সম্ভাবনাময় খাত ফুল চাষ

প্রকাশিতঃ জুলাই ৩০, ২০১৬ at ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

ful


আধুনিক যুগে নগরায়ণ ও সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে-বিদেশে ফুলের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফুল এখন আর শুধু সৌন্দর্য্য ও শৌখিনতার সামগ্রী নয়, এটি এখন দেশের অর্থনীতি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি উপকরণও। বিশ্বের অনেক দেশেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের চাষ হচ্ছে। নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি দেশ ফুল রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাবে অর্থকরি ফসল হিসেবে ফুল উৎপাদন ও বিপণন করা হচ্ছে। আমাদের দেশের মাটি ও জলবায়ু ফুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাছাড়া উৎপাদিত ফুলের আকার, রঙ, গন্ধ, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য্য অপেক্ষাকৃত উন্নত। তাই বিদেশে বাংলাদেশের ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ ২০টি জেলায় বর্তমানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ফুলের চাষাবাদ করা হচ্ছে। এসব জায়গায় বিভিন্ন মৌসুমের নানা প্রজাতির ফুল উৎপাদন করা হয়। সাধারণত রফতানির কথা মাথায় রেখে গোলাপ, রজনীগন্ধা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, কসমস, কার্নেশান, গ্লাডিওলাস, অর্কিড ইত্যাদি ফুল ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়।

একটু চেষ্টা করলেই এ দেশের উৎপাদিত ফুল বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। তবে এর জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা খুবই প্রয়োজন। তাছাড়া ফুল চাষী ও রফতানিকারকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, ফুল সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত হিমাগার স্থাপন, ফুল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, প্রণোদনা প্রদান, বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প প্রণয়ন করতে হবে।

কাঁচা ফুল রফতানি আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা পাল্টে দিতে পারে। তুলে ধরতে পারে এদেশকে মডেল হিসেবে বাকি বিশ্বের সামনে। তবে সত্যিই এ খাতের বিকাশ ঘটাতে হলে প্রয়োজন কৌশল নির্ধারণ করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। সেই সঙ্গে প্রয়োজন পর্যাপ্ত নজরদারি ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও। যথাযথ দেখভাল করা হলে ভবিষ্যতে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করতে পারে এ খাতটি।

এ সম্পর্কিত আরও