মায়ের ভেঙে দেয়া প্রেম ৩২ বছর পর ফিরিয়ে দিলেন দুই মেয়ে

প্রকাশিতঃ জুলাই ৩০, ২০১৬ at ৭:২১ পূর্বাহ্ণ

মায়ের কিশোরীবেলার ভেঙে দেয়া প্রেমকে ফিরিয়ে দিলেন দুই মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সেই প্রেমিকের সঙ্গেই বিয়ে দিলেন মেয়েরা। ফলে প্রেমকে ভেঙ্গে দেয়ার ৩২ বছর পর মা ফিরে পেলেন ভালোবাসার মানুষটিকে । ততো দিনে বয়স বেড়েছে দুজনের। কৈশোর আর তারুণ্যের সেই শরীর হারিয়ে গেছে। কিন্তু তাতে কী, ভালোবাসা তো আর হারিয়ে যায়নি। যদিও দুটি মনের মধ্যে জমেছিল কষ্ট আর অভিমান।
ঘটনা ১৯৮৪ সালের। দুই মেয়ের মা অনিথা তখন দশম শ্রেণীতে পড়তেন। আর বাবা ছিলেন ভারতীয় সেনার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। কোচিং সেন্টারে পড়তে গিয়ে অনিথার পরিচয় হয় বিক্রমনের সঙ্গে। আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দুজনের। এরপর প্রেম। কিন্তু অনিথার সেই প্রেম বেশি দিন চাপা থাকেনি। কারণ এটি বাড়িতে জানাজানি হয়ে যায়। তার পরই যত গোলমালের সূত্রপাত। মিলিটারি বাবার রক্তচক্ষুর সামনে অনিথা হার মানতে বাধ্য হন।
দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই পাত্র দেখেশুনে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। মদ্যপ স্বামীর সঙ্গে ঘর সংসার করতে করতেই জন্ম হয় দুই মেয়ে আথিরা আর আশিলির। আর এভাবেই চলছিল সংসার। কিন্তু ছোট মেয়ের জন্মের পর অত্যধিক মদ্যপানেই অসুস্থ হয়ে মারা যান স্বামী। আর কঠিন লড়াই শুরু হল অনিথার। একা একা দুই মেয়েকে মানুষ করার লড়াই।
তবে সন্তানের কাছে বন্ধুর মতোই ছিলেন অনিথা।  বড় হয়ে ওঠা মেয়েদের কাছে নিজের জীবনের সব হাসি-আনন্দ, দুঃখ-কষ্টের গল্প বলেছেন তিনি। কিছুই লুকোননি সন্তানদের কাছে। বলেছিলেন বিক্রমনের সঙ্গে ভালবাসার কথাও। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর বড় মেয়ে আথিরা ঠিক করে ফেলেছিলেন, খুঁজে বের করবেন বিক্রমনকে।
সেই বিক্রমনকে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ঘেঁটে ঘেঁটে সত্যিই একদিন বের করে ফেললেন বড় মেয়ে। তারপর একদিন মা’র সঙ্গে বিক্রমনকে দেখা করিয়ে দিলেন। কিন্তু অনিথার দুই মেয়ে শুধু দেখা করিয়েই থেমে থাকেননি। দুজনকে বিয়ে করিয়ে দিলেন। গত ২১ জুলাই ছিল অনিথা আর বিক্রমনের  ৩২ বছরের লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার অবসানের দিন। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কেরলের কোল্লামের।
তবে ৩২ বছর আগে কেড়ে নেয়া প্রেমের সেই যন্ত্রণাটা আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে গেলেও,  বিক্রমন ভুলতে পারেননি সেই কিশোরী মেয়েটাকে। তাই অভিমানে বিয়েও করেননি। বরং নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন কোল্লাম থেকে অনেক দূরে। কিন্তু শেষপর্যন্ত ফিরে পেলেন হারানো সেই প্রেমকে, সেই ভালোবাসাকে।

এ সম্পর্কিত আরও