ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বিয়ের নৈতিক দায়বদ্ধতা

married

সামাজিক জীব হিসেবে প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সাম্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি আদর্শ সমাজ গড়া। এই দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যের সূচনা হয় ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি পরিবার গঠনের মাধ্যমে। সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধনের ভিত্তিতে গঠিত একটি পরিশীলিত পরিবার ইসলামি সমাজের কেন্দ্রবিন্দু। আর পরিবার গঠনে বিয়ে একজন মুসলমানের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কিছু মানুষের নিয়মবহির্ভূত একাধিক বিয়ে তার সাজানো পরিবারকে তছনছ করে দেয়, যা কারো কাম্য নয়।

ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব : মানবতার ধর্ম ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের একমাত্র বৈধ পন্থা হলো বিয়ে। বল্গাহীন, স্বেচ্ছাচারী জীবনের উচ্ছৃঙ্খলতা ও নোংরামির অভিশাপ থেকে সুরা করতেই ইসলাম বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছে। পরিবার গঠন, সংরণ ও বংশবিস্তারের জন্য বিয়ে ছাড়া আর কোনো বিধিসম্মত পথ নেই। এর মাধ্যমেই ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন পবিত্র ও কলুষমুক্ত হয়ে নৈতিকতার সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত হতে পারে। তাই ইসলাম সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করা ইসলামনিষিদ্ধ একটি ভর্ৎসনামূলক অপরাধ। কেননা বিয়ে কেবল ভোগ-বিলাসের জন্য নয়, বরং বিয়ে হলো প্রত্যেক নর-নারীর জীবনকে পূতঃপবিত্র, সুন্দর এবং সার্থক করে তুলতে পরো ও প্রত্যভাবে সহায়তা করে থাকে। বিয়ে প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিয়ে সম্পাদন করো’ (সূরা নূর : ৩২)। মহানবী সা: বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার যোগ্যতা রাখে, তাদের উচিত বিয়ে করা। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যে বিয়ের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত কাম ভাব দমনের জন্য রোজা রাখা’ (বুখারি, মুসলিম)।

ইসলামে একাধিক বিয়ে কাদের জন্য : সাধারণত ‘একাধিক বিয়ে’ বলতে একই স্বামীর একসাথে একাধিক স্ত্রী রাখাকে বুঝায়। সমাজবিজ্ঞানী হামুদাহ আবদ আল-আতি তার রচিত The Family Structure in Islam গ্রন্থে কিছু শর্তসাপেে ইসলাম যে পুরুষদের প্রয়োজনে একাধিক বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছে তার সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছেন
ব্যক্তিগত

ক. কোনো বিবাহিত পুরুষ অপর মহিলার সৌন্দর্যের প্রতি এতটা আকৃষ্ট হয়ে পড়ল যে, তাকে বিয়ে করতে চাইল। খ. প্রথম স্ত্রীর এমন শারীরিক বা অন্য সমস্যা দেখা দিলো যে, সে স্বামীর দৈহিক চাহিদা পূরণে অম হলো। গ. সাংস্কৃতিক কারণ, যেমন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের একাধিক স্ত্রী রাখার রীতি অন্য ব্যক্তিদের বহুবিয়ের দিকে প্রভাবিত করতে পারে। ঘ. হঠাৎ বিত্তশালী হয়ে যাওয়া ব্যক্তি গরিব স্ত্রীর পরিবর্তে ধনীর দুলালীকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক হলো।

জনসংখ্যাগত : যুদ্ধে অনেক পুরুষ নিহত হওয়ার ফলে অনেক মেয়ে অবিবাহিত থেকে যায়। সে অবস্থায় একজন পুরুষ নারীকে অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে রার্থে শান্তি প্রতিষ্ঠার ইচ্ছায় একাধিক মেয়েকে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে।

জৈবিক : ক. পুরুষের যৌনপ্রকৃতি তুলনামূলক একাধিক বিয়ের দিকে বেশি। সামাজিক : ক. কোনো কোনো সমাজে একাধিক বিয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা হয়। খ. কোনো কোনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্ত্রী বাড়ির কাজে প্রথম স্ত্রীর জন্য সহায়ক হয়। গ. যে সমাজে শিশুমৃত্যুর হার বেশি তাদের মধ্যেও একাধিক বিয়ের প্রবণতা ল করা যায়।

আবদ আল-আতি বলেন, ‘এসব কারণ পরস্পরে যুক্ত হয়ে অন্যান্য সামাজিক ফ্যাক্টর যেমন- ঐতিহ্য, নৈতিকতা, রীতি ও আইন ইত্যাদির’ সাথে মিশে একাধিক বিয়েকে বাস্তবতা দিয়েছে। একাধিক বিয়ে প্রসঙ্গে কুরআন : ইসলাম একাধিক বিয়ে প্রথা উদ্ভাবন বা চালু করেনি। এটা আগে থেকেই চালু ছিল বরং ইসলামই একমাত্র তৌহিদবাদী ধর্ম যা একাধিক বিয়েকে কিছু কঠোর শর্তারোপ করে সীমাবদ্ধ করেছে। ইসলামে এটা কোনো অত্যাবশ্যকীয় বা নির্দেশিত কাজ নয়, শুধু বিশেষ কিছু অবস্থার পরিপ্রেেিত সুযোগ মাত্র।

একাধিক বিয়ে প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশঙ্কা করো যে, সুবিচার করতে পারবে না; তবে একজনকে (বিয়ে করো)’ (সূরা নিসা : ৩)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘আল-কাশফ আত-তাফসির’ গ্রন্থকার বলেন, ‘যারা সন্দিহান যে আরেক বিয়ে না করলে তার দ্বারা ব্যভিচার সংগঠিত হতে পারে, তার জন্যই এ সুযোগ রাখা হয়েছে।’ এ আয়াতে আরো সতর্ক করা হয়েছে যে, যারা দ্বিতীয় বিয়ে করতে চায় তাদের অবশ্যই উভয় স্ত্রীর সাথে সমব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

একাধিক স্ত্রী গ্রহণে প্রয়োজন সমব্যবহার : বস্তুত ইসলাম তখনই একজন পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়, যখন সে প্রথম স্ত্রীসহ অন্য স্ত্রীদের সাথে সমব্যবহার করতে পারবে। কেউ যদি ভয় করে যে, সে একাধিক স্ত্রীর প্রতি সমতা রা করতে পারবে না, তখন তাকে কেবল একজন স্ত্রী নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। মহানবী সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুই স্ত্রীর একজনের প্রতি পপাতিত্ব করবে, সে হাশরের ময়দানে তার শরীরের একাংশ নিচু অবস্থায় হাজির হবে’ (মুসনাদে আহমদ)। এটি একটি সঙ্কেত যে, ওই ব্যক্তি অসাম্য ব্যবহারের জন্য ‘চিহ্নিত’ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হবে হাশরের ময়দানে। পাশ্চাত্যের বিখ্যাত দার্শনিক লিটনার তার ‘মহামদানিসম’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘অপরিমিত একাধিক বিয়ে প্রথাকে মহানবী সা: রুখে দিয়েছিলেন।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘মুহাম্মদ সা:-এর আইনের উৎসাহ কিন্তু স্পষ্টতই এক বিয়ের পইে।’

যে ব্যক্তি একাধিক বিয়ের চিন্তা করে তার এ দৃঢ়তা ও আস্থা থাকতে হবে যে, সে মানুষের পে সম্ভাব্য সর্বোচ্চপর্যায়ে সুবিচার করতে পারবে। সমব্যবহার বলতে বুঝায়, সব স্ত্রীকে এক মানের খাবার, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, সময়, বিনোদন এবং সহানুভূতি দিতে হবে। ভালোবাসা ও আবেগের েেত্র সাধ্যানুযায়ী সমতা রার চেষ্টা করতে হবে। বাস্তবিকপে একাধিক বিয়ের অনুমতি তখনই মিলবে, যখন ব্যক্তি সমতা রা করতে পারবে বলে দৃঢ়প্রত্যয়ী হবে। অন্যথায় একাধিক বিয়ের চিন্তা করাই হবে বোকামি। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কোনো একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না ও অপরকে ঝুলানো অবস্থায় রেখো না’ (সূরা নিসা : ১২৯)।

একাধিক বিয়ের নৈতিক দায় : ইসলাম প্রয়োজনে বহুবিয়ের অনুমতি দিলেও একে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বহুবিয়ের মধ্যে বেশ কিছু অসুবিধা পরিলতি হয়। যেমন-

ক. হিংসাবিদ্বেষ : কোনো মেয়েই তার স্বামীর ভালোবাসা, আকর্ষণ ও সম্পদে আরেকজনের ভাগ বসানো সহজে মেনে নিতে পারে না। ফলে হিংসাবিদ্বেষের জন্ম হতে পারে।

খ. অসমতা : ইসলাম কঠোরভাবে স্ত্রীদের মধ্যে ‘সমব্যবহার’ কথা বলেছে। এই সমতা রা করতে আর্থিক এবং অন্যান্য দিকে পুরুষ ভীষণ বেকায়দায় পড়ে এবং অনেকেই শেষ পর্যন্ত তা রা করতে পারেন না।

গ. অশান্তি : একই বাড়িতে একাধিক স্ত্রীর উপস্থিতি স্ত্রীদের মাঝে এবং স্বামী-স্ত্রীতে নিত্য নানা ঝগড়ার জন্ম দেয়। এসব ঝগড়াঝাটি বিভিন্ন স্ত্রীর সন্তানদেরও আক্রান্ত করে।

উপসংহার : কিছু সমস্যা সমাধানে ইসলাম সীমিত আকারে একাধিক বিয়ের সুযোগ দিয়েছে। এ সুযোগের অপব্যবহার রোধে ইসলামের সীমার মধ্যে আইনকে আরো কঠোর করতে ইসলামে কোনো বাধা নেই। বস্তুত ইসলামই একাধিক বিয়ে প্রথার ওপর কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। যা হচ্ছে, একাধিক স্ত্রীর ভরণপোষণের আর্থিক সামর্থ্য এবং সব স্ত্রীর প্রতি সমব্যবহার। সমব্যবহার অত্যন্ত কঠিন বিধায় একাধিক স্ত্রী গ্রহণ না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। মূলত মুসলিম আইনে বহুবিয়েকে অনুমোদন করা হলেও এর কঠিন শর্তাবলি বহুবিয়েকে নিরুৎসাহিত করেছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

নারীদের নাক, কান ছিদ্র করা : কী বলে ইসলাম

ইসলাম ডেস্ক: মুসলিম নারীদের নাক ও কানে ছিদ্র করে তাতে বাহারী অলংকার পরতে দেখা যায়।বিশেষ …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *