়িয়ানা, ডুমুরিয়া, শতদশকাঠি, জলাবাড়ী, বাউকাঠি, বানারীপাড়া। ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলী গ্রামের পেয়ারা চাষি ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ বলেন, ফুল ধরার সময় খরা হওয়ায় ফলন কম হয়েছে। পোকায়ও ধরেছে পেয়ারা। এ কারণে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। ভীমরুলী খালের ভাসমান বাজারের আড়তদার কমল হালদার জানান, এবার পেয়ারা আসছে কম। পাইকারি কেজি প্রতি ১২ টাকার বেশি দেয়া যাচ্ছে না। স্বরূপকাঠির আটঘর, কুরিয়ানার বাসিন্দা কায়সার হোসেন বলেন, পেয়ারা মোকামে ওঠা শুরু করলেও দাম তেমন একটা নেই। আমদানিও কম।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ বছর তার আওতাধীন ১৬টি গ্রামে প্রায় ৫০০ হেক্টর বাগানে দেশি পেয়ারা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৭ টন। অবশ্য গেল বছর এ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ থেকে ১১ টন। উৎপাদন কমে আসা প্রসঙ্গে কৃষি কর্মকর্তা আবুবকর বলেন, মার্চ মাসে যখন খরা দেখা দিয়েছিল, তখন ফুল ঝরে যায়। এ কারণে ফলন কমেছে। তাছাড়া প্রায় ১০ ভাগ পেয়ারায় অ্যানথ্রাক্সনোচ (ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দেশি পেয়ারার ফলন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ পেয়ারার বাগানে অন্যসব ফসল চাষ হচ্ছে। অনেক জায়গায় চাষিরা থাই পেয়ারার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কেননা থাই পেয়ারা লাভজনক। বর্তমানে দেশি পেয়ারা খুচরা বাজারে ২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু থাই পেয়ারা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এর পরও দেশি পেয়ারার স্বাদ বেশি হওয়ায় এটিকে ধরে রাখতে কৃষককে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিফাত সিকদার বলেন, এবার খরার কারণে পেয়ারার ফুল ঝরে গেছে। তাছাড়া ছিট পড়া রোগেও কিছুটা আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হেক্টর জমিতে এ রোগ আক্রমণ করেছে। তিনি বলেন, তার আওতাধীন ১৫ থেকে ১৭টি গ্রামে ৬৫২ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়। এর মধ্যে ৫২২ হেক্টরই চাষ হয় আটঘর কুরিয়ানা ইউনিয়নে। এ মৌসুমে প্রতি হেক্টর জমিতে ৮ হেক্টরের মতো পেয়ারা উৎপাদন হতে পারে। যদিও গেলবার এ উৎপাদনের পরিমাণ প্রতি হেক্টরে ৯ টন ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তিনি দাবি করেছেন, পেয়ারার উৎপাদন কম হওয়ার অন্যতম কারণ দাম না পাওয়ায় চাষিরা দেশি পেয়ারা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

mahmudullah-2

মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটে প্লে অফে খুলনা

ক্যাপ্টেন্স নক একেই বলে। বাঁচা-মরার ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে খুলনা টাইটান্সকে বিপিএলের প্লে অফ …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *