ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ডিজেল যাবে বেসরকারি খাতে,আরও দু’টি এলএনজি হচ্ছে

mostafaa

পায়রা ও কক্সবাজারের মহেশখালীতে আরও দু’টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এতে এক্সিলারেট এনার্জি প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে, যা বাংলাদেশে শেভরনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হতে যাচ্ছে।এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনাল নির্মাণের পর বাংলাদেশ তা ১৫ বছর ব্যবহারের জন্য চুক্তি করেছে। প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার এলএনজি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন টার্মিনালটি থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।

নগরীর শেরেবাংলা নগরে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, রামপাল, মাতারবাড়ী, পেকুয়া ও গজারিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি খাত আরও উন্নত হবে। ডিজেল আমদানি বেসরকারি খাতকে দিয়ে দেবো। আমরা গ্যাস আমদানিতে বিশেষ নজর দেবো, যেজন্য এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে’।

মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাত স্বচ্ছন্দেই ডিজেল আমদানি করতে পারবে। ৪ হাজার ৯শ’ ৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গল পয়েন্ট মরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন প্রকল্পের’ অনুমোদন দিয়েছি। এটি বাস্তবায়িত হলে ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যে প্রকল্পের খরচ উঠে আসবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে বন্দর থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে তেল সরবরাহের বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন’।

‘বর্তমানে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের একটি জাহাজ খালাস করতে প্রায় ১১ দিন সময় লাগে। কারণ, যেসব বড় জাহাজে করে তেল আসে, তা কর্ণফুলী নদীতে প্রবেশ করতে পারে না। ওই জাহাজ গভীর সমুদ্রে রেখে লাইটারেজ ভেসেল নিয়ে বন্দরে আনা হয়। এতে ব্যয় ও সময় দু’টিই অনেক বেশি হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর মাত্র দু’দিনে একটি জাহাজ খালাস করা সম্ভব হবে। লাইটারেজ থেকে যে তেল চুরি হতো, সেটা বন্ধ হবে। বছরে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে’।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি(এডিপি) বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কোনো কোনো মন্ত্রণালয় শতভাগের ওপরে চলে গেছে। এ বছর যে ঘাটতি আছে তা হলো পিএ (প্রকল্প সাহায্য)। বিদেশি অনুদান ও প্রকল্প সাহায্যের টাকা সেভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এ বছর নতুন পরিকল্পনা নিয়েছি।

আগামী সপ্তাহে সচিবদের নিয়ে বসবো, যেন প্রকল্পের টাকা বছর শেষে শতভাগ বাস্তবায়ন করা যায়। প্রকল্প সাহায্যের টাকা খরচের নিয়ম-নীতি শেখানোর লক্ষ্যে পিডিদের (প্রকল্প পরিচালক) প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করবো। তবে সরকারি অর্থায়নের (জিওবি) অর্থ খরচের পরিমাণ ভালো।’।

‘কোথায় কি সমস্যা আছে সেগুলো চিহ্নিত করবো। মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মিটিং করবো। যে সমস্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে সাহায্যের পরিমাণ বেশি, সেসব মন্ত্রণালয় ভিজিট করবো’।

মন্ত্রীর আশাবাদ, ‘জিডিপি (মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে আরও ওপরে উঠবে। এটা ৭ দশমিক ১০ থেকে ৭ দশমিক ১২ শতাংশও হতে পারে। রফতানি বাণিজ্য ও এডিপি বাস্তবায়ন ভালো হয়েছে বলেই প্রবৃদ্ধি বাড়বে। ব্যক্তি বিনিয়োগও অনেক বেড়েছে’।

‘বাংলাদেশে ব্যাংকে প্রাক্কলিত ঋণ সঞ্চালনের পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এটা বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ’।

মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই তদারকি করছেন। প্রতিটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রতিমাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি মেগা প্রকল্পেরই কাজ সুন্দরভাবে চলছে, বাস্তবায়নের গতিও ভালো’।

‘এবার বড় প্রকল্প আসবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্প। চলতি বছরেই এটা অনুমোদন দিয়ে দেবো। প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করা হচ্ছে। এরপরেই ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি করবো। পদ্মাসেতু হয়ে গেলে এ অঞ্চলে (গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর) আরও একটি অর্থনৈতিক হাব হবে। পদ্মাসেতুর পাড় মিনি ঢাকার চেয়ে বড় হওয়ায় এটি আরও একটি ঢাকা হবে’।

‘এ অঞ্চলটি ভারতের পাশেই। সুতরাং কলকাতাসহ ভারতের নানা অঞ্চলে বাণিজ্যিক কার্যক্রমও করতে পারবো’।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

shahid-minar-0-696x418

শহীদ মিনারের এ কেমন অবমাননা?

বহু আবেগ আর ত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পায় বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ১৯৫২ সালের ভাষা …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *