ঢাকা : ২৬ মার্চ, ২০১৭, রবিবার, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে পায়রা সমুদ্র বন্দরের

para


পদ্মা সেতুর পাথর নিয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দরে আসছে বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ফরচুন বার্ড। কাল রাতের কোনো এক সময়ে জাহাজটি ৫৩ হাজার টন পাথর নিয়ে রামনাবাদ চ্যানেলের বহির্নোঙরে পৌঁছবে। ওই পণ্য সোমবার থেকে খালাসের মধ্য দিয়ে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।

পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান জানান, রোববার রাতের কোনো এক সময়ে চীন থেকে পাথর নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ফরচুন বার্ড বন্দরের বর্হিনোঙরে পৌঁছাতে পারে। পণ্য পায়রা সমুদ্র বন্দরে খালাসের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর মাধ্যমে পায়রা সমুদ্র বন্দরে পণ্য খালাসের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি বিদেশি জাহাজ পণ্য নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, পণ্য খালাসের দিন থেকেই লাইটারেজ অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে নিরাপদ পণ্যাদি নদীপথে পরিবহনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। এমভি ফরচুন বার্ডের স্বত্বাধিকারী সিলেটের আমদানিকারক জালাল উদ্দিন বলেন, আমদানি করা পাথরগুলো মূলত ‘ক্রাসিং স্টোন’। এর বড় অংশই পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য চীন থেকে আনা হয়েছে।

পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বন্দরকে ঘিরে প্রকল্প এলাকায় এখনও চলছে বিরামহীন উন্নয়ন কার্যক্রম। অসংখ্য শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকল্প এলাকায় টার্মিনাল স্থাপন, সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম চালু, পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ, প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, নিরাপদ পানির সরবরাহে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা সদর কলাপাড়া থেকে সড়ক পথে রয়েছে দ্বিমুখী যোগাযোগ সুবিধা। দর্শনার্থীরও ভিড় জমছে পায়রাবন্দরে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান জানান, অন্যান্য বন্দরে জাহাজ চলাচলে যেমন জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করতে হয়, পায়রাবন্দরে এ ধরনের সমস্যা নেই। গভীরতা বেশি থাকায় ২৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচলের সুযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে রামনাবাদ মোহনা থেকে কাজল, তেঁতুলিয়া নদী হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত সমুদ্রের (নৌপথের) গভীরতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। কাউয়ারচরে বাতিঘর স্থাপনের কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। সাগর মোহনা থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত নদীতে সিগন্যালিং বয়া এবং কিনারে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছর লালুয়ার চারিপাড়াসহ আশপাশ এলাকার প্রায় সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্তের পথে। এ প্রকল্পের জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, মূল বন্দরের কাজ শুরু করতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই বন্দর এলাকা এক্সক্লুসিভ জোনে পরিণত হবে। এছাড়াও নৌবাহিনীকে আধুনিক এবং ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে শিগগিরই সাবমেরিন সংযোজিত হতে যাচ্ছে। পায়রা সমুদ্র বন্দরের পাশে স্থাপিত হচ্ছে আধুনিক নৌঘাঁটি। শের-ই-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের নামানুসারে প্রায় ৫০০ একর জমির ওপর স্থাপিত এ ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বানৌজা শের-ই-বাংলা’।

স্থানীয়রা মনে করেন, পায়রা সমুদ্র বন্দর চালু হলে দক্ষিণের অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। বিদেশিরা এ অঞ্চলে বিনোয়োগ করবে। বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল বলেন, পায়রা সমুদ্র বন্দর এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য ফেরাবে। অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। তাছাড়া নৌঘাঁটির মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সুন্দরবনের অপরাধ দমন সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ২০১৮ সালে পুরোদমে চালু হবে এ বন্দরের কার্যক্রম।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

নব-নির্বাচিত রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে সংরক্ষিত মহিলা এমপি ও পৌর মেয়রের শুভেচ্ছা বিনিময়

মো.রোমান ইসলাম রাজ আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় নব-নির্বাচিত রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের বরন করে নেন জাতীয় …