Mountain View

পর্যটন নগরীতে বাড়ছে নার্সারির জনপ্রিয়তা

প্রকাশিতঃ জুলাই ৩০, ২০১৬ at ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ

garden


পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরে নার্সারির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বনজ, ফলদ ও শোভাবর্ধনকারী প্রতিটি গাছের চারা থেকে মিলছে টাকা আর টাকা। এতে সচ্ছলতা ফিরেছে অনেকের। কঠোর পরিশ্রমের ফলে লাখপতিও বনে গেছেন অনেকে। নার্সারির আয় থেকে কিনেছেন জমি, গড়ে তুলছেন বাড়িও। স্বল্প মূলধন এবং অল্প জায়গায় অধিক লাভের সুযোগে অনেকেই উদ্যোগ নিচ্ছে নার্সারি গড়ার। এতে সংসারে অর্থ জোগানের পাশাপাশি নিজের পুষ্টির চাহিদাও মেটানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

শহরের রোজ গার্ডেন নার্সারির উদ্যোক্তা মফিজুর রহমান প্রায় ৩০ বছর আগে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শহীদ স্মরণির পাশে অল্প জমিতে বিভিন্ন ফলজ ও ফুলের নার্সারি গড়ে তুলেন। নার্সারিতে প্রথমে দেশি আম, কাঁঠাল, পেঁপে, আমড়া, লেবু, শরিফা, পেয়ারা, লিচু, জলপাই, বেল, গোলাপ, চাম্পাসহ বিভিন্ন শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা প্যাকেট ও টবে বিক্রি করা হয়। এছাড়া নার্সারিতে বনজ, ফলজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী প্রায় দেড় হাজার প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করেন। নিজের পরিশ্রমে এসব চারা পরিচর্যা করে নার্সারি গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে শহরের প্রায় তিনটি জায়গায় কয়েক একরের নার্সারি রয়েছে তার। পড়ালেখার পাশাপাশি তার দুই ছেলেও দেখভাল করছেন এসব নার্সারি। বর্তমানে তার নার্সারিতে পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন। প্রতি মাসে খরচ বাবদ দেড় লাখ টাকা বাদ দিয়ে নার্সারি থেকে আয়  হচ্ছে লাখ টাকা। নার্সারির আয় দিয়েই শহরের বাহারছড়া এলাকায় জমি কিনে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করছেন মফিজ। তার নার্সারিতে ২০ বছর ধরে কাজ করেন বাবুল নামে এক শ্রমিক। এখন তিনি নিজেই একটি নার্সারি গড়ে তুলেছেন। বাবুল বলেন, এক মাস আগে তিনি সদর উপজেলার বাংলাবাজারের জুমছড়িতে ‘সাকিব নার্সারি’ গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা ভাড়ায় ১০ বছরের জন্য এককানি জমি নেন। ওই জমিতে এখন পুরোদমে নার্সারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলায় তার নার্সারির চার লাখ টাকার চারাও বিক্রি হয়েছে।  কক্সবাজার কোর্টহিল নার্সারির উদ্যোক্তা গোলাম আলী বলেন, স্বল্প পুঁজি খাটিয়ে যে কেউ নার্সারি করতে পারেন। একটু পরিশ্রম করলেই হয়। প্রথমে পরিশ্রম একটু বেশি হলেও পরে লাভ আর লাভ। প্রতিটি চারা থেকে টাকা আসে। তিনি আরও জানান, প্রায় নার্সারিতে আকার ভেদে বারমাসি, রুপালি, ফজলি, ন্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙ্গা আম গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়ান ও থাই জামরুল ৩০০ টাকা, দেশি লেবু, কালজাম, আমড়া, দেশি পেয়ারা, কাজী পেয়ারা, চাইনিজ পেয়ারা, বারমাসি আমড়া, কাটলেবু ও পাতিলেবু বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৫৯ টাকা পর্যন্ত। সপেদা, জাম্বুরা, শরিফা, নাগপুরী কমলা, আঙুর, শ্রীলংকান মাল্টা, ডালিম, আপেল, কুল ও আতার চারা বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

এছাড়া নার্সারিতে শোভাবর্ধনকারী চারার মধ্যে টব জাতীয় বেলি ৪০০ টাকা, হাসনাহেনা ৩০০, গন্ধরাজ ৪০০, কামিনী ৫০০, কাট গোলাপ ৬০০, বাগান বিলাস ৪০০, ডবল স্টার ৩০০, চাইনিজ পাম্প ৪০০, লিলি ৪০০ ও পাকিস্তানি নার্গিস পাম্প ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আ ক ম শাহরিয়ার জানান, পর্যটন শহর কক্সবাজারে বাণিজ্যিকভাবে ২০টির অধিক নার্সারি রয়েছে। তার মধ্যে গত দুই বছরে গড়ে উঠেছে অর্ধেক। উদ্যোক্তারা সবাই এখন সচ্ছল। প্রতিটি চারা থেকে টাকা আসায় অনেকেই লাখপতি। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই বাড়ির ছাদে, উঠানে, পরিত্যক্ত জমিতে এবং শখের বশে খালি জায়গায় করছেন নার্সারি। শহর ছাড়া আট উপজেলায় প্রায় হাজারো নার্সারি রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহযোগিতাও করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও