Mountain View

ব্রেট লি হওয়ার ‘স্বপ্ন’ পূরনের পথে

প্রকাশিতঃ জুলাই ৩০, ২০১৬ at ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ

iba


পেসার হান্ট কর্মসূচিতে দ্রুততম বোলার হওয়ার পরই স্বপ্নটার কথা জানিয়েছিলেন ইবাদত হোসেন চৌধুরী। হতে চান ব্রেট লির মতোগতিময় বোলার। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে কতটা এগোলেন তিনি?

১৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) স্কোয়াডে সুযোগ পেয়ে ইবাদত পা দিয়েছেন স্বপ্নযাত্রার প্রথম ধাপে। দলের অন্যদের মতো লিস্ট ‘এ’ কিংবা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। এমনকি ভাঙেননি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সিঁড়িও। এইচপিতে সুযোগ মিলেছে ফাস্ট বোলার অন্বেষণ কর্মসূচিতে প্রথম হওয়ার সনদ পেয়েই। অবশ্য স্কোয়াডে থাকা আরেক পেসার নূর আলম সাদ্দামও এসেছেন পেসার হান্ট থেকে। তবে তিনি গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন ব্রাদার্সের হয়ে, ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট।

ইবাদতের সুযোগ পাওয়াটা ব্যতিক্রম বলতে হবে আরও একটি কারণে। চাকরি করেন বিমানবাহিনীতে। চাকরির ফাঁকেই ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া। বছর দুয়েক আগে একবার সুযোগ পেয়েছিলেন জাতীয় দলের নেটে। কদিন বোলিংয়ের পর নজর কাড়েন হিথ স্ট্রিকের। বাংলাদেশের সাবেক এই পেস বোলিং কোচ তাঁকে নিয়মিত আসতেও বলেছিলেন। কিন্তু তখন অনুমতি মেলেনি বিমানবাহিনী থেকে। তবে তাঁকে পেসার হান্টে আবার অংশ নিতে দেয় বিমানবাহিনী। নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাই তাঁর অশেষ কৃতজ্ঞতা, ‘বিমানবাহিনী প্রধান আবু এসরারসহ শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে ভীষণ সাহায্য করেছেন। স্কোয়াড্রন লিডার রাজিব ও হাফিজ স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালেই নয়।’

পেসার হান্টে সর্বোচ্চ গতিতে (ঘণ্টায় ১৩৯.৯ কিলোমিটার) বোলিং করা ইবাদত পরে পেস বোলিং কোচ সরওয়ার ইমরানের অধীনে সুযোগ পান দুই সপ্তাহ কাজ করার। এরপর একটা বিরতি। তবে বসে থাকেননি, ‘আমার দুটি সমস্যা ছিল। এইচপিতে সুযোগ পাওয়ার আগে ইমরান স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী চাকরির ফাঁকে ফাঁকে কাজ করেছি সমস্যাগুলো নিয়ে।’

এইচপিতে যোগ দেওয়ার পর শুধু গতি নয়, আরও নতুন কিছু যোগ করার চেষ্টা করছেন ইবাদত, ‘এইচপি শুরুর প্রথম কদিন ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি। এরপর শুরু হয়েছে বোলিং। আমার বোলিং ভিডিও করে বাবুল স্যার (মিজানুর রহমান) বলেছেন, তেমন কোনো সমস্যা নেই। তা ছাড়া নতুন বলে গতি আরও বাড়ানো কিংবা পুরোনো বলে রিভার্স সুইংটা কীভাবে নিখুঁত করা যায়, এসব নিয়ে কাজ করেছি।’

এইচপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রতিনিয়ত ইবাদত সঞ্চয় করছেন নতুন অভিজ্ঞতা। আগে কখনো এভাবে অনুশীলন করা কিংবা থাকা হয়নি একাডেমিতে। অভিজ্ঞতা যত বাড়ছে, আত্মবিশ্বাস যেন ততই বাড়ছে মৌলভীবাজার থেকে উঠে আসা ২২ বছর বয়সী এই পেসারের, ‘জাতীয় দল কিংবা জাতীয় দলের আশপাশে থাকা অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলছি। সবাই নানাভাবে সহায়তা করছে। অনেক কিছু শিখছি।’

শেখার এই পর্বটা শেষ করে ইবাদত খেলতে চান সেপ্টেম্বরে শুরু বিসিএলে। এভাবেই ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে চান সামনে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View